- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস এবং নদীর জলপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে ভারতীয় সুন্দরবন এবং অন্যান্য এশীয় ব-দ্বীপে ক্রমশই বাড়ছে লবণাক্ততার পরিমাণ। এতে করে দিন দিন বিপন্ন হয়ে উঠছে এসব অঞ্চলের লাখ লাখ ধান চাষীর জীবিকা।
- অতিরিক্ত লবণ, উদ্ভিদের অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধিকে হ্রাস করতে পারে। তাই সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের সাহায্য করার জন্য লবণ-সহনশীল ধানের জাত তৈরি করছেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।
- অবশ্য জলবায়ু ও উন্নয়নের চাপ সামলে কৃষকদের জীবিকা টিকিয়ে রাখতে পানি সংরক্ষণ এবং মাটি ব্যবস্থাপনাও জরুরি।
এক দশক আগে, কলকাতার সামান্য দক্ষিণে সমুদ্রঘেরা সুন্দরবনে নিজের ছোট জমিতে বছরে একবার করে ফসল ফলাতেন মনিরুল সাহা। চল্লিশোর্ধ্ব এই কৃষক, গ্রীষ্মকালীন ধান যা বর্ষার আগে বুনতেন এবং বর্ষা শেষে ফসল কাটতেন। একই বছর সেই জমিতে দ্বিতীয়বার ফসল ফলানোর চেষ্টা ছিল প্রায় অনিশ্চিত কিংবা একেবারেই অসম্ভব। কারণ বর্ষার পরের মাসগুলোতে জল বাষ্পীভূত হওয়ার সাথে সাথে এই উপকূলীয় ভূমির উপরিভাগে আরও বেশি লবণ উঠে আসত। এতে জমি লবণাক্ত হয়ে উঠত এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জীবিকা নির্বাহের জন্য দিনমজুর হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতাও রয়েছে সাহার।
পরবর্তীতে Central Soil Salinity Research Institute (CSSRI))-এর বিজ্ঞানীদের সহায়তায় সাহা নতুন কৃষি পদ্ধতি গ্রহণ করেন। এতে উন্নত লবণ-সহনশীল জাতের ধান চাষ এবং জল-সাশ্রয়ী কৌশল অবলম্বন করা হয়। এই নতুন ব্যবস্থা তাকে তার জমিতে প্রথম ফসল উত্তোলনের পর, দ্বিতীয় ফসল ফলাতে সাহায্য করে।
তিনি বলেন, “আগে আমি কিছুই সঞ্চয় করতে পারতাম না। এখন আমি বছরে এক লাখ রুপি সঞ্চয় করছি।“
পূর্ব ভারত ও বাংলাদেশ জুড়ে থাকা সুন্দরবন, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপের ম্যানগ্রোভ-আচ্ছাদিত প্রান্ত। এরকম নিচু উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত কারণে তলিয়ে যাওয়া ও পৌনঃপুনিক ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এই অঞ্চলে আঘাত হানে সাইক্লোন আমফান। তবে জলবায়ু ঝুঁকি শুধু আকস্মিক ধ্বংস বা ধীরে ধীরে ডুবে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, জলোচ্ছ্বাস এবং উপকূলীয় ভাঙনের মতো সংকটের কারণেও কূপ, কৃষিজমি এবং প্রতিবেশে লবণাক্ততার প্রবেশের ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত লবণ পানিকে পান করার অযোগ্য করে তুলতে পারে, মাটি নষ্ট করে দিতে পারে এবং বীজের অঙ্কুরোদগমে বাধা দিতে পারে।

উপকূলীয় জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এশিয়ার ব-দ্বীপগুলোতে বসবাসকারী লাখ লাখ প্রান্তিক ধান চাষীর জীবিকা বিপন্ন করে তোলে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আনুমানিক ১৬ থেকে ২০ মিলিয়ন হেক্টর উপকূলীয় জমি এরই মধ্যে লবণাক্ততা দ্বারা প্রভাবিত। ভারতে, এই সংখ্যাটি ৩ মিলিয়ন হেক্টর, যা মূলত পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীভূত। গবেষণা থেকে জানা যায়, লবণাক্ততা একটি নির্দিষ্ট সীমা পার হয়ে প্রতি একক বৃদ্ধির জন্য ধানের ফলন ১২ শতাংশ কমে যায়।
সংকট মোকাবিলায় CSSRI এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের সাহায্য করার জন্য গত কয়েক বছরে, উন্নত কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি নতুন লবণ-সহনশীল ধানের জাত তৈরি এবং বিতরণের বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগগুলোর মধ্যে International Rice Research Institute (IRRI), সবচেয়ে বড় কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সংস্থাটি আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ‘চাপ সহনশীল ধান’ (Stress Tolerant Rice) নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করেছিল।
সংস্থাটির প্রিন্সিপাল আবদেলবাগী এম ইসমাইলের মতে, এই বহুজাতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে গবেষণার পরিকাঠামোর উন্নতি হয়েছে, গবেষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণ, খরা এবং বন্যার চাপ-সহনশীল ধানের প্রায় ১ মিলিয়ন টন বীজ উৎপাদন এবং আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার ৩০ মিলিয়নেরও বেশি কৃষকের কাছে বিতরণে সহায়তা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “সময়ের সাথে সাথে সমস্যার তীব্রতা বাড়ার কারণে বর্তমান জাতগুলোর চেয়েও উচ্চতর সহনশীলতা রয়েছে এমন নতুন জাতের প্রয়োজন।“
এদিকে ভারতের CSSRI গত দশকে, ১২০টি চাপ-সহনশীল ধানের জাত তৈরি করেছে। এদের মধ্যে ৪০টি লবণের প্রতি উচ্চতর প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের ক্যানিং শহরের CSSRI এর আঞ্চলিক ফিল্ড স্টেশনের প্রধান ধীমান বর্মন বলেন, “কিছু জাত বর্ষার ফসলের জন্য উপযুক্ত, আবার কিছু শুষ্ক মৌসুমের জন্য। এছাড়াও জমি এবং চালের স্বাদ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের লবণ-সহনশীল বীজ রয়েছে। লবণাক্ততার পাশাপাশি খরার মতো অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেরে প্রভাবে সৃষ্ট নানামুখী চাপ সহ্য করতে পারবে, এমন জাতের প্রয়োজনীয়তাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

International Rice Research Institute (IRRI) এর বিজ্ঞানী ইসমাইলি একমত পোষণ করে বলেছেন, “লবণাক্ততা সাধারণত অন্যান্য সমস্যার সাথে সহাবস্থান করে। এর সমাধান হলো, জলবায়ু-সহনশীল এমন জাত তৈরি করা যা এই সমস্ত পরিস্থিতি সহ্য করতে পারে। কারণ পরবর্তী মরসুমে কী ঘটবে তা আগেই বলা সম্ভব নয়।“
তবে এই বীজগুলো তৈরি করা সহজ নয়। প্রক্রিয়াটিতে সময় এবং অর্থের প্রয়োজন হয়। লবণাক্ততার প্রতি ধানের সহনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে জিনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অবশ্য কিছু গবেষক জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এটিকে ভাঙার চেষ্টা করছেন। বাজারে বাণিজ্যিক বীজচাষীদের সিন্ডিকেটের ভেতর বাজারে নতুন বীজ নিয়ে আসাও আরেকটি অন্তরায়।
জটিল মানবীয় ও প্রাকৃতিক চাপ সন্নিবেশিত ভূ-প্রকৃতিতে প্রযুক্তির দ্বারা কতটুকু অর্জন করা যেতে পারে তারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এ বিষয়ে বর্মন বলেন, “মাঠ পর্যায়ে অনেক সমস্যা রয়েছে।“
জলপ্রবাহ হ্রাস এবং লবণাক্ততা
ভারতীয় সুন্দরবনে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক থেকে দুই মিটার উপরে অবস্থিত জমিতে ৪০ লাখ মানুষ বাস করে। ঘন ঘন বন্যা, মিঠা পানির অভাব এবং অম্লীয় মাটির কারণে এখানে চাষাবাদ সব সময়ই কঠিন ছিল। বেশিরভাগ ধান চাষীই ছোট জমির মালিক। এখানকার মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশেরও বেশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।
ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এটি শুধুমাত্র সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঝড়ের কারণে ঘটছে, তা নয়। উজানে বাঁধ এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক চাপের কারণে এই অঞ্চলে বিস্তৃত নদীগুলোতে মিঠা পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
ফেব্রুয়ারি মাসে, কলকাতা থেকে ক্যানিং যাওয়ার পথে এই চাপগুলো স্পষ্ট ছিল। প্রাথমিকভাবে এই ভূ-প্রকৃতিতে বড় আকারের নোনা জলের চিংড়ি চাষের খামার দেখা যায়, যা পার্শ্ববর্তী জমিতে লবণ ছড়িয়ে দেয় । এছাড়া এখানে ইটভাটারও দেখা মেলে, যেগুলো কৃষি উপযোগী মাটি নষ্ট করে দেয়। এই পথ ধরে যাবার সময় কয়েক ঝলকে মাতলা নদীর দেখা মেলে। নদীটি একসময় গঙ্গা থেকে সাগরে জল বহন করত কিন্তু এখন মূলত বর্ষা ও জোয়ারের জলে পুষ্ট। একটি গবেষণা অনুসারে, ১৯৮৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে মাতলা নদীর লবণাক্ততা প্রায় ৩২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যানিং শহরের নদীটিকে পলি মিশ্রিত বাদামী ফিতার মতো দেখতে লাগে।

ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার প্রভাব এরইমধ্যে এখানকার প্রতিবেশে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখানকার ‘সুন্দরী’ গাছসহ অন্যান্য বেশকিছু ম্যানগ্রোভ প্রজাতি হ্রাস পাচ্ছে। ২০০৯ সালে যখন ঘূর্ণিঝড় আইলা ৪ মিটার জলোচ্ছ্বাস নিয়ে উপকূলে আঘাত হানে, তখন কৃষিকাজে এর সম্ভাব্য প্রভাব স্পষ্ট হয়েছিল। সেই প্লাবনের ফলে জমিতে লবণের একটি আস্তরণ তৈরি হয়। হাজার হাজার মানুষ তাদের ক্ষেত ছেড়ে কাজ খুঁজতে কলকাতা ও অন্যান্য শহরে পাড়ি দেয়।
গোসাবা দ্বীপের রাঙাবেলিয়া গ্রামের কৃষক সুজিত মণ্ডল জানান, দশ বছর পরেও তার জমি পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। আইলার আগে তার সবচেয়ে লাভজনক ফসল ছিল কাঁচামরিচ, যা তিনি এখনও ফলাতে পারেন না।
ঘূর্ণিঝড় আইলার পরে, সাগর দ্বীপের অমলেশ মিশ্রের মতো স্থানীয় কৃষক-কর্মীরা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ধানের জাতগুলোকে পুনরায় ব্যবহার শুরু করেন। সবুজ বিপ্লব-উত্তর সময়ে এ জাতগুলো বাদ পড়ে গিয়েছিল। এই জাতগুলোর ফলন লবণাক্ত মাটিতেও ভালো হয়। অথচ বাণিজ্যিক বীজ এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছিল। CSSRI ৬৩টি ঐতিহ্যবাহী জাত সংগ্রহ করেছে। এগুলো থেকে কয়েকটি তারা নতুন জাত তৈরির জন্য ব্যবহার করেছে।
প্রবীণ বিজ্ঞানী এস কে সারেঙ্গি বলেন, “ঐতিহ্যবাহী জাতগুলো খুব সহনশীল, তবে ফলন কম। আর এসব শস্যের আকৃতি ও গঠন অনেক সময় ক্রেতারা পছন্দ করেন না।“
তাই সারেঙ্গির মতো বিজ্ঞানীদের কাছে এখন মূল সংকট হলো এমন বীজ তৈরি করা যা বিবিধ চাহিদা পূরণে সক্ষম।
বিবিধ চাহিদা
গোসাবা গ্রামের কৃষকরা জানান, বর্ষাকালে যখন ক্ষেত চার মাস জলে ডুবে থাকে, তখন তারা দীর্ঘমেয়াদী ধানের জাত পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে ফলন এবং গঠন তাদের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বর্ষার ধান নিজেদের খাওয়ার জন্য। কিন্তু শুষ্ক মরসুমে, তারা উচ্চ-ফলনশীল লবণ-সহনশীল জাত চান, যা দীর্ঘ এবং মিহি দানা উৎপন্ন করে এবং বাজারে ভালো বিক্রি হয়। লালিমিনিকিট (Laliminikit) নামে একটি জাত এখানে জনপ্রিয়। তবে মাটি এবং পানির পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে ভিন্ন হতে পারে। যেমন, গোসাবাতে কৃষকদের ধানের দ্বিতীয় ফসল বোনার জন্য পর্যাপ্ত মিঠা পানি রয়েছে, পার্শ্ববর্তী বালি দ্বীপে তা নেই।
সারেঙ্গি বলেন, “এই ধানের জাতগুলোর অতিরিক্ত সার বা কীটনাশক যেন প্রয়োজন না হয় তা জরুরি। কারণ কৃষকদের এত খরচ করার সামর্থ্য নেই।“
একারণে CSSRI এবং গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য Tagore Society for Rural Development এর মতো এনজিওগুলো উন্নত বীজের পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, ড্রিপ সেচ, মাটি ব্যবস্থাপনা এবং ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াতে প্রচার চালাচ্ছে।
রাঙাবেলিয়ার কৃষক মণ্ডল শুষ্ক মৌসুমে ধানের সাথে মসুর কলাই বা লেথরা চাষ শুরু করেছেন। সেচের জন্য জল সংরক্ষণের জন্য তাঁর একটি ছোট পুকুর আছে এবং বাড়তি আয়ের জন্য তিনি মিঠা পানির মাছ চাষ করেন। মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে কিছু ক্ষেত্রে শুকনো খড়ের মালচিং (mulching) দেখা যায়। এছাড়াও CSSRI বাঁধ ও নালা তৈরির মাধ্যমে খাড়া-জমি গঠনের কৌশল সম্পর্কে প্রচারণা চালাচ্ছে। এটি নালা নিষ্কাশনে সাহায্য করবে এবং কম লবণাক্ত বাঁধগুলো শাকসবজি চাষের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

CSSRI এর বর্মন বলেন, “উন্নত বীজের পাশাপাশি উন্নত চাষ পদ্ধতি এই লবণাক্ত জমিতে ফসলের উৎপাদনশীলতা প্রতি হেক্টরে আধা টন বাড়াতে পারে। অন্তত কিছু কৃষকের ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ফলাফল এনেছে। ক্যানিং-এর কাছে কৃষক পঞ্চানন সাহা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার আয় প্রায় দ্বিগুণ হতে দেখেছেন। তিনি ফলনকে বছরে একটি ফসল থেকে তিনটি ফসলে উন্নীত করেছেন। এর আগে আয় বাড়ানোর জন্য বছরের বেশ কয়েক মাস কলকাতায় থেকে শ্রমিকের কাজ করতেন। এখন আর তাকে শহরে যেতে হয় না।
নিবন্ধটি পুলিৎজার সেন্টারের সহায়তায় তৈরি করা হয়েছে।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গাবে ইন্ডিয়া-তে, ২০২০ সালের ১৪ জুলাই।