- ভারতের গঙ্গা নদীতে জেলেদের ফেলে দেওয়া জালের কারণে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে রয়েছে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন, মিঠা পানির কচ্ছপ এবং ভোঁদড় প্রজাতি ।
- একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের কাছাকাছি পরিত্যক্ত জালের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। গবেষকদের মতে এসব স্থানে মাছ ধরার পরিমাণ বেশি, তাই ফেলে দেওয়া জালও এখানে বেশি পাওয়া গেছে। আবার উজানের দিক থেকে ভেসে আসা জালও মোহনার কাছাকাছি জমা হয়।
- পুরনো মাছ ধরার জাল পুনর্ব্যবহার করলে পরিবেশে প্লাস্টিক দূষণ কমানো সম্ভব এবং এতে জেলেদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
গবেষণা বলছে, আন্তঃসীমান্ত নদী গঙ্গায় মাছ ধরার পরিত্যক্ত জালে আটকা পড়ার কারণে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বিপন্ন গাঙ্গেয় ডলফিন, বিলুপ্তপ্রায় মিঠা পানির কচ্ছপ এবং ভোঁদড় প্রজাতির বন্যপ্রাণী।
‘সি টু সোর্স’ অভিযানের বিজ্ঞানীরা, গঙ্গার উজানে হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা পর্যন্ত মোট নয়টি নমুনা সংগ্রহের স্থানে মাছ ধরার পরিত্যক্ত সরঞ্জামের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন। তারা দেখেছেন, কীভাবে এই পরিত্যক্ত ও হারানো মাছ ধরার সরঞ্জাম গাঙ্গেয় বন্যপ্রাণীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
গবেষণাটির গবেষক, University of Exeter, Cornwall এর সারাহ নেলমস মঙ্গাবে-ইন্ডিয়াকে বলেন, “মাছ ধরার মূল সরঞ্জাম ও পরিত্যক্ত সরঞ্জাম- দুটোই জলজ প্রাণীকে একইভাবে প্রভাবিত করে। তবে আমরা মূল সরঞ্জামে আটকে পড়া (যাকে ‘বাই-ক্যাচ’ বলা হয়) সংক্রান্ত ক্ষতি সম্পর্কে তুলনামূলক বেশি জানি। কারণ জেলেরা জাল তোলার সময় প্রায়ই আটকে পড়া প্রাণীদের দেখতে পান।”
এই গবেষণায় মূলত প্রাণীদের জালে জড়িয়ে পড়া বা ‘এনট্যাংগলমেন্ট’ এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নেলমস জানান, প্লাস্টিক বর্জ্য– যেমন পুরনো জাল প্রাণীদের মারাত্মক আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। কেবল নির্দিষ্ট প্রাণীর ক্ষেত্রে নয়, সব ধরনের জলজ প্রাণীর জন্য হুমকিস্বরুপ। এতে বিপন্ন প্রজাতির সংখ্যাও কমে যেতে পারে।”
নদীর তীর জরিপের সময়, Wildlife Institute of India এর তালিকাভুক্ত ২১ টি বিপন্ন প্রজাতির ওপর জরিপ চালানো হয়েছিল। এ সময় বাংলাদেশে ভোলা, চাঁদপুর, রাজবাড়ী এবং ভারতে সাহেবগঞ্জ, পাটনা, বারাণসী, কান্নাউজ, অনুপশহর ও ঋষিকেশ—এই নয়টি স্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়।
এ জরিপে মাছ ধরার পরিত্যক্ত সরঞ্জামে আটকে পড়ে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তিন-ডোরাকাটা খোলসযুক্ত কচ্ছপ (Batagur dhongoka), গাঙ্গেয় ডলফিন (Platanista gangetica gangetica), কালো দাগযুক্ত কচ্ছপ (Geoclemys hamiltonii), বাটাগুর বাস্কা (Batagur baska) এবং মসৃণ চামড়ার ভোঁদড় (Lutrogale perspicilata) ।
নেলমস জানান, পরিত্যক্ত সরঞ্জামগুলোর কোনোরকম নজরদারি করা হয় না বলে এগুলো সহজেই অনেক দূরে চলে যায়। তাই এগুলো কীভাবে প্রাণীদের জীবনকে প্রভাবিত করে, মানুষ প্রায়ই তা দেখতে পায় না। যে কারণে ক্ষতির পরিমাণও কম বিবেচিত হয়।

বিশ্বে যে ১৪টি মহাদেশীয় নদী প্লাস্টিক বর্জ্যের মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত, গঙ্গা (ভারতে গঙ্গা এবং বাংলাদেশে পদ্মা নামে পরিচিত) তাদের মধ্যে অন্যতম। বিশ্বব্যাপী বর্জ্যের এক-চতুর্থাংশ ফেলা হয় নদীটিতে। প্রতি বছর প্রায় ০ দশমিক ১২ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক এই নদী দিয়ে সমুদ্রে মিশে যায়। ফলাফলস্বরুপ, গঙ্গা তালিকাভুক্ত হয়েছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্লাস্টিক দূষণকারী নদী হিসেবে।
গবেষকরা নদীর তীরে জাল, দড়ি, ভাসমান সরঞ্জাম ও অন্যান্য বর্জ্যের প্রাচুর্য ও বৈশিষ্ট্য রেকর্ড করেন। পাশাপাশি জেলেদের সঙ্গে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করেন, কেন এসব সরঞ্জাম নদীতে ফেলা হয়।
নারী বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযান ছিল বিশ্বের প্রথম প্রচেষ্টা, যা সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রমাণ সংগ্রহ করে দেখিয়েছে- কীভাবে নদী থেকে সমুদ্রে প্লাস্টিক প্রবাহিত হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় পরিত্যক্ত জালের পরিমাণ বেশি। অনুমিত কারণ হিসেবে, সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে মাছ ধরার পরিমাণ বেশি হওয়া এবং ফেলে দেওয়া জাল ও সরঞ্জাম পানির স্রোতে ভেসে নিচের দিকে চলে আসাকে চিহ্নিত করা হয়।
নদী এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী প্রজাতির ওপর প্লাস্টিকের প্রভাব কী, তা বোঝার বিষয়ে ক্রমবর্ধমান সচেতনতার মধ্যে এই গবেষণাটি করা হয়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরে সামুদ্রিক প্লাস্টিক বর্জ্যের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের প্রচার প্রকল্প (CounterMEASURE II) বাস্তবায়ন করছে, The United Nations Environment Programme (UNEP) এর এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আঞ্চলিক কার্যালয়। প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো মেকং, গঙ্গা এবং শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমারের নির্বাচিত কিছু নদীতে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও নীতি উন্নয়নে কাজ করা।
Parties to the Convention on Migratory Species (CMS) জানিয়েছে, এর সদস্য দেশগুলো পরিযায়ী প্রজাতিদের রক্ষা করতে কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভারতে অনুষ্ঠিত কপ-১৩ সভায় বিজ্ঞানভিত্তিক আরও গবেষণার আহ্বান জানিয়েছে।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ভূতের জাল হিসেবে পরিচিত ভেসে আসা পরিত্যক্ত জাল কেবল একটি সামুদ্রিক সমস্যা নয় বরং তা মিঠা পানির জলজ প্রাণীর আবাসস্থলকেও দূষিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কলম্বিয়া নদী (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) থেকে ৩৩টি হারিয়ে যাওয়া কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা সেসব জালে ১২৬টি সাদা স্টারজন (Acipenser transmontanus) আটকা পড়েছিল। এছাড়াও গবেষণাটিতে ওহ্রিড হ্রদ (ম্যাসেডোনিয়া এবং আলবেনিয়া) থেকে উদ্ধার করা পরিত্যক্ত জালে আটকা পড়ে মারা যাওয়া ১১৬টি মাছ এবং চারটি পাখির কথা জানা যায়।
২ হাজার ৫২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গা নদী, ভারতের পাঁচটি রাজ্য ও সমগ্র অববাহিকায় ১১টি রাজ্যকে সংযুক্ত করেছে। এসব অঞ্চলে প্রায় ৬২৫ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও, বিংশ শতাব্দী থেকে মানবসৃষ্ট দূষণের কারণে নদীটির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
গঙ্গা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অভ্যন্তরীণ মৎস্যক্ষেত্র। অথচ এই খাত থেকে উৎপন্ন বর্জ্য নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। নদী থেকে সমুদ্রে বর্জ্য সরঞ্জাম কীভাবে চলে যায়, সে সম্পর্কেও তেমন কোনো তথ্য নেই।
গবেষকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতি চিহ্নিত করা হলে সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কর্মসূচি তৈরি করা সহজ হবে।
পরিত্যক্ত জালের পুনর্ব্যবহার
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতি এক থেকে ছয় মাস অন্তর জাল বদলান এবং পুরোনো জাল নদীতে ফেলে দেন। সাহেবগঞ্জ, রাজবাড়ী ও চাঁদপুরে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।
বেশিরভাগ জাল প্লাস্টিকের হওয়ায় এগুলো সহজে পচে না এবং দীর্ঘ সময় ধরে মৃত প্রাণীদের আটকে রাখে। নেলমস জানান, ইতিবাচক দিক হলো প্রায় ৫০ শতাংশ জাল নাইলন–৬ দিয়ে তৈরি, যা পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও মূল্যবান। তাই তারা একটি জাল পুনর্ব্যবহার প্রকল্প শুরু করার পরিকল্পনা করছেন, বিশেষ করে যেসব এলাকায় জাল ফেলার প্রবণতা বেশি।
তিনি আরও বলেন, “ফিলিপাইন ও ক্যামেরুনে ‘নেট–ওয়ার্কস’ নামে এমন একটি প্রকল্প সফলভাবে চালু হয়েছে, যা পরে ‘কোস্ট–৪সি’ সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। এতে স্থানীয়রা পুরোনো জাল সংগ্রহ করে পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে কার্পেট টাইলসের মতো পণ্য তৈরি করছে। ফলে একদিকে প্লাস্টিক দূষণ কমছে, অন্যদিকে আয়ের উৎসও তৈরি হচ্ছে।
এ সম্পর্কে গাঙ্গেয় ডলফিন বিষয়ক গবেষক,ভারতীয় জীববিজ্ঞানী রবীন্দ্র কুমার সিনহা গবেষণাটির প্রশংসা করেছেন। কারণ এতে পরিত্যক্ত মাছ ধরার সরঞ্জামের সাথে সম্পর্কিত অপ্রচলিত জীববৈচিত্র্যের হুমকি তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি মঙ্গাবে-ইন্ডিয়াকে বলেন, “আগে জেলেরা তুলার সুতা দিয়ে জাল তৈরি করত, যা প্রাণীরা ছিঁড়ে ফেলতে পারত। প্লাস্টিক জাল এত শক্ত যে প্রাণীরা এর থেকে মুক্ত হতে পারে না। তাই এখনই প্লাস্টিক জালের ব্যবহার কমানো ও এর পুনর্ব্যবহার বাড়ানো দরকার।”
ভারতের Turtle Survival Alliance এর পরিচালক শৈলেন্দ্র সিং বলেন, “নাইলনের কারেন্ট জালের সহজলভ্যতা সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। এই জাল বাজেয়াপ্ত করলেও তা জেলেদের আর্থিকভাবে প্রভাবিত করে না। কারণ, তারা জানে যে তুলার জালের তুলনায় এটি সহজলভ্য এবং দামে সস্তা।”
তিনি মঙ্গাবে-ইন্ডিয়াকে আরও বলেন, “এই জালের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব উপাদান তৈরি করতে হবে, যা প্রাণীবান্ধব হবে এবং জেলেদেরও পর্যাপ্ত মাছ ধরার সুযোগ করে দেবে।”

সংরক্ষিত এলাকার বাইরের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক জাল
শৈলেন্দ্র সিং জানান, শুধু সংরক্ষিত এলাকাতেই নয়, নদীর বাইরের অংশেও পরিত্যক্ত জালের তদারকি জরুরি।
তিনি বলেন, “নদী একটি লিনিয়ার সিস্টেম, যেখানে জালের প্রভাব দ্রুত ছড়ায়।”
নেলমসও বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ সীমানা মানে না। সংরক্ষিত এলাকায় সংবেদনশীল প্রজাতির উপস্থিতি থাকায় এসব এলাকা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।”
গঙ্গা নদীর তীরে ১৫টি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে কচ্ছপ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও বিক্রমশীলা গাঙ্গেয় ডলফিন অভয়ারণ্য উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় গঙ্গার ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় ৫৫টি স্থানে মাইক্রোপ্লাস্টিকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এতে ৭২ শতাংশ পলির নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
গবেষণাটির সহ–গবেষক এবং “সি টু সোর্স” অভিযানের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী বলেন, “মৎস্য ব্যবস্থাপনা ও নিষেধাজ্ঞা, এলাকা অনুযায়ী ভিন্ন হওয়ায় সরঞ্জাম ফেলার ধরণেও পার্থক্য দেখা যায়। গবেষকদের মতে, মৎস্য ব্যবস্থাপনায় বিধিনিষেধের পরিমাণ এবং প্রয়োগ বাংলাদেশ এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে ভিন্ন। বাংলাদেশ ও ভারতে মনোফিলামেন্ট ফিক্সড কারেন্ট জাল এবং মশারি জাল অবৈধ বা নিষিদ্ধ, কিন্তু নদীতীর জরিপে দেখা গেছে যে জেলেরা এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মেনে চলছেন না।”
রবীন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘National Mission for Clean Ganga’ প্লাস্টিক দূষণ কমাতে কাজ করছে, তবে বাস্তবায়নে আরও জোর দেওয়া দরকার। নদীর চারপাশে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব এবং তাদের সংরক্ষণ কীভাবে মানুষের কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত, সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। ১৯৮০–এর দশকে যখন আমি প্রজাতি নিয়ে কাজ শুরু করি, তখন গাঙ্গেয় ডলফিন সম্পর্কে খুব কম সচেতনতা বিদ্যমান ছিল। বেশিরভাগ মানুষই বলতেন, এটি শুশুক মাছ।”
কৌশলের বিস্তৃত প্রয়োগ
গাওসিয়া চৌধুরী মনে করেন, গঙ্গা–পদ্মা ব্যবস্থার মতো আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর সমস্যার সমাধানে দুই দেশের সহযোগিতা জরুরি। তিনি বলেন, “ভারতে ‘গঙ্গা প্রহরী’ উদ্যোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও জেলেদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এ ধারণা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের ইলিশ সংরক্ষণ নীতির মতো কিছু সফল কৌশল গ্রহণ করতে পারে ভারত।”
Wildlife Institute of India এর রুচি বাদোলা জানান, “এই অভিযানটি প্রকল্পের আর্থ-সামাজিক এবং শিক্ষাগত উপাদানের জন্য প্রহরীদের সহায়তা গ্রহণ করেছিল। প্রায় এক হাজার স্থানীয় সদস্য নিয়ে গঠিত এই দলটি গঙ্গা অববাহিকার বিভিন্ন অঞ্চলে সংরক্ষণ কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। প্রহরীরা স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ ও আচরণ পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনগণের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”
গাওয়াসিয়া চৌধুরী বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ কমাতে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আরও সহযোগিতামূলক সমাধান–ভিত্তিক গবেষণার নকশা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা উচিত। কারণ উভয় দেশই একই জলজ ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত।”
ব্যানার ছবি: গবেষণায় দেখা যায়, সমুদ্রের কাছাকাছি এলাকায় পরিত্যক্ত জালের পরিমাণ বেশি। অনুমিত কারণ হিসেবে, সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলে মাছ ধরার পরিমাণ বেশি হওয়া এবং ফেলে দেওয়া জাল ও সরঞ্জাম পানির স্রোতে ভেসে নিচের দিকে চলে আসাকে চিহ্নিত করা হয়। ছবি: Heather Koldeway.
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে, মঙ্গাবে ইন্ডিয়া–তে, ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর।