- জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) অনুযায়ী, প্রতিবছর বৈশ্বিক মোট কার্বন নিঃসরণের অন্তত ১০ ভাগের জন্য দায়ী আধুনিক পোশাক শিল্প উৎপাদন প্রক্রিয়া। এই শিল্প থেকে বর্তমান হারে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ চলতে থাকলে, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫০ ভাগেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।
- বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার মূল্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার। পোশাক শিল্পের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের দখল ৭ দশমিক ৯ ভাগ। ৪৪ লাখ কর্মী কাজ করেন এসব পোশাক কারখানায়, যাদের অধিকাংশই গ্রামীণ নারী।
- স্বল্প মূল্যের শ্রমিক আর সেলাই দক্ষতাকে পূঁজি করে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। বাড়তে থাকা এই শিল্প দূষন, অর্থাৎ পরিবেশগত প্রভাব ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে, বিশ্বের অনেক দেশের মত সবুজ উদ্যোগের মাধ্যমে অত্যন্ত সতর্কভাবে কাজ করছে দেশটি।
- গত ১৫ বছরে, অনেক গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশি পোশাক ও টেক্সটাইল নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) সনদপ্রাপ্ত ২০২টি ‘পরিবেশবান্ধব কারখানা’ প্রতিষ্ঠা করেছে, যা বিশ্বে সর্বাধিক।
বৈশ্বিক ফ্যাশন শিল্পের পুরো ব্যবস্থাপনাই পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) অনুযায়ী, প্রতিবছর মোট কার্বন নিঃসরণের মধ্যে ১০ ভাগই আসে ফ্যাশন শিল্প থেকে। বর্তমান হারে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এর মাত্রা ৫০ ভাগের ওপরে পোঁছাবে।
সাসটেইনেবল অ্যাপারেল কোয়ালিশন (এসএসি) ২০৩০ সালের মধ্যে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ বর্তমান অবস্থা থেকে ৪৫ ভাগ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যেনো বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২ দশমিক ৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট)-এর মধ্যে ধরে রাখা যায়।
তৈরি পোশাকে খাতে, বৈশ্বিক বাজারে ৭ দশমিক ৯ ভাগ জায়গা নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ, বাংলাদেশ। যে কারণে দেশটির জন্য পরিবেশ দূষণ ও কার্বন নিঃসরণ কমানো নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান দায়বদ্ধতা।
৪৫ বিলিয়ন ডলারের এ শিল্প, যেখানে ৪৪ লাখ মানুষ কাজ করছে এবং তাদের অধিকাংশই গ্রামীণ নারী।
পরিবেশবান্ধব সবুজ উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের অংশীজন তারা।
গত ১৫ বছরে, অনেক সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশি পোশাক ও টেক্সটাইল উদ্যোক্তারা ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি) সনদপ্রাপ্ত ২০২টি ‘পরিবেশবান্ধব’ কারখানা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে যা বিশ্বে সর্বোচ্চ।
ইউএসজিবিসি অনুযায়ী, একটি গ্রিন ফ্যাক্টরি যা ‘পরিবেশবান্ধব’ নামে পরিচিত, এমনভাবে নির্মাণ করা হয়, যেনো এর নকশা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে পারে। একই সঙ্গে কম জ্বালানি খরচেও ভূমিকা রাখে এটি। এই উদ্যোগের ফলে এই শিল্প থেকে কমে আসে পরিবেশ দূষণ।
গ্রিন সার্টিফিকেশন এমন একটি রেটিং পদ্ধতি যা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, যেমন টেকসই কারখানা, পানি ও জ্বালনির কম ব্যবহার ও পরিবেশ সংরক্ষণ পর্যালোচনা করে। প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব কমায়, সেটিও বিবেচনা করে এই সার্টিফিকেশন।
ইউএসজিবিসি তথ্য অনুযায়ী, শিল্প খাতে যুক্তরাষ্ট্রের ২১৬টি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে শুধুমাত্র তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতেই রয়েছে ২০০টি সার্টিফায়েড ফ্যাক্টরি।

চীন তৈরি পোশাক খাতে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ এবং তাদের রয়েছে ১৭৩টি গ্রিন ফ্যাক্টরি, ৭৭টি গ্রিন ফ্যাক্টরি নিয়ে এর পরের অবস্থান মেক্সিকোর। বাংলাদেশের কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের রয়েছে ৬৯টি গ্রিন ফ্যাক্টরি, এরপর তাইওয়ান ও ভারতে ৪৯টি করে, তুরস্কে ৪৩টি, পাকিস্তানে ৩৬টি এবং শ্রীলঙ্কায় ৩২টি গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ছাড়া, এসব দেশের কারখানাগুলো বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ্য জীবন এবং পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমানোর ওপর জোড় দিচ্ছে নীতিনির্ধারকরা। কার্বন নিঃসরণ কমাতে পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্পেও চলছে নানা রকম পরীক্ষানীরিক্ষা, জানালেন ভিন্টেজ ডেনিম স্টুডিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান মৃধা।
তিনি আরও বলেন, “আমার কাছে পানির প্রতিটি ফোঁটা কিংবা শুধু একটি গাছও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি, সেটির যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধু অর্থ উপার্জন নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও মানুষের কল্যাণ করাও তার কাজ। যে কারণে আমরা আমাদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারি না।”
২০০৯ সালে দেশের প্রথম এলইইডি প্লাটিনাম সার্টিফায়েড তৈরি পোশাক কারখানা হিসেবে ভিন্টেজ ডেনিম স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন মৃধা। সবুজ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি জ্বালানি খরচ কমিয়েছে ৪৬ ভাগ, কার্বন নিঃসরণ কমিয়েছে ৪৫ ভাগ এবং পানির ব্যবহার নামিয়ে আনে ৫৩ ভাগে। এছাড়া আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ আসে কারখানার নবায়নযোগ্য উৎস থেকে।
অপর একটি টেকসই গ্রিন ফ্যাক্টরি টিম গ্রুপ জানায়, তারা পরিবেশ, সামাজ ও সুশাসন এই তিনটি লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেয় এবং তা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করে কার্যকর করার চেষ্টা করছে।
টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ হিল রাকিব বলেন, “বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মের ভোক্তারা, বিশেষ করে মিলেনিয়াল ও জেনারেশন জেড, পণ্যের পরিবেশগত ও সামাজিক মূল্য নিয়ে ভীষণ সচেতন। আর এটা পণ্যের নৈতিক মূল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা এখন বৈশ্বিক ব্যবসা পরিসরে অনেক বড় আলোচনার বিষয়।”
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)– এর পরিচালক রাকিব বলেন, “আমি বিশ্বাস করি একটি গ্রিন ফ্যাক্টরি অনেকভাবে পরিবেশগত টেকসই দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করে, যেমন কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো, নির্দিষ্ট জ্বালানি খরচ হ্রাস, পানির অপচয় না করা, দুষণমুক্ত বাতাস, তাপমাত্রার ভারসাম্য ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

টিম গ্রুপের দুটি এলইইডি-সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি আছে, চলছে আরো দুটি প্রকেল্পের কাজ। “যদিও পরিবেশবান্ধব কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পণ্যের দামে অতিরিক্ত সুবিধা মেলে না, তবে এটি আমাদের জন্য অনেক গর্বের বিষয়, কারণ বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সর্বাধিক গ্রিন ফ্যাক্টরির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত,” বলছিলেন রাকিব।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ধারা পাল্টে দেবে এই উদ্যোগ, যা এরইমধ্যে টেকসই ব্যবস্থাপনা হিসেবে সারা বিশ্বে সমাদৃত।
গ্রিন ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পানি ও রাসায়নিকের ব্যবহার কম হয়। এছাড়া ছাদে সোলার প্যানেল ও ওজোন ওয়াশিং মেশিন ব্যবহারের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি পাওয়া যায়। টিম স্বত্তাধিকারী বলেন, এসব কারণেই এই টেকসই উৎপাদনের প্রতি তাদের আকর্ষণ বাড়ছে।
এলইইডি-সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরি স্নোটেক্সে-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস. এম. খালেদ বলেন, “একজন ব্যবসায়ী হিসেবে আমার দায়িত্ব পৃথিবীকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা এবং পোশাক উৎপাদনের সময় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব কমানো।”
“পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল বলেই আমি পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠা করেছি,” বলেন খালেদ।

সবুজ উদ্যোগের খরচাপাতি ও লাভ-লোকশান
একটি গ্রিন কারখানা স্থাপন করতে, প্রচলিত কারখানার তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বেশি খরচ হয়। অন্যদিকে যন্ত্রপাতি ও জ্বালানি ব্যয় কমাতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার হয় তার দামও বেশি। তবে স্বল্পমেয়াদে সবুজ উদ্যোগ ব্যয়বহুল হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক।
খালেদ বলেন, একটি সবুজ কারখানায় বিনিয়োগের অর্থ নির্দিষ্ট সময় পর ফেরত পাওয়া যায়, কারণ এ ধরনের কারখানায় কম পানি ব্যবহার হয়, কম বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি এলইডি লাইট কিনতে প্রায় ১,০০০ টাকা খরচ হয়, কিন্তু একটি সাধারণ টিউব লাইটের দাম ১০০ টাকা। তবে এলইডি লাইট খুব কম বিদ্যুৎ খরচ করে বলে নির্দিষ্ট সময় পরে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত আসে। এছাড়া সোলার প্যানেলের ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকেই উৎসাহিত করছে।
শুধু গ্রিন সার্টিফায়েড কারখানাই নয়; কমপ্লায়েন্ট কারখানাগুলোও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছে, যাতে পরিবেশের ওপর নেতিকবাচক প্রভাব কমানো যায়। অগ্নি নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ও কাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টিগুলোতে ক্রেতারাও সন্তুষ্ট। আর এসব কাজে কারখানা মালিকদের সহযোগিতা করছে বিজিএমইএ।
বাংলাদেশের কিছু পোশাক কারখানা ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স কর্পোরেশন, বিজিএমইএ ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহযোগিতায় পার্টনারশিপ ফর আ ক্লিনার টেক্সটাইল (প্যাক্ট) প্রকল্প নিয়েছে, যা টেক্সটাইল শিল্পে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এবং পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব রাখে। দূষণ কমাতে রাসায়নিকের ব্যবহার শূণ্যে আনাও এই প্রকল্পের অংশ।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, “নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত টেকসই ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় শীর্ষে রয়েছে, কারণ আমরা এ খাতে নিরাপত্তজনিত দুর্ঘটনা ঠেকাতে যথাযথ কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করছি।”
তিনি আরও বলেন, “কাছাকাছি প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ভারত এবং ফ্যাশন পণ্যের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ চীনের তুলনায়, বাংলাদেশে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিন ফ্যাক্টরি।”
“আমাদের উদ্দেশ্য হলো, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব শূন্যে নামিয়ে আনা। তবে সেখানে পৌঁছাতে হলে ক্রেতা ও অংশীজনদেরও এই মিছিলে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে নৈতিক ক্রয় বা এথিক্যাল বায়িং (সবুজ কারখানার কাছ থেকে তৈরি পোশাক কেনার আগ্রহ) অপরিহার্য,” বলেন এ ব্যবসায়ী নেতা।

টেকসই উদ্যোগের জন্য চাই ক্রেতা ও সরবরাহকারীর সহযোগিতা
টেকসই উৎপাদনের পথে, উৎপাদকদের এগিয়ে নেয়া এবং উৎসাহিত করার প্রধান দায়িত্ব ক্রেতা ও ব্র্যান্ডিং- এর। ভালো দাম দেওয়া এবং বেশি অর্ডার দেওয়ার মাধ্যমে এই উদ্যোগকে প্রসারিত করা সম্ভব।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব কমাতে উৎপাদকরা সবুজ উদ্যোগে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এখন ক্রেতাদের দায়িত্ব হলো, সহযোগিতামূলক মানসিকতা তৈরি করা এবং ন্যায্য দামে পণ্য কেনার অভ্যাস গড়ে তোলা।”
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের মাধ্যমে পৃথিবীকে রক্ষা করা একটি যৌথ দায়িত্ব, যেখানে ক্রেতা ও উৎপাদককে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একইভাবে, আরও গ্রিন ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠায় সরকারকে দিতে হবে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা।
বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি তৈরি পোশাক কেনা প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান বলেন, “একটি উচ্চাভিলাষী টেকসই এজেন্ডা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান হিসেবে, আমরা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই যা তৈরি পোশাক শিল্পকে পূণর্ব্যবহার্য (সার্কুলার), ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক খাত হিসেবে এগিয়ে নেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আমাদের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো পরিবেশ বিষয়ক সনদ চাই না; আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো তারা আমাদের সঙ্গে পূণর্ব্যবহার্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনা বা পরিবেশবান্ধব প্রক্রিয়া, গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানো ও জলবায়ু কর্মসূচি বাস্তবায়নের উচ্চাকাংখাকে ধারণ করছে কিনা।”
গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এইচঅ্যান্ডএম, দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করছে। তাদের সাম্প্রতিক টেকসই ব্যবস্থাপনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা কীভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসে অর্থায়ন করছে এবং পূণর্ব্যবহার্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনার দিকে এগোচ্ছে।
ব্যানার ছবি: বাংলাদেশের একটি পোশাক কারখানায় সারিবদ্ধভাবে কাজ করছেন পোশাককর্মীরা। ছবি: ILO via Flickr (CC BY-NC-ND 2.0).
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ – এ, ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর।