- মেছোবিড়াল একটি নিশাচর প্রজাতি। এরা মিঠা ও লবণাক্ত জলাভূমি থেকে মাছ ধরে বেঁচে থাকে। অন্ধ্র প্রদেশের গোদাবরী বদ্বীপের ম্যানগ্রোভ বনে এদের দেখা যায়। ছবি: প্রণব তামারপল্লি/উইকিমিডিয়া কমন্স।
- রাতে পশ্চিমবঙ্গের একটি পুকুরের ধারে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে মেছোবিড়াল। ছবি: শান্তনু প্রসাদ।
- হাওড়া জেলার কালবংশ গ্রামে একজন প্রাণিপ্রেমী প্রকৌশলী শুরু করেছেন ইকো-ট্যুরিজম উদ্যোগ। একটি হোম-স্টে তৈরি করেছেন তিনি। যেখানে পর্যটকরা মেছোবিড়াল দেখার অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। ছবি: শান্তনু প্রসাদ।
- প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ খাঁড়িতে স্থাপন করা কাঁকড়ার বাক্সে চলছে কাদা কাঁকড়া চাষের পরীক্ষা। এর লক্ষ্য জীবিকা ও সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য আনা। ছবি: Fishing Cat Conservancy.
চলতি বছরের গোড়ার দিকে, উপকূলীয় অন্ধ্র প্রদেশের করিঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের কর্মীরা প্রথমবারের মতো মেছোবিড়ালের সংখ্যা গণনা করেন। দুর্লভ এই প্রজাতি সম্পর্কে এতদিন খুব সামান্য ও অসম্পূর্ণ তথ্যই পাওয়া যেত।
গোদাবরী বদ্বীপের ৩২০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে থাকা সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনে এই শুমারি করা হয়। বিভাগের বন কর্মকর্তা অনন্ত শঙ্কর জানান, দেশের বাঘ শুমারি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো তারা তথ্য বিশ্লেষণের অপেক্ষায় আছেন বলে জানান তিনি।
এই উদ্যোগ সফল হলে, এটি হবে বিশ্বের সবচেয়ে কম গবেষণা করা এবং ভারতে বহুমুখী হুমকির মুখে থাকা প্রজাতিটি সম্পর্কে প্রথম বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ।

মাঝারি আকারের বন্য বিড়াল প্রজাতিটি মেছোবিড়াল (Prionailurus viverrinus) নামে পারিচিত। এই নামটি তারা পেয়েছে তাদের খাদ্যাভ্যাসের কারণে। সাধারন বিড়ালের সাথে এর অন্যতম পার্থক্য হলো, এটি জলের সঙ্গে দিব্যি মানিয়ে নিয়েছে। এরা ভালো সাঁতার কাটতে পারে এবং জল ও কাদায় স্বছন্দ্যে চলাচল করতে পারে।
মাছ ধরার অভিনব কৌশল রয়েছে এ প্রজাতির। এরা জলাশয়ের কিনারায় বসে থাবা দিয়ে জলের পৃষ্ঠে টোকা দেয়, যাতে মনে হয় পোকামাকড় নড়ছে। এতে কৌতূহলী মাছ ওপরে আসে, আর তখনই বিড়ালটি সেটি ধরে ফেলে।
মিঠা পানির হ্রদ থেকে শুরু করে লোনা জলের ম্যানগ্রোভ বন — সব জায়গায়ই এরা থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক জলাভূমিতেই এরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে।
জলাভূমির নিশাচর
ভারতে এই প্রজাতির দেখা পাওয়া গেছে রাজস্থানের জলাভূমি, ভরতপুর পাখি অভয়ারণ্য, আগ্রার যমুনা প্লাবনভূমি, তরাই অঞ্চলের দুধওয়া টাইগার রিজার্ভ ও জিম করবেট জাতীয় উদ্যানে। পশ্চিমবঙ্গের নিম্ন গাঙ্গেয় অঞ্চল ও সুন্দরবনেও এদের দেখা মেলে।
এছাড়া, উত্তর-পূর্বের নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, ওড়িশার চিলিকা হ্রদ ও ভিতরকণিকা উদ্যান, ঝাড়খণ্ড, এবং অন্ধ্র প্রদেশের গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদীর বদ্বীপেও এদের দেখা গেছে।
দুঃখজনক বিষয় হলো, এত বিস্তৃত উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এই প্রজাতি নিয়ে গবেষণা খুবই কম হয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক শেখর কোলিপাকা। ২০০৬ সালে করিঙ্গায় মেছোবিড়ালের উপস্থিতি তিনিই প্রথম রেকর্ড করেন।
তিনি বলেন, “বিড়ালের বাস্তুতন্ত্র সম্পর্কে আমরা প্রায় কিছুই জানি না।”
