- বাংলাদেশে খরা-কবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রতিবেশ ও কৃষি রক্ষায় জলাভূমি খনন ও পুনরুদ্ধার ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
- বিল পূনরুদ্ধারের কাজে নেমে, প্রভাবশালীদের বাধা ছাড়াও নানা রকম বিপত্তির মুখে পড়েছেন প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক।
- জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি, ফজলুল হকের এই উদ্যোগ স্খানীয়দের মধ্যে নতুন ভাবনার খোড়াক দিয়েছে। তাদের অনেকেই এখন পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে সচেতন। আর ফজলুল হকের বিল রক্ষার লড়াই দেখায় যে, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ একটি নিরন্তর লড়াই।
সরকার যখন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা রংপুরে অবস্থিত দুইটি জলাশয়-ভারারদহ বিল ও পাটুয়াকামড়ী বিলকে বিশেষ জীববৈচিত্র সংরক্ষণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করলো, তখন খবরটি শুনেই এ কে এম ফজলুল হকের মুখে দেখা গিয়েছিলো স্বস্তির হাসি।
“এই বিলগুলোকে বিশেষায়িত হিসেবে ঘোষণা করতে আমাদের যে শ্রম আর চেষ্টা ছিলো, তা স্বার্থক হয়েছে”, বলেন তিনি।
উজান থেকে নেমে আসা ঢল কিংবা বৃষ্টির পানি ভৌগলিকভাবে যেসব নিচু এলাকায় জমা হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানিতে ভরপুর থাকে, সেসব জলাধারকে সাধারণত বিল বলা হয় বাংলাদেশে।
ভারারদহ ও পাটুয়াকামড়ী, এই দুটি বিল নানা কারণে শুকিয়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে, শুধুমাত্র কৃষি জমিতে পরিণত হয়েছিলো। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিএমডিএ)-এর একজন জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এ কে এন ফজলুল হক ২০২১ ও ২০২৩ সালে বিল দুটি খননের কাজে নেতৃত্ব দেন।
ফজলুল হক জানান, ভারারদহ বিলের ৪ দশমিক ৭ হেক্টর (১১ দশমিক ৬ একর) খননের পর, বিলের পাড়ে বিরল দেশী গাছের চারা রোপণে কাজ শুরু করে তার দল।
তিনি আরো জানান, ভারারদহের পর পাশের আর একটি বিল পাটুয়াকামড়ী খননের কাজে হাত দেয় বিএমডিএ-এর এই দলটি। প্রথম দিনই অবৈধ দখলদাররা ফজলুলের ওপর শারীরিকভাবে হামলা চালায় এবং এক পর্যায়ে তার দামী ক্যামেরাটি ভাঙচুর করে বলে, জানান ফজলুল। এত বাধা সত্ত্বেও, শেষ পর্যন্ত বিএমডিএ ৪ দশমিক ৫ হেক্টরের (১১ দশমিক ৩ একর) পাটুয়াকামড়ী বিলটি খননে সফল হয় তারা।
বর্তমানে এই দুটি জলাধার সারা বছরই শত শত জলচর পাখি, যাদের মধ্যে কিছু পরিযায়ী এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীও রয়েছে, তাদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মধ্যে খরা প্রবণ উত্তরাঞ্চলে, যেখানে জলাশয়গুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে, এ ধরনের সংরক্ষণ উদ্যোগ সেখানে ভীষণ দরকার।
২০২২ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৯ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মোট জলাভূমির ৫৭ শতাংশেরও বেশি হারিয়ে গেছে।
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল বারী মঙ্গাবে-কে বলেন, “স্থানীয় প্রতিবেশের সুরক্ষা এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খরা প্রবণ অঞ্চলে জলাভূমি সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ কাজ।”


বিলগুলোতে প্রাণ ফেরার গল্প
কীভাবে একটি নদীর বুক চিড়ে ভারারদহ ও পাটুয়াকামড়ী এই দুটি বিলের জন্ম, লোকমুখে শোনা গল্প থেকে সেই ইতিহাসই বর্ননা করেন ফজলুল হক।
তিনি বলেন,“একটি শক্তিশালী নদীর গভীর ও ঘূর্ণায়মান অংশকে দহ বলা হয়। এরকমই একটি দহ, রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় চিকলি ও গদাঙ্গি-এই দুই নদীর মিলনস্থলে ছিল।”
শত শত বছর আগে চিকলি নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে। পরে থাকে দহটি। যা বিল হিসেবে টিকে গেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি দুই ভাগে আলাদা হয়ে পরিচিত পায় ভারারদহ এবং পাটুয়াকামড়ী নামে।
বদরগঞ্জে জন্ম, বেড়ে ওঠা সেখানেই তাই ফজলুল হকের কাছে এই এলাকার প্রতিটি কোণ নিজের হাতের রেখার মতই জানাশোনা।
স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “৪০ থেকে ৫০ বছর আগেও এই দুটি বিল এলাকাটির মাছের প্রধান উৎস ও পানির ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল।”
সে সময় জুগি নামে একটি হিন্দু সম্প্রদায়, এই জলাশয়গুলোর আশেপাশে তাদের বসতি গড়ে তোলে। তারা খাবারের জন্য বিল থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করত। সেই ঝিনুকের খোলস থেকে চুন তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করত তারা, জানান ফজলুল।
ফজলুল ১৯৯৪ সালে বিএমডিএ-তে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন এবং বদরগঞ্জে যোগ দেয়ার আগে তিনি উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য জেলা-রাজশাহী, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও রংপুরে কাজ করেছেন।

অন্যান্য জায়গায় কাজ করলেও,নিজের জন্মস্থান বদরগঞ্জের হারিয়ে যেতে বসা বিলগুলো নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন ছিলেন ফজলুল।
তিনি জানান, ভারারদহ ও পাটুয়াকামড়ী বিল খাস জমি (সরকারি মালিকানাধীন জমি) হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও, প্রায় ৩০ জন স্থানীয় ব্যক্তি ও তাদের বংশধররা প্রায় ৫০ বছর ধরে ক্রমান্বয়ে অবৈধভাবে দখল করে এগুলো কৃষিকাজে ব্যবহার করে আসছিলো। যার ফলে অধিকার থাকা সত্বেও জলাশয়গুলোতে যেতে পারতেন না স্থানীয় জেলেরা।
এই অবৈধ জমি দখল সহজ করতে, এমনকি একটি সরকারি সংস্থাও একটি নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর স্থানীয় ইউনিট গদাঙ্গি নদীর একটি অংশকে প্রবাহ বদলে নিয়ে যায় ভিন্ন দিকে ।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমির কাগজপত্র ঘেটে দেখা যায়, গদাঙ্গি নদী ভারাররদহ বিলের উত্তর পাশ দিয়ে প্রবাহিত হতো।
২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে, নদীটির আসল গতিপথে খনন করার পরিবর্তে বিএডিসি এটিকে ভারারদহ বিলের মাঝ খান দিয়ে আবার খনন করে। এছাড়া, খনন করা মাটি বিলের মধ্যেই ফেলে দেয় তারা। ফলে আরও ভরাট হয় এটি এবং একসময় সম্পূর্ণভাবে বিলটি বিলীন হয়ে যায়।
বিলটি সংরক্ষণের শেষ চেষ্টা হিসেবে ফজলুল এটি খননের প্রস্তাব দেয় বিএমডিএ-কে। কৃষি ও অন্যান্য কাজে বিলের পানির ব্যবহার ও সেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ২০১৯-২৫ মেয়াদের একটি প্রকল্পের আওতায় সেচ সম্প্রসারণের কাজের বিষয়টি প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রস্তাব অনুমোদিত হয় এবং খনন কাজ বাস্তবায়নের জন্য ফজলুল হকককে পদায়ন করা হয় বদরগঞ্জে।
ফজলুল কঠিন সময়গুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, “ভারারদহ বিলের খনন কাজ শুরু করা ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। অবৈধ দখলদাররা টানা দুই দিন আমাদের খনন যন্ত্রগুলকে কাজ করতে দেয়নি।”
খনন কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে, জলাভূমি সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিভারাইন পিপলের অন্যতম পরিচালক তুহিন ওয়াদুদ এগিয়ে আসেন এবং বিষয়টি রংপুর জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও সরকারি খাস জমির তত্ত্বাবধায়ক আসিব আহসানের কাছে তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে, স্থানীয় নেতা এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর খনন কাজ শুরু হয় এবং ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হয় কাজটি।
পরে, সরকারি ভূমি নথি অনুযায়ী বিলের উত্তর পাশে অবস্থিত গদাঙ্গি নদীও খনন করা হয় আবার।
এছাড়া, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পাটুয়াকামড়ী বিলের খনন কাজ শুরু হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তা শেষ হয় বলে জানান ফজলুল। তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে বিলগুলোকে মুক্ত করতে পেরে ভীষণ আপ্লুত তিনি।

প্রকল্পটি শেষ হওয়ার পর, স্থানীয় প্রশাসন রাজস্ব আয়ের জন্য বিলগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষের জন্য ইজারা দেওয়ার চেষ্টা করে।
তবে ফজলুল হক বিলের প্রতিবেশ নিয়ে সচেতন ছিলেন। তাই ২০২৩ সালের ৩০ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি লিখে তিনি অনুরোধ করেন, দুটি বিলকে যেন “জনসাধারণের অবাধ ব্যবহারযোগ্য” হিসেবে ঘোষণা এবং ইজারাযোগ্য না রাখা হয়।
তার যুক্তি ছিল, “পাখিরা বিলের মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে। এগুলো ইজারা দিলে পাখিরা চলে যাবে।”
ফজলুলের এই অনুরোধ গ্রহণ করা হয়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওয়াদুদ মঙ্গাবে-কে বলেন, “সরকারি জমি দখল শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, প্রশাসনের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই এ ধরণের অপরাধ হওয়ার বিষয়টিও নির্দেশ করে এসব ঘটনা।”
স্থানীয় জনগণকে জলাভূমি দখলের চেষ্টা প্রতিরোধ এবং টেকসই প্রতিবেশ রক্ষা করার আহ্বান জানান ফজলুল হক।
ফজলুল, ওয়াদুদ এবং ভারারদহ-পাটুয়াকামড়ী-সুরক্ষা কমিটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল, যারা পুনরুদ্ধার করা জলাশয়গুলোর পাড়ে পরিকল্পিত বনায়ন কার্যক্রমও পরিচালনা করেন। যেখানে লাগানো হয় ২০০-র বেশি প্রজাতির গাছ। এক বছরের মধ্যেই এই জলাশয়গুলো জলচর পাখিদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়, যার মধ্যে পরিযায়ী পাখি নর্দার্ন পিনটেইলও (Anas acuta) রয়েছে।
বায়ান্ন বছর বয়সী স্থানীয় কৃষক আতিয়ার রহমান মঙ্গাবে-কে জানান, কৃষির জন্য বিল কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
আতিয়ার বলেন.“পাখিরা বিল ও আশেপাশের বনে নিজেদের আবাসস্থল ঠিক করায়, এর কাছাকাছি ফসলী জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড় প্রায় চলে গেছে।”

সংরক্ষণ একটি নিরন্তর লড়াই
এরই মধ্যে একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন ফজলুল। বর্তমানে অন্য জেলায় কর্মরত হলেও পূনরুদ্ধার করা বিলগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য প্রায়ই বদরগঞ্জে আসেন তিনি।
বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ আসলে একটি চলমান আন্দোলন।
ফজলুল আক্ষেপ করে বলেন, “আগের অবৈধ দখলদাররা অন্য কেউ নয়, আমাদের প্রতিবেশীই ছিল। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনো বিলের প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে।”
বিল পাহারায় নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক আতিউর গত ফেব্রুয়ারিতে বেশ কিছু অনুপ্রবেশকারীর মুখোমুখি হন। তারা অন্ধকারে বিলের একটি অংশ ঘিরে বড় জাল পেতে রাখে এবং আগুন ধরিয়ে দেয় গাছে। যাতে গাছে বসে থাকা পাখিরা ভয়ে উড়তে গিয়ে জালে আটকা পড়ে।
তার তদারকিতে অনুপ্রবেশকারীরা পালিয়ে যায় বলে জানান আতিউর।
তবে সবসময় এরকম সফলভাবে প্রতিহত করা যায় না দুর্বৃত্তদের, জানান তিনি। অবৈধ গাছ কাটা ও মাছ ধরা বিলগুলোকে হুমকির মুখে ফেলছে। “এ কারণেই আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বিলগুলো ঘিরে গ্রেড বিম বেড়া নির্মাণের জন্য বাজেট বরাদ্দ চেয়েছি, যাতে গবাদিপশু ও মানুষ অকারণ প্রবেশ করতে না পারে।”
উন্তার বিল, আরও একটি জলাভূমি যা ভারারদহ ও পাটূয়াকামড়ীর চেয়েও বড়। আয়তন প্রায় ৩০ হেক্টর (৭৪ একর)। এটিও পুনরুদ্ধারের জন্যও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ফজলুল হক।

উন্তার বিলের কাছাকাছি বসবাসকারী ৩৫ বছর বয়সী কৃষক তাহেরুল ইসলাম। জেলেদের সমবায় সমিতির সদস্য তিনি। বলেন, “রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি উচ্চবিত্ত গোষ্ঠী প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বিলের সম্পদ ভোগ করে আসছে।”
তার মতে, ধীরে ধীরে বিলের জমি দখল করে তা কৃষিজমিতে রূপান্তর করার ফলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র কমে গেছে। এ বিষয়ে ফজলুল বলেন, আগের মত তিনি উন্তার বিলকে একটি পূনরুদ্ধার প্রকল্পের আওতায় আনার জন্য সরকারকে নিয়মিতভাবে অনুরোধ জানিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যানার ছবি: ভারারদহ বিল সারা বছর শতশত জলচর পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আশ্রয়স্থল। ছবি: মো. মেহেদী হাসান।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ, ২০২৬ সালের ৩ এপ্রিল।
সাইটেশন:
Haider, A. B. M., Hassan, M., & Rasib, A. (2023). Geospatial approach to wetland vulnerability assessment for northwest Bangladesh. The International Archives of the Photogrammetry, Remote Sensing and Spatial Information Sciences, 48(4/W6-2022), 139–143. doi:10.5194/isprs-archives-XLVIII-4-W6-2022-139-2023