- মানব সৃষ্ট বিভিন্ন কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় পরিযায়ী পাখিদের চলাচলের পথে, মৌসুমি আবাসস্থলগুলো দ্রুত কমে আসছে।
- জলাভূমি ভরাট ও অতিরিক্ত শিকারের ফলে কমে যাচ্ছে মাছ। যেখানে এসব পাখিদের প্রধান খাদ্য মাছ ছাড়াও রয়েছে, বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ও অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
- গবেষকদের মতে, পরিযায়ী পাখি রক্ষায় শুধু স্থানীয় নয়, প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ।
হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে শীতকালে, সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ে ও ইস্ট এশিয়ান ফ্লাইওয়ে ধরে লাখ লাখ পাখি আসে দক্ষিণ এশিয়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ন এলাকায়। মূলত এই দীর্ঘ ভ্রমণের লক্ষ্য, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা। একটু উষ্ণতা পেতে তারা সাইবেরিয়া ও মধ্য এশিয়ার বরফাচ্ছন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসে এসব নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে।
এই দীর্ঘ যাত্রা নির্ভর করে, একটি টেকসই প্রতিবেশের ধারাবাহিকতার ওপর। জলাভূমি, নদী তীরবর্তী বন এবং উপকূলীয় ম্যানগ্রোভই পরিযায়ী পাখিদের বাসযোগ্য প্রতিবেশের মূল উপাদান। এদের গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাবিরতিতে, বিশ্রাম ও খাদ্য সংগ্রহের উৎস হিসেবে কাজ করে এগুলো।
তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমানে এসব আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎসের অনেকগুলোই দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, মালদ্বীপ, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার গবেষকরা দেখিয়েছেন- জলাভূমি রূপান্তর, অপরিকল্পিত মাছ শিকার এবং দূষণের ফলে দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে জলাভূমি, কাদামাটির চর ও নদী ব্যবস্থার অবনতি ঘটছে। আর এসবের মূল কারণ হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ ও দ্রুত নগরায়নকে দায়ী করছেন তারা।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত কনজারভেশন রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর একজন বাংলাদেশী গবেষক সায়েম ইউ চৌধুরী জানান- দ্রুত নগরায়ন এবং প্রাকৃতিক জলাভূমি ধ্বংস, পরিযায়ী জলচর পাখিদের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। অনেকেই মনে করেন, জলচর পাখির প্রধান খাদ্য মাছ। বাস্তবে অধিকাংশ পরিযায়ী প্রজাতি যেমন হাঁস, রাজহাঁস ও বালিহাঁস কিংবা এ জাতীয় উপকূলীয় পাখি: অগভীর জলাভূমি, কাদামাটির চর এবং আশপাশের কৃষিজমির ওপর বেশি নির্ভরশীল। তারা মূলত জলজ উদ্ভিদ, ফল ও শস্য বীজ এবং কেঁচোর মতো অমেরুদণ্ডী প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
চৌধুরী, মঙ্গাবে-কে বলেন, অপ্রজনন মৌসুমে এসব পাখির আবাসস্থল ও খাবার উৎস হলো জলাশয়। এগুলো শুকিয়ে গেলে, দূষিত হলে কিংবা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হলে টিকে থাকার জন্য এসব পাখিদের প্রয়োজনীয় আবাসস্থল ও খাদ্যের উৎসও ধ্বংস হয়ে যায়।”
কপ ১৩-এর আওতাভুক্ত পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণ বিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ে ও ইস্ট এশিয়ান ফ্লাইওয়ের মধ্যে অবস্থিত বাংলাদেশ। এবং এই অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়, প্রায় ৩১০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির আনগোনা। তবে পাখি গবেষক সায়েম ইউ চৌধুরী বলেন, সবর্শেষ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে আসে প্রায় ৪০০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি।
আইউসিএন বাংলাদেশের রেড লিস্ট অনুযায়ী, এদের মধ্যে স্পুন বিলড্ স্যান্ড পাইপার (Calidris pygmaea), নর্ডম্যানস গ্রিকশ্যাঙ্ক (Tringa guttifer), বেয়ার্স পচার্ড (Aythya baeri) এবং গ্রেটার স্পটেড ঈগল (Clanga clanga) এর মত বিশ্বব্যাপী হুমকির মুখে থাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি প্রজাতিও রয়েছে।