২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে, পূর্ব গোদাবরী জলাভূমি রক্ষার জন্য UNDP প্রকল্পের অংশ হিসেবে Wildlife Institute of India (WII) একটি বড় ক্যামেরা ট্র্যাপ জরিপ চালায়। এতে তিন বছরে ৫৪টি পৃথক মেছোবিড়াল শনাক্ত হয়।
গবেষক গিরিধর মল্লা এই সময় ১৫টি বিড়ালের ম্যানগ্রোভ বনে চলাচলের ধরণ, পারস্পরিক সম্পর্ক, মানুষের সঙ্গে (বিশেষ করে জেলে ও কাঁকড়া শিকারী) মিথস্ক্রিয়া ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করেন।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ২০১৮ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপিং অনুশীলন একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হবে। এ বিষয়ে করিঙ্গার ডিএফও শঙ্কর বলেন, “আশা করি, আমরা প্রক্রিয়াটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং এটিকে অভয়ারণ্যের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারব।”
তবে করিঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, উপকূলীয় অন্ধ্রের একটি ছোট অংশ মাত্র। উপকূলীয় অন্ধ্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয় গোদাবরী ও কৃষ্ণা নদী। নদী দুটি উপকূলের বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন তৈরি করেছে। এই অরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনেও মেছোবিড়ালের সন্ধান পেয়েছেন গবেষক ও সংরক্ষণবিদরা।
২০১৪ সালে Eastern Ghats Wildlife Society এর মূর্তি কান্তিমহান্তি ও Fishing Cat Conservancy এর পরিচালক অশ্বিন নাইডু, কৃষ্ণা বদ্বীপের বাইরে ম্যানগ্রোভ বনে একাধিক মেছোবিড়ালের উপস্থিতি দেখতে পান। ভারতের দক্ষিণতম অঞ্চলে এই প্রজাতির উপস্থিতির প্রমাণ ছিল এটি।
কান্তিমহান্তি বর্তমানে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব ঘাট পর্বতমালার সংলগ্ন বিশাখাপত্তনম ও বিজয়নগরম জেলায় জরিপ করছেন।
এমন আরও কিছু জরিপ দ্রুতই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০১২ সালে মেছোবিড়ালকে রাজ্য প্রাণী ঘোষণা করা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও ভারতের প্রাণিবিদ্যা জরিপ বিভাগ চলতি বছর রাজ্যজুড়ে প্রজাতিটির উপস্থিতি যাচাই করতে প্রথম জরিপ শুরু করেছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ জীববৈচিত্র্য বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই জরিপে বাদ দেওয়া হয়েছে সংরক্ষিত এলাকাগুলো।
চলমান দুই বছরের এই জরিপে বিশেষজ্ঞরা শুরুতে যেসব জায়গায় মেছোবিড়ালের ‘সম্ভাব্য উপস্থিতি’ দেখা গেছে, সেসব এলাকার দিকে নজর দিচ্ছেন।
গবেষক গৌতম সাহা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক। তিনি বলেন, “প্রথমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে, কলেজের ছাত্রদের মোতায়েন করে এবং জীববৈচিত্র্য রেজিস্টার দেখে মেছোবিড়ালের সম্ভাব্য আবাসস্থল চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
জরিপের অন্যতম সদস্য এনজিও নিউজের (NEWS) অজন্তা দে বলেন, “অন্য প্রাণী যেমন গন্ধগোকুলের উপস্থিতিও সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়। ২ বর্গ কিলোমিটার গ্রিড তৈরি করে সেই এলাকায় স্ক্যাট, পাগমার্ক ও ক্যামেরা ট্র্যাপ বসিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যামেরা ট্র্যাপগুলো বেশিরভাগই সুরক্ষিত এলাকার বাইরে, তাই এগুলো সঠিক স্থানে রাখতে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ জরুরি।”
তবে অজন্তা দে এবং অধ্যাপক গৌতম সাহা জানান, প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড প্রজাতিটির জন্য অন্যতম বড় হুমকি। মেছোবিড়াল মাঝে মাঝে পুকুরের মাছ বা হাঁস-মুরগি ধরে খায়, এতে গ্রামবাসীরা রেগে গিয়ে এদের মেরে ফেলে।
মাঝেমধ্যে ভুল পরিচয়ের জন্যও এরা হত্যার সম্মুখীন হয়।
