- চা-বাগান ও পরিবেশ উপযোগী নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের চা-বাগানগুলোতে।
- এসব বাগানে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে জনপ্রিয় সৌরশক্তি। আর নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন বাগানের খরচ কমে অন্যদিকে কমে, গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ।
- অ্যাগ্রিভোলটাইকস, অর্থাৎ একই জমিতে কৃষিকাজ ও সৌর প্যানেল এক সঙ্গে ব্যবহার করার পদ্ধতি। এটি চা-বাগানেও প্রয়োগের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
- তবে চা-বাগানে সৌর ব্যবস্থা বসানোর সময়, বন্যপ্রাণীর চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করার বিষয়টি আমলে নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
নবায়নযোগ্য শক্তি এখন অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জনপ্রিয় উপায়। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছে। জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক গ্রিড বিদ্যুৎ সরবরাহে নানা সমস্যার প্রেক্ষাপটে, কম খরচে উৎপাদন চালিয়ে যেতে উত্তর-পূর্ব ভারতের চা-বাগানগুলোতে সৌর শক্তির ব্যবহার নিয়ে শুরু হয়েছে পরীক্ষা-নীরিক্ষা।
সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের চা-বাগানগুলোতে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের বড় সুযোগ রয়েছে। সমীক্ষায় আসাম ও উত্তরবঙ্গের চারটি করে চা-বাগান এবং সাতটি চা-প্রক্রিয়াজাতকরন কারখানার তথ্য নেওয়া হয়। বাগানের ভেতরে বড় সৌর প্যানেল বসালে চা গাছের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে না বলে মত দিয়েছে বেশিরভাগ বাগান সংশ্লিষ্টরা।
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র বসাতে অনেক বেশি খরচ লাগে, আর সৌর প্যানেল একবার বসালে তা সহজেই চালানো যায়। যে কারণে সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, বিকল্প বিদ্যুতের উৎস হিসেবে সৌর শক্তি পছন্দ করছে চা-বাগানগুলো।
প্রতিটি চা-বাগানে সৌর প্যানেল বসাতে অন্তত এক একর অনাবাদি জমি প্রয়োজন। ৮৭ দশমিক ৫ ভাগ বাগানেরই অনাবাদি জমি রয়েছে বলে উঠে আসে সমীক্ষাটিতে। অবশিষ্ট ১২ দশমিক ৫ ভাগ বাগান বলেছে, তাদের এই পরিমাণ অনাবাদি জমি নেই।
সমীক্ষার সহযোগী লেখক ও আইসিএআর- ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী কৌস্তভ আদিত্য বলেন “চা প্রক্রিয়াজাতকরণের অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু ধাপে অন্য ধাপগুলোর তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। আমরা একই বিষয়ে আরও একটি সমীক্ষা চালাচ্ছি, যেখানে আগের তুলনায় বড় নমুনা ব্যবহার করা হচ্ছে। এই সমীক্ষাটি থেকে আমরা আগের চেয়ে আরও ভালো ও নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাই। আইআইটি-দিল্লীর সহযোগিতায় আমরা এমন একটি ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছি, যেখানে এই প্রক্রিয়াগুলোর জন্য সৌরশক্তি ব্যবহার করা যাবে।”
বিদ্যুৎ শক্তি-নির্ভর চা শিল্প
পাতা তোলা থেকে প্যাকেটজাত পর্যন্ত চা উৎপাদনে একাধিক ধাপ রয়েছে, যার অনেকগুলোই বিদ্যুৎ শক্তি-নির্ভর। এ খাতে সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। চা উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থান চীনের পরেই রয়েছে ভারত।
ভারত বছরে প্রায় ৫৮ কোটি টন চা উৎপাদন করে এবং প্রতি কেজি চা উৎপাদনে গড়ে ২ দশমিক ৬৪ কেজি কার্বন ডাইঅক্সাইড নির্গত হয়।
চা অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার মহাসচিব পিকে ভট্টাচার্য বলেন, “চা চাষ ও উৎপাদনে বিদ্যুৎ অপরিহার্য। জমিতে সেচ, যান্ত্রিক ছাঁটাই, ট্র্যাক্টর-চালিত স্প্রে, বিদ্যুৎচালিত স্প্রে আর পাতা তোলা- এসব কাজের জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন। আর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মেশিন চালাতে বিদ্যুৎতো লাগেই। এছাড়া তাপে চা পাতা শুকাতেও ব্যবহার হয় এই শক্তি।”
তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ কারখানা সরকারি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করে উৎপাদন চালু রাখা হয়। এছাড়া চা চাষে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরনে পুরোনো নির্ভরতা গ্রিড বিদ্যুতের বদলে উপযুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা সম্ভব বলেও জানান তিনি।
