- বাংলাদেশে পানি সহজলভ্য। তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি- আর্সেনিক, লবনাক্ততা ও ভারী ধাতবে দূষিত হওয়ায়, নিরাপদ কিংবা সুপেয় পানির অভাবে রয়েছে লাখ লাখ মানুষ। দেশটির ভূগর্ভস্থ পানির মান সম্পর্কিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ সরকারি প্রতিবেদনে উঠে আসে এই উদ্বেগজনক তথ্য।
- একদিকে কৃষিতে সেচের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিনকে দিন নিচে নামছে, অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন- সেই সংকট করছে আরো তীব্র। ফলে অনেক এলাকায় পানি দূষণের মাত্রা বাড়ছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ায়, খাবার পানির মান নষ্ট হচ্ছে, আর কিছু জায়গায় নিরাপদ সীমার বাইরেও চলে পানির গুণমান।
- মিঠা পানির উৎস আর গভীর নলকূপ আপাতত কিছুটা স্বস্তি দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলীয় জেলাগুলোর সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া উপায় নেই।
- যদিও পানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ সন্তোষজনক; তবে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে দরকার জরুরি বৈশ্বিক সহযোগিতা, আধুনিক অবকাঠামো এবং তথ্যভিত্তিক কার্যকর সমাধান।
কলসি দিয়ে নলকূপ থেকে পানি তুলছেন এক মা, এটি খুব সাধারণ দৃশ্য হলেও, এর ভেতেরেই লুকিয়ে আছে তার জীবনের কঠিন গল্প। কুয়া থেকে সংগ্রহ করা এই পানি দিয়ে চলে তার পরিবারের খাওয়া-দাওয়া এমন কি গোসলের কাজ। অথচ এই পানিতেই আছে জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ অনেক উপাদান। আর্সেনিক, লবণাক্ততা আর ভারী ধাতুর দূষণযুক্ত পানি, নীরবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে কোটি মানুষের জীবন।
বাংলাদেশে ৯৮ ভাগ মানুষ সহজেই নিত্য ব্যবহার্য পানি পেলেও, নিরাপদ ও মানসম্মত পানির আওতায় আছেন মাত্র ৫৯ ভাগ। দূষিত পানি ব্যবহার করায়, প্রায় ৬ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ নানা রোগ ও শারীরিক জটিলতার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি পাচ্ছে মাত্র ১৫ ভাগ মানুষ। তবে পানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ভুগছে দরিদ্র শ্রেণী। এমন সব তথ্য উঠে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের যৌথ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে।
সমস্যাটির গভীরতা বোঝার জন্য, ২০২০ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়। সমস্যা সংকুল এলাকায়, প্রায় ১১০০ ফুট গভীরে, মোট ৯০১টি পর্যবেক্ষণ কূপ বসানো হয়। ২০২০ থেকে ২১ সালের মধ্যে বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের এসব পর্যবেক্ষণে উঠে আসে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের, ভূগর্ভস্থ পানিবিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক আনোয়ার জাহিদ জানান , ভূপৃষ্ঠের নিচেই, বিশেষ করে বন্যা প্রবণ ও বদ্বীপ এলাকায় পাওয়া গেছে উদ্বেগজনক মাত্রার আর্সেনিক, যা নিরাপদ সীমার বাইরে।
“বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মান অনুযায়ী পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ১০ মাইক্রোগ্রাম। যদিও, বাংলাদেশে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মানের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি- প্রতি লিটারে ৫০ মাইক্রোগ্রাম। পানির নমুনাগুলো, যা পরীক্ষানীরিক্ষার জন্য নেয়া হয়েছিলো, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই সীমার (প্রতি লিটারে ৫০ মাইক্রোগ্রাম) নিচে থাকলেও, কিছু এলাকায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত মাত্রা অতিক্রম করেছে। শরীয়তপুরে পাওয়া গেছে সর্বোচ্চ ৩১১ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত, যা ভয়াবহ উদ্বেগের বিষয়,” বলেন জাহিদ।
আনোয়ার জাহিদ আরও বলেন, “সবচেয়ে চিন্তার বিষয় বন্যাপ্রবন আর বদ্বীপ অঞ্চল। তবে মধুপুর গড় আর তিস্তা অববাহিকা এলাকা ছাড়া, অন্য জায়গায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫০ মিটারের (১৬৪ ফুট) নিচে আর্সেনিকের মাত্রা ভয়াবহ।”
বিশ্বের নানা জায়গায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক পাওয়া যায় প্রাকৃতিকভাবেেই। কিন্তু পান করা, রান্না বা ফসলের সেচে ব্যবহৃত দূষিত পানির মাধ্যমে আর্সেনিকের সংস্পর্শে গেলে তা মারাত্মক ক্ষতিকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, দীর্ঘ সময় আর্সেনিকযুক্ত পানি খেলে বা ব্যবহার করলে ক্যান্সার, চর্মরোগ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর অসুখ হতে পারে। এ ছাড়া ব্যাহত হয় শিশুদের বিকাশ এবং তরুণদের মধ্যেও বেড়ে যায় মৃত্যু ঝুঁকি।
সুপেয় পানির জন্য বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নলকূপের ওপর নির্ভরশীল। গবেষণা মতে প্রায় অর্ধেক নলকূপেই আর্সেনিকের মাত্রা নিরাপদ সীমার বাইরে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে, এই সমস্যা আরো গভীর হতে পারে বলে আশংকা বিজ্ঞানীদের।
এই বছরের শুরুতে প্রকাশিত নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূগর্ভস্থ জলাধারের (Aquifer) অবস্থা পরিবর্তন হয়, যার ফলে নলকূপ থেকে আর্সেনিকের নির্গমন বেড়ে যায়। এটি ঘটে রিডাকশন প্রক্রিয়া এবং লবণের প্রভাবের কারণে, যা আর্সেনিককে আরও দ্রবণীয় ও সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিকর করে তোলে।
“জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমূদ্র পৃষ্ঠের পানির উচ্চতা বাড়ে। ফলে অতিরিক্ত পানি, স্থলের প্রতিবেশের সঙ্গে মিশে ভূগর্ভস্তের পানিকে দূষিত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব, নলকূপে পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি বাড়ায়। কারণ রাসায়নিক পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত লবণ ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিককে আরো সহজে মিশতে সাহায্য করে, যার ফলে সুপেয় পানিতে বেড়ে যায় দূষণের ঝুঁকি। আর দীর্ঘ মেয়াদে সংস্পর্শের বিষক্রিয়ার বাড়ে রোগ ও মৃত্যুহার,” উল্লেখ করা হয় গবেষণাটিতে।
লবণাক্ততা আর ভারী ধাতু আনছে বাড়তি বিপদ
বাংলাদেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার পরিস্থিতি আরো খারাপ। এসব এলাকায় গভীর জলাধারই মুক্তির একমাত্র ভরসা। গভীরতা হতে হবে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০ মিটার (৯৮৪ ফুট) নিচে।
সমুদ্রের কাছাকাছি এবং গোপালগঞ্জের বিস্তৃত এলাকায় লবণাক্ততার মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়, যা প্রায় তিন দশমিক শুণ্য পার্টস পার থাউজ্যান্ড-এ (PPT) পৌঁছে।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে সাতক্ষীরা থেকে। জেলার আশাশুনি এলাকা থেকে নেওয়া ভূগর্ভস্থ পানির নমুনায় লবণাক্ততার মাত্রা চল্লিশ দশমিক শুণ্য পার্টস পার থাউজ্যান্ড (PPT) পর্যন্ত পৌঁছেছে -যা সমুদ্রের পানির সমতুল্য।
“পানির এমন ভয়াবহ সংকটের মধ্যেও কিছুটা আশা দেখায়, এলাকার বেশ কিছু স্বচ্ছ মিঠা পানির উৎস। এছাড়া বর্ষাকালে কম লবণাক্ততার কারণে কিছুটা স্বস্তি মেলে, যা শুষ্ক মৌসুমের তুলনায় বেশ ভালো,” বলেন জাহিদ।
গবেষকরা বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে আটটি ভৌত এবং ১৯টি রাসায়নিক উপাদান পরীক্ষা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির ল্যাবে যাচাই করা হয়েছে পরীক্ষার ফলাফল।
পানীয় জলে সাধারণত খনিজ লোহা প্রতি লিটারে ১.০ মিলিগ্রামের বেশি থাকা উচিত নয়। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানিতে লোহার মাত্রা বেশি হওয়ায়, বাংলাদেশে ৫.০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত নিরাপদ ধরা হয়।
বর্ষাকালে খনিজ লোহার মাত্রা ১.০ থেকে ৫.০ মিলিগ্রামের মধ্যে হলেও, শুষ্ক মৌসুমে বিশেষ করে উপরিভাগের জলাধারে এটি ২১.৭ পর্যন্ত বাড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
কিছু এলাকায় ম্যাঙ্গানিজের মাত্রা (প্রতি লিটারে ০.৩ মিলিগ্রাম) নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি পাওয়ার কারণে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাহিদ। পাশাপাশি অনেক এলাকায় ভূপৃষ্ঠের গভীরে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম, আয়োডিন এবং বোরনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।


জলবায়ূ পরিবর্তন ও পানির অভাবে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত
ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ায় জটিল সমস্যার মুখোমুখী হচ্ছে বাংলাদেশ। যা উন্নয়নের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। সেচব্যবস্থা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এর মূল কারণ বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
ইর্ষনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্বত্ত্বেও, বিশেষ করে কৃষিখাতে যেখানে ১৯৯০ সালের পর থেকে ফসলের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, সেখানে ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছে নেচার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা। ২০২২ সালে করা এই গবেষণায় এ সাফল্যের পাশাপাশি উন্মোচিত হয়েছে নেতিবাচক দিকও ।
সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার, বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে আনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি বর্জ্যজনিত দূষণ আরো ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ।
স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০০২ সালের পর থেকে বাংলাদেশে স্থলভাগের পানি ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনমিটার (১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট) কমে গেছে। সেচের জন্য অতিরিক্ত পানি ব্যবহারই এর প্রধান কারণ।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও রাজধানী ঢাকায় ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১ মিটার (৩ দশমিক ৩ ফুট) করে নিচে নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর। আগের তুলনায় কৃষকদের এখন ২০ মিটার (৬৫ দশমিক ৬ ফুট) গভীর থেকে পানি তুলতে হচ্ছে—যা দুই দশক আগের চেয়ে অনেক নিচে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে।