অজন্তা দে বলেন, “অনেক সময় ভুলবশত তাদের গন্ধগোকুল বা বাঘ শাবক ভেবে হত্যা করা হয়। রাতে বাঘের মতো ঘুরে বেড়ানোর কারণেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এদের আক্রমণ করা হয়। সেইসঙ্গে জলাভূমিতে এদের আবাসস্থল অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আবার কখনো কখনো চামড়ার জন্যও এদের শিকার করা হয়।”
জরিপে পরিচয়ের অমিলও একটি জটিলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “অনেক সময় গ্রামবাসী মেছোবিড়ালকে গন্ধগোকুল বা ভোঁদড় ভেবে ধরে ফেলে কিংবা মেরে ফেলে। তাই শিক্ষার্থীরা প্রাণীদের ছবি নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষকে দুটোর পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করে। অন্যদিকে মেছোবিড়াল নিশাচর বলে তাদের দেখা ও ট্র্যাক করা আরও কঠিন।”
গবেষণার সীমাবদ্ধতা
তবে কোলিপাকা মনে করেন, এই জরিপগুলো বিড়ালের উপস্থিতি বোঝাতে সাহায্য করলেও তার বাস্তুতন্ত্র বা আচরণ সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য দেয় না।

দেশজুড়ে গবেষকরা বলছেন, বাঘ, সিংহ, চিতাবাঘের মতো বড় প্রজাতির জন্য অনেক অর্থ ও মনোযোগ দেওয়া হলেও ছোট প্রজাতিগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়।
অশ্বিন নাইডু ৩৮টি বন্য বিড়াল প্রজাতির ওপর প্রকাশিত গবেষণার সংখ্যা তুলনা করে দেখেন— যত বড় প্রজাতি, গবেষণাও তত বেশি। আকার ছোট হলে গবেষণার সংখ্যাও কমে যায়।
বহুমুখী হুমকি
যদিও প্রতিবেশগত তথ্য অল্প, সবাই একমত যে প্রজাতিটি এখন হুমকির মুখে। পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রের সংরক্ষণবিদরা বলেছেন, জলাভূমি ধ্বংসই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা।
গিরিধর মল্লা বলেন, “যদি আমার হাতে ক্ষমতা থাকত, আমি জলাশয়ের অনিয়ন্ত্রিত সম্প্রসারণ বন্ধ করতাম, কারণ এটি ম্যানগ্রোভ বনের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।”
Human and Environment Alliance League এর পরিচালক তিয়াসা আধ্যা বলেন, “ভারতে জলাভূমির প্রতি শ্রদ্ধার অভাব আরেকটি বড় কারণ। উদাহরণস্বরূপ, ২০১০ সালের ওয়েস্টল্যান্ড অ্যাটলাসে সরকার জলাভূমিকে ‘বর্জ্যভূমি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।”
তিনি আরও জানান, ভারত সরকারের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় কমান্ড এরিয়া ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামে, জলাবদ্ধ এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য অনুরোধ করেছে। অন্যদিকে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ, জাতীয় কৃষি বিজ্ঞান একাডেমি ‘বর্জ্যভূমি’কে ‘উৎপাদনশীল জমিতে’ রূপান্তর করতে চায়।
গোষ্ঠীভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রম
এই পরিস্থিতিতে আধ্যা ও তার সহকর্মীরা হাওড়া জেলায় সচেতনতামূলক ও স্থানীয় গোষ্ঠীনির্ভর সংরক্ষণ প্রকল্প চালাচ্ছেন। জেলার ১৪টি ব্লকে মেছোবিড়াল সুরক্ষা কমিটি গঠিত হয়েছে, যেখানে গ্রামবাসী ও পঞ্চায়েত সদস্যরা যুক্ত রয়েছেন।
তারা ‘প্রতিবেশীদের জানো’ নামে একটি কর্মসূচি চালাচ্ছেন, যেখানে স্থানীয়দের হাতে ক্যামেরা ট্র্যাপিং এর সরঞ্জাম দেওয়া হয়। তারা নিজেদের আশপাশের বিড়ালদের ছবি তোলে, নাম দেয় ও পর্যবেক্ষণ করে। এতে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের এক ধরনের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তথ্য সংগ্রহ সহজ হয়।