এফআইসিসিআই নর্থইস্ট অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের রঞ্জিত বার্থাকুর বলেন, “বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এখন চা শিল্পের জন্য বড় সমস্যা। তার ওপর বিদ্যুতের দাম মিটিয়ে চা-র চাষ চালিয়ে যাওয়াও বেশ খরচের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় এ সংকট মেটানোর পাশাপাশি সৌর শক্তি ব্যবহারের সুযোগ এই শিল্পকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে আনতে সহায়তা করবে।”
শ্রমিকদের ঘরের ছাদেও সৌর প্যানেল বসানো যেতে পারে বলেও প্রস্তাব দেন রঞ্জিত বার্থাকুর। এতে আত্মনির্ভরশীল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা তৈরি হবে বলেও মনে করেন তিনি।
আরেকটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই অঞ্চলে উৎপাদিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি এতোটাই বাড়তি থাকে যা প্রয়োজনে অন্য রাজ্যগুলোতেও সরবরাহ করা সম্ভব। এখানকার মোট সম্ভাব্য উৎপাদন ক্ষমতা ৬৬,৬৮২ মেগাওয়াট, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র শূণ্য দশমিক ৪৯ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, আসামে সবচেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে- ১৪,৩৬১ মেগাওয়াট। এরপর রয়েছে অরুণাচল প্রদেশে ১০,৯৬০ মেগাওয়াট এবং মণিপুরে ১০,৮০৩ মেগাওয়াট।
বিদ্যুতের উৎস অনুযায়ী দেখা যায়, সৌর শক্তির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি – ৬২,৩০০ মেগাওয়াট, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজে লাগানো হয়েছে এর মাত্র শূন্য দশমিক ৮৬ ভাগ। অন্যদিকে, বায়ু শক্তি (৬০০ মেগাওয়াট) এবং বায়োমাস বা জৈবজ্বালানি (৫২০ মেগাওয়াট) এখনো ব্যবহারের অপেক্ষায় রয়েছে।
কম খরচ ও নির্ভরযোগ্যতার জন্য নবায়ণযোগ্য জ্বালানি
ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমাতে আসামের অনেক চা-বাগানেই সৌর শক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
দক্ষিণ আসামের কালিনগর চা-বাগানের সুনীল মোহতা তার বাগানে সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল বসিয়েছেন। যার উৎপাদন সক্ষমতা প্রতি ঘণ্টায় ১০০ কিলোওয়াট। এটি স্থাপন করতে তার ব্যয় হয়েছে ৪০ লাখ টাকা। মঙ্গাবে ইন্ডিয়াকে সুনীল বলেন, এই বিনিয়োগে তিনি খুব সন্তুষ্ট।
“এই ৪০ লাখ টাকার বিনিয়োগ থেকে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে প্রায় ৪ লাখ টাকা বাঁচাতে পেরেছি এবং ডিজেল জেনারেটরে ডিজেল কম খরচ হওয়ায় সাশ্রয় হয়েছে আরও প্রায় ৪ লাখ টাকা।”
মোহতা বলেন, সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যয় কমানো, বিশেষ করে যখন বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে সরবরাহ সংকট থাকে।। এই সিস্টেমের ফলে জেনারেটরের ডিজেল ব্যবহার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে এবং একই সঙ্গে কমেছে কার্বন নিঃসরণ।
দক্ষিণ আসামেরই রোজকান্ডি চা-বাগানের স্বত্তাধিকারী ঈশ্বর লাল বি. উভাদিয়া বলেন, এখন আর তাঁকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট বা কারখানা থেকে কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন নিয়ে চিন্তা করতে হয় না।
তিনি আরো বলেন, “আসামের চা-বাগানগুলোর একটি নিয়মিত সমস্যা হলো বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট। রাজ্য পরিচালিত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা মোট প্রয়োজনের মাত্র ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ দিতে পারে। বাকি ৪০ শতাংশের জন্য বাগানগুলোকে নির্ভর করতে হয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেল জেনারেটরের ওপর।”
উভাদিয়া আরও বলেন, “এই শিল্পের খরচ কমানোর একমাত্র উপায় হলো বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো। শ্রমিকদের মজুরি, বেতন বা অন্যান্য সুবিধা কোনোভাবেই কমানোর সুযোগ নেই বললেই চলে।”
ভারতীয় চা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বিবেক গোয়েঙ্কা ১৩৮তম বার্ষিক সাধারণ সভায় বলেন, “বর্তমানে সৌর শক্তির গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি হিসেবে এর জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে এটিকে প্রধান শক্তির উৎসে পরিণত করবে। বারাক ভ্যালি ও দোয়ার্স অঞ্চলের বেশ কিছু বাগান এরই মধ্যেই এই পরিবর্তনের পথে চলছে এবং এই শিল্পের বাকি অংশেরও একই পথে হাঁটা প্রয়োজন।”
রুফসল এনার্জি নামের একটি বেসরকারি সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগানে বেশ কিছু সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, এবং আরো প্রকল্পের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। রুফসল এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীপঙ্কর পল বলেন, “আমরা চা বাগানগুলোতে সৌরশক্তি ব্যবহারের জোরালো পরামর্শ দেই, কারণ এটি বিদ্যুৎ খাতে ব্যয় সাশ্রয়ের একটি কার্যকর উপায়। এছাড়া আর্থিকভাবে দুর্বল বাগানগুলোর জন্যও এই ব্যবস্থা টেকসই।”
তিনি আরও বলেন, একটি বাগান যদি ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) কিলোগ্রাম চা উৎপাদন করে, তাহলে সেখানে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ৫০০ কিলোওয়াট (kWp) ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র লাগবে। এই মাপের একটি প্রকল্পের ব্যয় হবে প্রায় ২ কোটি টাকা (২০ মিলিয়ন রুপি)। সাধারণভাবে, একটি ৫০০ কিলোওয়াট প্রকল্প বছরে প্রায় ৭ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে, যা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ডিজেল খরচ কমায়। এছাড়া যেহেতু একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল ২৫ বছর, তাই এটি সব চা বাগান মালিকদের জন্য ভীষণ লাভজনক বিনিয়োগও হবে বলে মনে করেন দিপঙ্কর।
তিনি জানান, আগামী দুই বছরের মধ্যে ১০০টি চা বাগানকে সৌর শক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

চা বাগানে কৃষিভিত্তিক সৌর শক্তির ব্যবহার
অ্যাগ্রিভোলটাইকস বা কৃষিভিত্তিক সৌর শক্তি এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে চা গাছ বেড়ে ওঠায় বাধা সৃষ্টি না করেই, গাছের ছায়ায় স্বচ্ছ বা আধা-স্বচ্ছ সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। দ্য এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (TERI)- এর রুরাল এনার্জি অ্যান্ড লাইভলিহুডস ডিভিশন-এর পরিচালক ও সিনিয়র ফেলো দেবজিত পালিত বলেন, চা বাগানগুলোতে এই অ্যাগ্রিভোলটাইকস পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।
পালিত আরো বলেন, চা বাগানের যে জমিগুলো অনাবাদী বা অব্যবহৃত সেসব জায়গায় সৌর প্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে। একইসঙ্গে, চা গাছের কম উচ্চতার কারণে অ্যাগ্রিভোলটাইকস পদ্ধতি ব্যবহার করে একই জমিতে চা চাষ ও সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন একসঙ্গে সম্ভব।
চা বাগানের ছায়া দেওয়ার গাছগুলোর জায়গায় স্বচ্ছ ডুয়াল-গ্লাস সোলার মডিউল বসানো যেতে পারে।
এই কাচের মডিউলগুলো চা গাছের বৃদ্ধি ব্যহত করবে না, বরং জমি ও সৌরশক্তির আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাগান ও সৌর শক্তির মধ্যে সহাবস্থান তৈরি করবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন চা বাগানগুলোর ক্ষেত্রে সৌর শক্তি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হতে পারে, কারণ চা গাছ পরিপক্ক ও ফলন দেওয়ার আগেই (প্রথম ২-৩ বছর) সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে যাবে।
এই সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাগানের প্রয়োজন মেটাবে, অতিরিক্ত যা থাকে তা জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে আয় বাড়ানোও যেতে পারে বলে মনে করেন দেবজিত।
অন্যদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণবিজ্ঞানী বরুণ গোস্বামী বলছেন, চা বাগানে সৌর প্যানেল বসানোর ফলে বন্যপ্রাণীর চলাচল ব্যাহত হতে পারে, তবে সেটা নির্ভর করবে প্যানেলগুলো কোথায় বসানো হচ্ছে তার ওপর। তিনি বলেন, “আসামের গোলাঘাট ও নগাঁও জেলার মতো জায়গায় বন্যপ্রাণীরা বনভূমির এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে চা বাগান ব্যবহার করে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, চা বাগানের ভেতরে থাকা ছোট ছোট বনাঞ্চল (woodlands) বন্যপ্রাণীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।
যদি এই জায়গাগুলো, যেগুলো এখন ‘অব্যবহৃত জমি’ হিসেবে ধরা হয়, সেগুলো সৌর প্যানেল বসানোর জন্য কাজে লাগায় তাহলে বন্যপ্রাণীর চলাচলে বাধা তৈরি করবে।
তাই কারখানার ছাদ বা অন্য কোনো স্থাপনার ওপর সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য বিকল্প জায়গা হিসেবে বিবেচনা করা দরকার। চা প্রক্রিয়াজাত করার কারখানার ‘ওয়েদারিং এরিয়া’ অর্থাৎ পাতা শুকানোর জায়গা প্রায় ৪০,০০০ বর্গফুট পর্যন্ত হতে পারে, যা সৌর প্যানেল বসানোর জন্য যথেষ্ট বড় বলে মনে করেন বরুণ।
ব্যানার ছবি: আসামের রোজক্যান্ডি চা বাগানে সৌর প্যানেল। ছবি: রুফসোল এনার্জি।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে-ইন্ডিয়া-তে, ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।