গবেষণার ফলাফলকে বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে, গবেষণার সহকারী লেখক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুপারিনটেনডিং ইঞ্জিনিয়ার রবিন কুমার বিশ্বাস বলেন, দেশের বর্তমান পানি ব্যবস্থাপনা প্রধানত কৃষিভিত্তিক। তিনি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বর্তমান চাপ মোকাবিলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন, যা পরিকল্পনা-মাফিক দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার করা যাবে।
রবিন কুমার বিশ্বাস মঙ্গাবে–কে জানান, “২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হিসেবে মর্যাদা পেতে হলে বাংলাদেশকে অর্থকরী ফসলের দিকে মনোযোগ কমিয়ে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।”
জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে পানির যোগানে জটিলতা বাড়াচ্ছে, একই সঙ্গে বাড়াচ্ছে চরম বৃষ্টিপাতের আশংকা। অথচ খুবই অদ্ভুতভাবে গত দুই দশকে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের হার প্রায় ১০ ভাগ কমেছে, বলছে স্যাটেলাইট তথ্য।
বাংলাদেশের বাইরে নজর দিলে, গঙ্গা নদীর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে শীতকালে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর প্রবাহ প্রায় ৫০ ভাগ কমে গেছে।
প্রবাহ কমে যাওয়ার মূল কারণ হল, উজানের দেশ ভারতে নদী অববাহিকায় বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া এবং কৃষির জন্য ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার।

পানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ
তীব্র পানি সংকট মোকাবিলায়, বাংলাদেশ জাতীয় পানি নীতির ভিত্তিতে ধারাবাহিক উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য সবার জন্য নিরাপদ পানির সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের সরকারি অর্থায়নে আর্সেনিক ঝুঁকি হ্রাস প্রকল্প দেশের আর্সেনিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। দূষিত নলকূপ ঠিক করা, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রকল্পটি।
প্রকল্পের পরিচালক বিধান চন্দ্র দে বলেন, গত ২০ বছরে আর্সেনিক দূষণ পরিস্থিতির অনেক উন্নত হয়েছে। কমেছে অগভীর নলকূপের সংখ্যা, আর আগের তুলনায় আর্সেনিক সম্পর্কে এখন অনেক বেশি সচেতন মানুষ।
এছাড়া ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দেশের নিরাপদ পানির হিস্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বার্ষিক বৃদ্ধির হার ০.৪২ থেকে ০.৪৭ ভাগ পর্যন্ত, যা দেশের নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।
উপকূলীয় অঞ্চলে পানি সংকট মোকাবিলায় চালু করা হয়েছে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা। সরকার ও জাতিসংঘ যৌথভাবে কাজটি করছে। এর ফলে পরিবারগুলো, বিশেষত মায়েরা বর্ষাকালে পর্যাপ্ত পানি জমিয়ে রাখতে পারছেন, যা শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করছেন তারা।
এ ছাড়া, ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক কমাতে, কৃষিকাজে নাইট্রেট ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যা মাটি ও পানিকে দূষণমুক্ত করবে।
জলবায়ু পরিবর্তন সংকটের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে, বাংলাদেশ ২০১৮ সালে ঘোষণা করে ডেল্টা প্ল্যান ২১০০। পানি সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিলেও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন বড় ধরনের বিনিয়োগ ও গবেষণা।
পানি নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় প্রবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে। তবে সফলতা নির্ভর করছে পানি ব্যবস্থাপনার বোঝাপড়ার ওপর। এজন্য তথ্যের অবাধ প্রবেশ, গবেষণা উদ্যোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বাড়তি অর্থায়নের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্যানার ছবি: ধানক্ষেতে সেচ কাজে এক কৃষক। ছবি: মাহাদি আল হাসনাত
সাইটেশন:
Frisbie, S. H., Mitchell, E. J., Molla, A. R. (2024). Sea level rise from climate change is expected to increase the release of arsenic into Bangladesh’s drinking well water by reduction and by the salt effect. PLOS ONE. doi:1371/journal.pone.0295172
Getirana, A., Biswas, N. K., Qureshi, A. S., Rajib, A., Kumar, S., Rahman, M., & Biswas, R. K. (2022). Avert Bangladesh’s looming water crisis through open science and better data. Nature. doi:10.1038/d41586-022-03373-5
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে, মঙ্গাবে গ্লোবাল – এ, ২০২৪ সালের ২৮ মার্চ।