- বাংলাদেশের সবচেয়ে উচু প্রজাতির গাছ হিসেবে পরিচিত, বিপন্ন বৈলাম সংরক্ষণে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এক তরুণ। দেশের সব জেলায় রোপন করেছেন এই গাছের চারা।
- এদিকে বাংলাদেশী একজন অধ্যাপকের নিবেদিত গবেষণা ও উদ্যোগ; এই বিরল প্রজাতিটির বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ কার্যক্রমে নতুন আশা জাগাচ্ছে।
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, যেখানে প্রজাতিটি বিপন্ন হলেও কার্যকর সংরক্ষণ পদ্ধতি দৃশ্যমান নয়। সেখানে বাংলাদেশের এই উদ্যোগ একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
কখনো কোনো ব্যক্তি উদ্যোগ আমাদের পরিবেশ ও সামাজের ওপর সুদূরপ্রসারী অভিঘাত ফেলে। এরকম একজন, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ জেলার ৩৪ বছর বয়সী মাহবুবুল ইসলাম পলাশ। পলাশ তার নিজ এলাকায় বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত। গাছের প্রতি তার ভালোবাসার গল্প জানবো আজ।
২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি, নিজ এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার (৩৭৩ মাইল) দূরে দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় জেলা, কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় যান তিনি। উদ্দেশ্য একটি গাছ লাগাবেন। তবে দূর পথ পাড়ি দিলেন শুধু গাছ লাগানোর জন্য, বিষয়টা একটু অন্যরকম না! তবে সত্যিকার অর্থেই গাছের একটি বিপন্ন প্রজাতি রক্ষা চেষ্টার অংশ হিসেবেই ছিলো পলাশের এই যাত্রা। এক সময় বনে জঙ্গলে খুব সাধারণভাবে দেখা মিলতো, তবে এখন প্রায় নেই বললেই চলে, এরকম একটি গাছ বৈলাম। এক ধরনের উঁচু, শক্ত কাঠের গাছ এটি। ডিপ্টেরোকার্প (Anisoptera scaphula) প্রজাতির এই গাছটিতে সাধারণত বড় বড় পাখিরা বাসা বেঁধে থাকে।
৬৪তম গাছ হিসেবে কক্সবাজারে এটি রোপনের আগে দেশের ৬৩ টি জেলায় বৈলামের চারা লাগিয়েছেন পলাশ। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী জেলা থেকে তার এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের ৫ জুন।
পলাশ যখন জানতে পারেন যে এই বিশালাকার গাছটি বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে এবং চিল ও শকুনের মতো পাখিরা তাদের বাসা বাঁধার জায়গা হারাচ্ছে, তখন তিনি বৈলাম গাছ লাগানোর লক্ষ ঠিক করেন।
মঙ্গাবে-কে তিনি বলেন, “একটি প্রজাতিই হোক না কেন, আমি এটিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলাম।”
২০১৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে এই গাছের বীজ বা চারা সংগ্রহ করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন পলাশ। তবে শুরুতে বীজ অঙ্কুরোদ্গমে ব্যর্থ হয় তার চেষ্টা। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। চেষ্টা চালিয়ে যান। চার বছর পর ২০২৩ সালে তিনি বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকার মাতৃগাছ থেকে ২,০০০টি বীজ সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে ৭৪টি অঙ্কুরিত করতে সক্ষম হন তিনি। পরে চারাগুলো সিরাজগঞ্জে নিজ বাড়ির পাশে এক টুকরো জমিতে এক বছর ধরে পরিচর্যা করেন। সেগুলোর উচ্চতা প্রায় ৩০-৪৫ সেন্টিমিটার (১২-১৮ ইঞ্চি) হলে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় রোপণ করা হয়।
এই অসাধারণ উদ্যোগ শেষ করতে পলাশের লেগেছে ৫৯৭ দিন। খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা (প্রায় ২,০০০ ডলার), যা পুরোটাই তার নিজের।
বৈলাম বড়, বহুবর্ষজীবী বৃক্ষ, যার উচ্চতা সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিটার (৯৮-১৪৮ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে। এটি অসমান ঢালে ও উপত্যকার নিম্নাঞ্চলের আধা-চিরসবুজ ও চিরসবুজ বনে জন্মে। রয়েছে উচ্চমাত্রার আর্দ্রতা সহ্য করার ক্ষমতা।
বাংলাদেশে এই ডিপ্টেরোকার্প প্রজাতিটি অর্থাৎ বৈলামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বা “ফ্ল্যাগশিপ” গাছ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এতে বড় পাখিরা বাসা বাঁধে এবং নানা প্রজাতির অর্কিড জন্মায়। এছাড়া এর কাঠ শক্ত, দৃঢ় ও টেকসই।


পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও জাদুঘর, বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবারিয়াম (বিএনএইচ) বৈলামকে দেশের ৪৪৬টি হুমকির মুখে থাকা উদ্ভিদের একটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। আর এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বন উজাড় এবং অতিরিক্ত জ্বালানি কাঠ আহরণের মত পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ডকে।
বিএনএইচ-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, বিপন্ন বৈলাম গাছ সংরক্ষণ নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি প্রজাতিরই বেঁচে থাকার অধিকার আছে।
তিনি আরও বলেন, “পাহাড়ি বন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বৈলাম । পাশাপাশি এর কাঠের অর্থনৈতিক মূল্যও অনেক বেশি।”
সংরক্ষণে ব্যক্তি উদ্যোগের অবদান
বৈলাম সাধারণত চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়ি বনাঞ্চল, এবং কক্সবাজার এলাকায় ছোট ছোট গুচ্ছ আকারে জন্মে।
তবে পলাশের মতে, বৈলাম সমতল এলাকাতেও জন্মাতে পারে-এমন প্রমাণ তিনি পেয়েছেন।
স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে তিনি বৈলাম রোপনের জন্য এমন জায়গা বেছে নিয়েছেন, যা কাঠাল গাছের জন্য উপযোগী। কাঁঠাল গাছ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতার প্রতি সংবেদনশীল। ফলে বৈলামও সেখানে ভালোভাবে টিকে থাকতে পারে, এমন পর্যবেক্ষণ পলাশের।
১৯৯৪ সালে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইএফইএস)-এর অধ্যাপক এম. কামালউদ্দিন তার শিক্ষার্থীদের সতর্ক করেছিলেন যে বৈলাম গাছ একদিন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।
পরবর্তীতে কামালউদ্দিন চট্টগ্রামের হাজারিখিল এলাকা (বর্তমানে একটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য) থেকে বৈলাম বীজ সংগ্রহ করেন। সেগুলোকে চারা করে রোপণ করে দেন ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণেই। সে সময় এই গাছটিকে রক্ষা করার পরিকল্পনা হিসেবে তার এই উদ্যোগটিই ছিলো বৈলামের টিকে থাকার শেষ আশ্রয়।
একই প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক মো. আক্তার হোসেন, যিনি পুরো প্রক্রিয়ায় কামালউদ্দিনের সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলেন, “বৈলামসহ আরও দুটি প্রজাতি সংরক্ষণের উদ্যোগ কামালউদ্দিনই প্রথম নিয়েছিলেন।”
২০০৫ সালে চীনে এক দুর্ঘটনায় কামালউদ্দিনের মৃত্যু হয়। তবে তিনি ক্যাম্পাসে যে বৈলাম গাছগুলো রোপণ করেছিলেন, তার মধ্যে তিনটি এখনো টিকে আছে, এবং এর একটি ফল দেয় প্রতি বছর ।
২০১১ সালে দেশের বাইরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ফিরে আসেন আক্তার হোসেন। এরপর আবার শুরু করেন কামালউদ্দিনের বৈলাম সংরক্ষণ কার্যক্রম। তিনি সারা দেশে জরিপ চালিয়ে কোথায় কোথায় এই গাছ এখনো টিকে আছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার খলিলপাড়ায় একটি ফুলধরা গাছ খুঁজে পান তিনি।

আক্তার হোসেনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ওই এলাকার তৎকালীন বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, তাকে এক বস্তা বৈলাম বীজ পাঠান। আক্তার এসব বীজ দিয়ে বিভিন্ন প্রজনন পদ্ধতিতে সতর্কভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান এবং চারা উৎপাদনের দিকেও গুরুত্ব দেন।
পরে তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট (আইএফইএস) নার্সারিতে যা কামালউদ্দিনের নামে নাম করা, সেখানে কয়েক হাজার বৈলাম চারা উৎপাদন করেন।
এরপর নিজ উদ্যোগে যেসব এলাকায় বেলে দোঁআশ ও পাহাড়ি মাটি রয়েছে, যা বৈলাম গাছের জন্য উপযোগী সেসব এলাকায় এই চারা বিতরণ করেন। এসব জায়গাগুলো হলো সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার।
বাংলাদেশ বন বিভাগ, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফরেস্ট সার্ভিস, ঢাকাভিত্তিক বনায়ন সংস্থা আরণ্যক ফাউন্ডেশন এবং আক্তার হোসেনের কিছু বন্ধু তার এই সংরক্ষণ উদ্যোগে অর্থায়ন, জার্মপ্লাজম সরবরাহ, বিতরণ ও রোপণের মাধ্যমে সহায়তা করেছে।
সিরাজগঞ্জের পলাশের কাজের প্রশংসা করে আক্তার বলেন, “আমি যে কাজ শুরু করেছিলাম, সে তা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সমতল ও পাহাড়- সব জায়গায় এটি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা যেতে পারে, তবে বাস্তবে এটি সব জায়গায় জন্মাবে না”।

বীজ থেকে চারা তোলার বিজ্ঞান
পলাশের ২,০০০টি বীজ থেকে মাত্র ৭৪টি চারা পাওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পেরে আক্তার বলেন, এর কারণ হলো বৈলাম বীজের জীবনীশক্তি খুবই কম।
তার মতে, গাছ থেকে বীজ সংগ্রহের পর, এই বীজ দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বপন করতে হয়। সাত দিন পার হয়ে গেলে বীজ থেকে আর চারা হয় না।
২০২৪ সালের একটি গবেষণায়, যেখানে আক্তার সহকারী গবেষক ছিলেন সেখানে বলা হয়, মাটিতে পোতার আগে বীজকে ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর বাতাসে শুকাতে হয় ১২ ঘণ্টা । এই পদ্ধতিতেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য আসে (৮৪.২%) এবং দ্রুত অঙ্কুরোদ্গম ঘটে।
দুই ডানাযুক্ত বৈলাম বীজ বপনের ক্ষেত্রে আক্তার একটি নির্দিষ্ট কৌশলের কথা জানান: “বপনের আগে ডানাগুলো খুলে ফেলে, তারপর উল্টোভাবে পুতে দিতে হবে, যেখানে ডানার অংশ নিচের দিকে এবং বীজের অগ্রভাগ ওপরে থাকবে।”
আক্তার বলেন, “ বীজ সঠিকভাবে বপন হলেই, শেকড় সরাসরি নিচের দিকে এবং অঙ্কুর ওপরে বৃদ্ধি পায়। এতে চারা কোনো চাপ ছাড়াই সোজাভাবে বেড়ে উঠতে পারে।”
২০১৪ সালে প্রকাশিত তার আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ডানা ছাড়া বৈলাম বীজ উল্টোভাবে আধা-পোঁতা অবস্থায় রাখলে সর্বোচ্চ হারে অঙ্কুরোদ্গম পাওয়া যায়।

সংরক্ষণে অনুসরণীয় বাংলাদেশী মডেল
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিয়ে বৈশ্বিকভাবে কাজ করা প্রতিষ্ঠান আইইউসিএন-এর তথ্য অনুযায়ী, বৈলাম গাছ বাংলাদেশ, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে স্বাভাবিকভাবে জন্মে এবং বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত এই গাছ।
গাছটির বর্তমান সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে আইইউসিএন ২০১৭ সালে একে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। তবে প্রজাতিটির অবস্থা উদ্বেগজনক হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এর সংরক্ষণ কার্যক্রম তেমন সন্তোষজনক নয়।
মালয়েশিয়ার ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর সাবেক বিভাগীয় পরিচালক ও জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ লেং গুয়ান সাও মঙ্গাবে-কে ইমেইলে বলেন, “আমার মনে হয় না দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হুমকির মুখে থাকা এই প্রজাতিটির জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো সংরক্ষণ উদ্যোগ নিতে পেরেছে।”
এই প্রেক্ষাপটে, কিছু বাংলাদেশি বৃক্ষপ্রেমীর উদ্যোগ আশার আলো হিসেবে সামনে আসছে, যা একটি অনুসরণীয় সংরক্ষণ মডেল হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশকে কি, বৈলাম গাছ সংরক্ষণের প্রধান এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা যায়? এ বিষয়ে আক্তার বলেন, “আমি বলব, হ্যাঁ”।
তার মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে কিছু পরিণত বৈলাম গাছ বীজ দিচ্ছে।
আগে এই ‘বিশেষ’ বীজ কেবল নির্দিষ্ট একটি পাহাড়ি অঞ্চল থেকেই সংগ্রহ করা হতো। এখন শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই পরিণত ও চারা গাছ মিলিয়ে প্রায় ২,০০০টি বৈলাম গাছ রয়েছে।
আক্তার বলেন, “তাই এখন আমাদের কাছে এই প্রজাতিটি বৈশ্বিকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে”।
ব্যানার ছবি: বাংলাদেশে জন্মানো প্রায় ৫০০ প্রজাতির গাছের মধ্যে বৈলাম অন্যতম উচু গাছ। ছবি: মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ, ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল।
সাইটেশন:
Hoque Subah, A., Hossain, M. A., Chowdhury, M. I. H., Cynthia, S. A., & Rakib, M. H. (2024). Effects of pre-sowing treatments on seed germination and seedling growth attributes of the endangered (Anisoptera scaphula Roxb.) species. Journal of Agriculture Sustainability and Environment, 3(2), 36–50. doi:10.56556/jase.v3i2.945
Hossain, M., Ferdous, J., Rahman, M., Azad, M. A., Azad, K., Aini, N., Shukor, A. B., Hossain, M., Ab Shukor, N., Ferdous, J., Azad, M., & Rahman, B. (2014). Towards the propagation of a critically endangered tree species Anisoptera scaphula. Dendrobiology, 71, 137–148. doi:10.12657/denbio.071.014