চৌধুরীর মতে, বাংলাদেশের উপকূলীয় জলাভূমি এলাকায় অপরিকল্পিত উন্নয়ন, কৃষি ও দ্রুত মাছ চাষ সম্প্রসারণ, তরমুজের মতো নতুন ফসলের চাষ, কীটনাশকের ব্যবহার, উপকূলীয় জলাভূমিকে লবণ উৎপাদন ক্ষেত্র ও চিংড়ি ঘেরে রূপান্তর, কাঁদা মাটিতে ম্যানগ্রোভ রোপণ, অবাধ শিকার এবং দূষণ, পরিযায়ী পাখির জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হচ্ছে এশিয়ান সেন্ট্রাল ফ্লাইওয়ে
২০২৩ সালের সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়েটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়- উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া এবং ট্রান্স ককেশাস জুড়ে বিস্তৃত পথে, এরকম ৩০টি দেশের অনেক জায়গায় জলচর পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। মূলত মানুষের বসতি দ্রুত বিস্তারের ফলে আবাসস্থল পরিবর্তিত ও খণ্ডিত হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে।
সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়েটি ব্যবহার করে ৬০০–রও বেশি প্রজাতির পরিযায়ী পাখি।
দক্ষিণ এশিয়ার আর একটি দেশ পাকিস্তান, সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ে-টির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ২০২১ সালে ডাব্লিউ ডাব্লিউ এফ -এর পাকিস্তান শাখা, পরিযায়ী পাখি সুরক্ষার আহ্বান জানায়।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব জুওলজি বিভাগের অধ্যাপক জুলফিকার আলী বলেন, জলাভূমিতে হেঁটে বেড়ানো কিছু পাখি যেমন ব্ল্যাক টেইল গডউইট (Limosa limosa) এবং ইউরেশিয়ান কার্লিউ (Numenius arquata) বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পাকিস্তানে জলাভূমি শুকিয়ে যাওয়া ও পলিমাটি ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নরম কাদায় ঠোঁট ঢুকিয়ে অমেরুদণ্ডী প্রাণী খুঁটে খাওয়া এসব পাখি ।
একইভাবে শিকারি পাখিরাও হুমকিতে পড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেপ ঈগল (Aquila nipalensis)। জুলফিকার বলেন, কমতে থাকা তৃণভূমি ও কৃষি জমিতে ইঁদুর এবং ছোট পাখির সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসব শিকারি পাখিও ।
অবৈধ শিকার ও ফাঁদ পাতা, প্রাকৃতিক বন্যাপ্রবণ সমভূমিকে একক ফসলের কৃষিজমিতে রূপান্তর এবং হ্রদ ও নদীতে অতিরিক্ত মাছ শিকার-এসব কারণে জলচর পাখির আবাসস্থল ক্রমেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

২০২৪ সালের একটি গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত মাছ শিকারের কারণে শিকারী পাখি অর্থাৎ যারা জলাশয়ে ছো মেরে মাছ ধরে, খাদ্য সংকটের কারণে তাদের সংখ্যাও কমে আসছে। নেপালের কোশি তাপ্পু ওয়াইল্ড লাইফ রিজার্ভার (রামসার তালিকাভুক্ত এলাকা)-এ গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, ব্ল্যাক বেরিড টার্ন (Sterna acuticauda) এবং ইন্ডিয়ান স্কিমারের মতো পাখির সংখ্যা ।
গবেষণাটির সহ-লেখক, নেপালের প্রখ্যাত পাখি গবেষক হেম সাগর বড়াল বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেসব জলচর পাখিরা, যারা প্রধান খাদ্য হিসেবে মাছের ওপর নির্ভরশীল। কারণ যেখানে মাছের পরিমাণ কমে গেছে, সেখানে এসব পাখির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে।
বড়াল উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, পল্লাস ফিস ঈগল (Haliaeetus leucoryphus) আগে নেপালে শীতকালে প্রজনন করতে পারত বলে ধারণা করা হলেও. এখন এটি শুধু শীতকালীন অতিথি পাখি হিসেবে দেখা যায়।
অন্যদিকে, ভুটানের গবেষকরা দেখিয়েছেন যে, জিগমে দরজি ন্যাশনাল পার্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত মচু ও পচু নদীতে অতিরিক্ত মাছ শিকারের কারণে খাদ্য সংকটে পড়ে, মারাত্মকভাবে বিপন্ন হোয়াইট বেলিড হেরন (Ardea insignis। ২০২১ সালের এক গবেষণায় উঠে আসে এটি।
পরিযায়ী পাখিদের সাম্প্রতিক অবস্থা জানতে, ২০২৪ সালে ভারতের কয়েকজন গবেষক তাদের দেশের তিনটি অভয়ারেণ্যর ওপর গবেষণা করেন। এগুলো হলো, বিন্দাবাস বার্ড স্যাঙ্কচারি, সুলতানপুর ন্যাশনাল পার্ক ও কেওলাদেও ন্যালনাল পার্ক। গবেষণার মধ্য দিয়ে ৮২ টি পরিযায়ী পাখির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন তারা। আবাসস্থলের অবনতি ও খণ্ডিতকরণ, পর্যটকের চাপ এবং পাখিদের জন্য খাদ্য ব্যবস্থাপনার ত্রুটিকে প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে গবেষণাটিতে।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, কৃষি, পর্যটন ও নগর সম্প্রসারণের জন্য মালদ্বীপে জলাভূমি, কাদামাটির চর এবং উপকূলীয় এলাকা ভরাট করা হচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় দেশটি ক্রমেই অনুপযোগী হয়ে পড়ছে সোসিয়েবল ল্যাপ উইং (Vanellus gregarius), কার্লিউ স্যান্ড পাইপার (Calidris ferruginea) এবং ব্ল্যাক টেইলড গডউইটের মত পাখির জন্য।

উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থল পরিযায়ী পাখির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সায়েম ইউ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাভূমিগুলো বেশিরভাগ সময় মাছ উৎপাদনে ব্যবহার হয়। আর এটা করতে গিয়ে পানির স্তর নিয়ন্ত্রণ এবং জলজ উদ্ভিদ অপসারণের মতো কার্যক্রমে- হাঁস, রাজহাঁস ও তটভূমির পাখিদের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে উপকূলীয় অঞ্চলে ভূমি পুনরুদ্ধার এবং মাছ চাষের কারণে জোয়ার-ভাটার সমতল ভূমির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা এসব পাখিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল বলে গণ্য করা হয়।
পাকিস্তানের জুলফিকার আলীর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রামসার তালিকাভুক্ত ইন্দাস ডেল্টার মত গুরুত্বপূর্ণ স্থান, যা একসময় বিস্তৃত ম্যানগ্রোভ ও খাল-বিলের একটি জটিল নেটওয়ার্কে যুক্ত ছিলো, এখন উজানে বাঁধ নির্মাণ ও সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশের কারণে মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। একইভাবে অভ্যন্তরীণ মিঠা পানির হ্রদগুলোকেও কৃষি জমিতে রুপান্তর করা হচ্ছে কিংবা দূষিত হচ্ছে কৃষি বর্জ্যে। এই ধরনের আবাসস্থল নষ্ট হওয়ায় সরাসরি পাখিদের খাদ্য সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন জুলফিকার। জলাভূমি শুকিয়ে ফেলার ফলে সেখানে থাকা জলজ উদ্ভিদ, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, মাছ ও উভচর প্রাণী ধ্বংস হয়ে যায়, যা হাঁস, রাজহাঁস, তটভূমির পাখি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির শিকারি পাখির প্রধান খাদ্য উৎস।
জুলফিকার জানান, এসব সংকটের কারণে “পর্বত ও মরুভূমি পেরিয়ে দীর্ঘ ও বিরামহীন উড়ালের পর যে পাখিরা পৌঁছে, তারা তাদের পরিচিত ও নিয়মিত যাত্রাবিরতির জায়গাগুলোকে আর আগের অবস্থায় পায় না, অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে অথবা প্রতিবেশগত মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।”
পরিযায়ী পাখিরা অত্যন্ত সীমিত শক্তির ওপর নির্ভর করে তাদের যাত্রা পরিচালনা করে। ফলে কোনো স্থানে পৌঁছে যদি পর্যাপ্ত খাদ্য ও বিশ্রামের সুযোগ না পায়, তাহলে পরবর্তী যাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় চর্বি বা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না তারা, উল্লেখ করেন জীববিজ্ঞানের এই গবেষক।
এর ফলে যাত্রাপথেই মৃত্যুহার বেড়ে যায় এদের, গন্তব্যে পৌঁছানোর পর দুর্বল শারীরিক অবস্থার কারণে কমে আসে প্রজনন সক্ষমতাও। যা দীর্ঘমেয়াদে পুরো প্রজাতির টিকে থাকার ক্ষমতাকেও কমিয়ে দেয় বলে জানান জুলফিকার।
তিনি আরও বলেন, সমগ্র ফ্লাইওয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমির পুনরুদ্ধার, শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি, নতুন সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা এবং টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নীতি: যাতে নদী ও নিম্নাঞ্চলীয় প্রতিবেশে প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহ বজায় থাকে।
“ফ্লাইওয়ে জুড়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই পাখিগুলো রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব,” – জুলফিকার।

সংরক্ষণে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সমন্বয়
বার্ড লাইফ ইন্টারন্যাশনালের সেন্ট্রাল এশিয়ান ফ্লাইওয়ের সমন্বয়ক আনন্দ চৌধুরী এই সমস্যাগুলো ও এর পরিণতি সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা রাখেন।
তবে তিনি বলেন, আশার কথা হলো অনেক আবাসস্থল যেমন ছোট ছোট বনভূমি, কমিউনিটি বন এবং জলাভূমি কখনো সরকার আবার কোথাও স্থানীয় সম্প্রদায়ের উদ্যোগে সংরক্ষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও ভারত জাতিসংঘের কনভেনশন অন দ্য কনজারভেশন অব মাইগ্রেটরি স্পিসিজ অব ওয়াইল্ড অ্যানিম্যালস-এ স্বাক্ষর করেছে, যা জাতীয় পর্যায়ে প্রজাতি ও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরদার করে।
আনন্দের ভাষায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অনেক অনুপযোগী বা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পাখিরা ছেড়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে কোনো কোনো জায়গায় এসব পাখির সংখ্যা বাড়ছে নিরাপদ আশ্রয়ের কারণে।
তিনি আরও বলেন, পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোর ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি (BNHS), বাংলাদেশের স্কোপ ফাউন্ডেশন, নেপালের বার্ড কনজারভেশন (BCN), ভুটানের রয়্যাল সোসাইটি ফর প্রোটেকশন অব নেচার (RSPN) এবং শ্রীলঙ্কার ফিল্ড অর্নিথোলজি গ্রুপ অব শ্রীলঙ্কা (FOGSL)।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সংরক্ষণ সংগঠন, বেসরকারি খাত এবং সরকার সবাইকে একত্রিত করে পরিযায়ী পাখির জন্য এসব নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ জানান আনন্দ।
ব্যানার ছবি: বাংলাদেশের প্রায় সব কাদামাটির চরে জেলে ও পাখিদের সহাবস্থান দেখা যায়। ছবি: সায়েম ইউ চৌধুরী।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি।
সাইটেশন:
Mundkur, T., Ananzeh, A., Chaudhary, A., Evans, M., Jia, Y., Koshkina, A., Kumar, R., Nergui, J., Niven, R., Rao, M., Scott, T., & Al Taq, M. (2023). Central Asian Flyway: Situation analysis—The status of migratory birds and their habitats and recommendations for their conservation. BirdLife International. doi:10.13140/RG.2.2.32281.80480
Bird Conservation Nepal [BCN], Department of National Parks and Wildlife Conservation [DNPWC], & Department of Forests and Soil Conservation [DOFSC]. (2024). Important bird and biodiversity areas in Nepal: Key sites for conservation. Bird Conservation Nepal. Retrieved from https://birdlifenepal.org/public/uploads/files/IBA_Book-2024_Final_Copy-compressed_compressed.pdf
Pema Dendup, Wangdi, L., Jamtsho, Y., Kuenzang, P., Gyeltshen, D., Tashi, T., Rigzin, U., Jamtsho, Y., Dorji, R., Dorji, R., Jamtsho, Y., Lham, C., & Tshering, B. (2021). Bird diversity and conservation threats in Jigme Dorji National Park, Bhutan. Global Ecology and Conservation, 30, e01771. doi:10.1016/j.gecco.2021.e01771
Kumari, T., Phogat, D., Kumar, P., & Shukla, V. (2025). Migratory birds’ diversity at different national parks in India. Asian Journal of Conservation Biology, 13, 183–194. doi:10.53562/ajcb.85039
Steibl, S., Zareer, I. H., Khaleel, H., Fox, M., Nidham, H., & Russell, J. C. (2025). Status of common breeding and migratory birds in the Maldives (OCPP project report). Maldives Environmental Protection Agency. Retrieved from https://www.researchgate.net/publication/390240622_Status_of_common_breeding_and_migratory_birds_in_the_Maldives