এছাড়া স্থানীয় একটি এনজিও মেছোবিড়ালের শিকারে গবাদি পশু হারানো গ্রামবাসীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সারদা গ্রামের বাসিন্দা জয়দেব প্রধান, সারদা প্রসাদ তীর্থ জনকল্যায়ণ সমিতি নামে একটি এনজিও পরিচালনা করেন। ‘সিড গোট ফান্ড’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন তিনি। এখান থেকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া কিছু পরিবার গর্ভবতী ছাগল গ্রহণ করেছিল। সেই ছাগল থেকে জন্ম নেওয়া দুটি ছাগলের মধ্যে একটি ফেরত দিতে হত ফান্ডের তহবিলে। যখনই পরিবারগুলোর কেউ মেছোবিড়ালের শিকারে একটি ছাগল হারাতেন, তারা সেই ফান্ড থেকে একটি ছাগল পেত।
আধ্যা বলেন, “এই উদ্যোগে মানুষের মধ্যে মালিকানার অনুভূতি বেড়েছে। এই প্রকল্পগুলো আমতা ২ ব্লকের ৩০ বর্গকিলোমিটার জলাভূমি এলাকাজুড়ে চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা ছিল মালিকানা বৃদ্ধির একটি বৃহত্তর লক্ষ্য পূরণের উপায়।”
বনজীবীদের জন্য বিকল্প জীবিকা
এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকাকালীন, আমতা ব্লকের একটি ছোট কোণে ইকোট্যুরিজম নামে মেছোবিড়াল সম্পর্কিত আরেকটি প্রকল্প এগিয়ে চলেছে।

কালবংশ গ্রামে শান্তনু প্রসাদ নামে এক প্রকৌশলী ‘বাঘরোলের বাসা’ নামে একটি হোম-স্টে চালু করেছেন। রাতে পর্যটকদের স্থানীয় টোটো গাড়িতে করে ১০-১২টি গ্রাম ঘুরিয়ে মেছোবিড়াল দেখান তিনি।
তিনি বলেন, “আমরা প্রায় প্রতি রাতেই তাদের দেখতে পাই।”
প্রসাদের মতে, স্থানীয় মাছের পুকুরের আশেপাশে এসব বিড়াল বেশি দেখা যায়, তাই মানুষের সঙ্গে এদের সংঘাতও ঘটে। তিনি পর্যটনের মাধ্যমে স্থানীয়দের আয়ের সুযোগ তৈরি করে, প্রতিশোধ প্রবণতা কমাতে চান। বর্তমানে কোলিপাকা ও প্রসাদ একসঙ্গে এই অঞ্চল জুড়ে প্রায় ৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় মেছোবিড়ালের উপস্থিতি নিয়ে জরিপ করছেন এবং স্থানীয় অংশীদার তৈরি করছেন যারা ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।
করিঙ্গার বাইরে ম্যানগ্রোভ বনে বর্তমানে স্থানীয় জেলে জনগোষ্ঠীর শিশুদের সঙ্গে কাজ করছেন, গিরিধর মল্লা।
তিনি মনে করেন, এই শিশুরাই ভবিষ্যতে মেছোবিড়াল সংরক্ষণের দূত হতে পারে।
অন্যদিকে Fishing Cat Conservancy এর সদস্যরা এমন প্রকল্পে কাজ করছেন, যা ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ ও বিড়ালের আবাসস্থল রক্ষা করবে।
ধারনা করা যায়, চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো এমন একটি জীবিকা নির্বাহের বিকল্প খুঁজে বের করা যেখানে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করার প্রয়োজন হবে না।

Fishing Cat Conservancy এর মাঠ পর্যাযয়ের প্রধান সংরক্ষণবিদ প্রণব তামারপল্লি উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলে মাছ চাষ মূলত অবৈধ ছিল। কারণ আইনত ম্যানগ্রোভ কাটা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু তারা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সরাসরি আক্রমণ করতে অনিচ্ছুক। একারণে তারা এই অঞ্চলের জন্য আরও লাভজনক টেকসই জীবিকা নির্বাহের বিকল্প খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সাধারণত জেলেরা বনে গিয়ে কাঁকড়া ধরে, যা সময়সাপেক্ষ ও অনির্ভরযোগ্য। Fishing Cat Conservancy ম্যানগ্রোভ চ্যানেলে কাঁকড়ার বাক্স বসিয়ে পরীক্ষা করছে, যাতে কাঁকড়ারা প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হয় এবং বন ধ্বংস করারও প্রয়োজন না হয়। যদি পরীক্ষাটি সফল হয়, এই পদ্ধতি জীবিকার নতুন সুযোগ তৈরি দেবে স্থানীয়দেরকে। দলটি পরিত্যক্ত চিংড়ি খামারেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করে ম্যানগ্রোভ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা করছে।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে, মঙ্গাবে ইন্ডিয়া-তে, ২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর।