- জীবিকার তাগিদ, দারিদ্র আর সস্তায় বাসস্থানের চাহিদা মেটাতে, বন্যাপ্রবণ এলাকায় বসত গড়তে বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশের প্রান্তিক অনেক মানুষ।
- নতুন বসতি গড়ার চাপে, বন্যা ঠেকানোর প্রাকৃতিক ঢাল ধংস হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে হারিয়ে যাচ্ছে গাছপালা ও নলখাগড়ার বন।
- স্থানীয়ভাবে গাছপালা সংরক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত আবাসন ও কৃষি পদ্ধতিই পারে স্থানীয়দের সুরক্ষা দিতে।
সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ সদর, এখান থেকে একটু বের হলে ধলাই নদীর পাড়ে পথের ধারেই ছোট্ট চায়ের দোকান আর তার মালিক গণি মিয়া। দোকানে বসেই চা খাচ্ছিলেন কয়েকজন, ভেসে আসছিলো টুকটাক আলাপ, আর এতে মাঝে মাঝে যোগ দিচ্ছিলেন গণি মিয়া। তবে বলার ধরন, উচ্চারণ ও ভঙ্গিতে ছিলো ভিন্নতা।
তার সঙ্গে গল্প করতে গিয়েই জানা গেলো, এই ধলাই নদীর ঠিক ওপাড়েই তার বাড়ি। জায়গার নাম রংপুর বস্তি। নামেই কিছুটা আঁচ পাওয়া তিনি স্থানীয় নন। নিজ থেকেই জানালেন, কয়েক বছর ধরেই রংপুর বস্তিতে তার বাস। কাজের খোঁজে এই এলাকায় এসে পরিবারসহ থেকে গেছেন এখানেই। তবে জীবিকা এখানেও সহজ হয়ে ধরা দেয়নি। হঠাৎ বন্যা আর কাজ সংকটে, বউ আর মেয়েদের পাঠিয়ে দেন নারায়ণগঞ্জে। দুজনেই কাজ করছেন পোশাক কারখানায়।
রংপুর বস্তির বেশিরভাগ মানুষই এই জেলার নন। সবার গল্পই কাছাকাছি। কাজের খোঁজে এসে থেকে গেছেন এখানে। তবে লড়াইটা আরো কঠিন হচ্ছে দিনকে দিন।

বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকাগুলোতে আকস্মিক বন্যা সাধারণ ঘটনা। এমনিতেই ভৌগলিক গঠনের কারণে নিচু এলাকাগুলো বছরের প্রায় সাত মাস ডুবে থাকে পানিতে।
প্রতি বর্ষার শুরুতেই ভারতের মেঘালয়ে, হিমালয়ের পাদদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সীমান্ত নদীগুলো ভরে ওঠে। এ সময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা জেলা সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকার হাওরগুলো ভেসে যায় অতিরিক্ত ঢলে। বাড়তি পলি জমার কারণে বন্যাও তীব্র হয়। ডুবে যায় পুরো এলাকা।
একদিকে অতিরিক্ত পলিতে নাব্য সংকট তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বর্ষার নতুন রূপ, অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপ: সব মিলে এই বন্যা স্থানীয় মানুষের ঝুঁকি বাড়িয়ে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে। (২০১৭ সালে প্রকট ছিলো এই সংকট)।
২০২২ সালে একাধিক আকষ্মিক বন্যায় ভেসে যায় রংপুর আর জীবনপুরের মতো নতুন গড়ে ওঠা বস্তিগুলো। যদিও বন্যার এই ধরনের সঙ্গে স্থানীয়রা বেশ পরিচিত, তবে নতুন গড়ে ওঠা এসব গ্রামে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ছিলো নজিরবিহীন।
এই বন্যায় ধলাই নদীর তীরে গড়ে ওঠা গ্রাম, ঘরের পর ঘর বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এছাড়া পুরোপুরি ভেসে যায় কতগুলো। এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখায়, প্রবল বন্যার নির্মম শক্তি যা বন্যাপ্রবণ এলাকাতেও খুব কম দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধ্বংসযজ্ঞ এতোটা তীব্র হতো না যদি এই গ্রামগুলো এসব ঝুকিপূর্ণ এলাকায় গড়ে না উঠতো। এছাড়া এসব বাড়িঘরও কাঠামোগতভাবে এতো দুর্বল ছিলো যে, তা সহসাই ভেঙে পড়ে বন্যার প্রকোপে।

সে সময় বন্যার ভয়াবহতায় নদী পাড়ের বাসিন্দা গণি মিয়ার পরিবারের মত ভুক্তভোগী অনেকেই গ্রাম ছাড়েন। অথচ এক সময় কাজ, এক টুকরো থাকার জায়গা আর নতুন জীবন খুঁজতে এসে, এসব গ্রামেই নতুন ঠিকানা গড়ে তুলেছিলেন তারা। নতুন জীবনপুর নামটিও এসেছে সেই আকাংখার জায়গা থেকে। যেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা এসেছেন ময়মনসিংহ ও নরসিংদী থেকে।
জনবসতির চাপে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক সুরক্ষা
নতুন বসতি স্থাপনের প্রথম ধাপেই থাকে অনাবাদী জমিগুলোকে কৃষিকাজের আওতায় আনা। যেখানে আগে এসব জমিতে ছিলো হিজল (Barringtonia acutangula), করচ (Pongamia pinnata) গাছের জলাবন এবং লম্বা নলখাগড়ার ঝোপ। আর এগুলোই হাওরে আকস্মিক বন্যার স্রোতকে প্রতিরোধ করতো।
সিলেট জেলার রাজাপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়সী ওয়ালিউল্লাহ বলেন, “নলখাগড়ার জমিগুলো এরই মধ্যে চাষের আওতায় চলে এসেছে, ফলে পাহাড় থেকে নামা ঢল কোনো বাধা ছাড়াই নদী তীরবর্তী এলাকায় সহজেই ঢুকে পড়ে। অন্যদিকে যেখানে সেখানে রাস্তা নির্মাণ জলাবদ্ধতা তৈরির অন্যতম কারণ।”
প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করার মতো গাছপালা ও ঝোপঝাড় প্রায় নেই বললেই চলে। প্রবল স্রোতের বন্যা শুধু এসব এলাকা প্লাবিত করেই ক্ষান্ত হয়না, হালকা কাঠামোর টিনের তৈরি ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
২০১৭ সালের একটি গবেষণা বলছে, বন্যার প্রভাব রোধে গাছপালার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, কারণ গাছপালা পলির প্রবাহ ঠেকায়। এছাড়া বনভূমি, কৃষিজমি বা চারণভূমির তুলনায় বেশি পানি শোষণ করতে পারে বা ধরে রাখতে পারে গাছপালা।
গবেষণাটিতে আরো বলা হয়, “পরিবেশগত অবস্থা শুধু দুর্যোগের পরিমাণ ও তীব্রতাকে নয়, বরং প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করে। যা দুর্যোগের প্রভাব কমায় এবং জনগোষ্ঠীকে নানা রকম ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।” এছাড়া বন উজাড়, বন্যার প্রভাব বাড়ায় বলে উল্লেখ করা হয় গবেষণাটিতে।
হাওর অঞ্চল বন উজাড়ের ঝুঁকিতে রয়েছে, যা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিবেশের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়ার আভাস দিচ্ছে। অথচ এই প্রতিবেশ ভারসাম্যই বন্যার সময় প্রাকৃতিক সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। এক সময় হাওরে প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় ও পানিসহিষ্ণু গাছ ছিল, যা প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করত। তবে এখন এগুলো বেশিরভাগ জায়গায় নেই বললেই চলে। ফলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং বাড়ছে পলি প্রবাহ। নদী-জলাশয়ে পলি শুধু সেগুলোকে ভরাটই করে না বরং কাদার স্রোত তৈরি করে, যা সাধারণ বন্যার পানির চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী।

একই গবেষণা আরো বলছে, বনাঞ্চলের মাটিতে পানি শোষণের ক্ষমতা বেশি এবং গাছপালাও পানি ব্যবহার করে অনেকটা। ফলে এসব জায়গায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখা কিংবা কিছু সময়ের জন্য হলেও আটকে রাখতে পারার ক্ষমতা থাকায় এতে পানির প্রবাহ কমে যায়। শেষ পর্যন্ত কমে আসে বন্যার পানির গতি।
এদিকে ২০১৩ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, জনসংখ্যার চাপ আর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের হাওর, বাওড় ও বিল গুরুতর হুমকির মুখে পড়ছে।
জলবায়ু সংকটের তীব্রতা
২০১৮ সালের একটি গবেষণার পূর্বাভাস অনুযায়ী- ২০২০, ২০৫০ ও ২০৮০’র দশকে বর্ষার চূড়ান্ত সময়ে হাওর অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও প্রবাহ যথাক্রমে কমপক্ষে ৪০ মিলিমিটার, ৯০ মিলিমিটার এবং ১৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। মেঘনা নদীর অববাহিকায় বাড়তে পারে মেঘাচ্ছন্নতা। বিশেষ করে মেঘালয়ের ওপর বেশি করে কেন্দ্রীভূত হতে পারে মেঘ, যা হাওর অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও পানিপ্রবাহ আরও বাড়ার আভাস দেয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, “স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পূর্ব হিমালয়ের নদীগুলোতে অতিরিক্ত পানি জমা হবে। যা বাড়াবে বন্যার তীব্রতা।”
এরই মধ্যে বর্ষা মৌসুম দেড় মাস এগিয়ে মে মাসের দিকে শুরু হয়। আগে যেটা জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতো। এদিকে আগস্টে কমে গেছে বৃষ্টিপাত। ফলে প্রাক-বর্ষা মৌসুমের (মার্চ-এপ্রিল-মে) ব্যাপ্তি কম হলেও তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়ছে।
ঠিক এরকম একটা ঘটনা আমরা দেখতে পাই ২০২২ সালে। সেবার মেঘালয়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে একাধিক আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায়। বিধ্বস্ত হয় কয়েক লাখ বাড়িঘর। ভেসে যায় জান মাল।
বন্যার প্রকোপে বাড়ছে গৃহহীনদের সংখ্যা
২০২২ সালের বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার ৯৪ শতাংশ এবং সিলেট জেলার ৮৪ শতাংশেরও বেশি এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বিধ্বস্ত হয় অগণিত বাড়িঘর ও মাঠের ফসল। কোম্পানিগঞ্জেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি।
পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় হিসেবে অনেকেই অস্থায়ীভাবে শহরে চলে যান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেব কাজ শুরু করেন তারা।
নতুন জীবনপুরের হাসিনা বেগমও একজন ভুক্তভোগী। বন্যায় তার বাড়ি হারান। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি ঢাকার কাছাকাছি শিল্পনগরী নারায়নগঞ্জে তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। ৭ ও ৯ বছর বয়সী তার দুই ছেলেও তার সঙ্গী। তারাও কাজ করে সুতা রং করার কারখানায়। হাসিনা বলেন, “ আমার কী করার ছিলো? আমরা সবই হারিয়েছি। এখন অন্তত বাচ্চারাও কিছু টাকা আয় করছে, তা যত কমই হোক।”
তিনি আরও জানান, “আমার পরিকল্পনা কিছু টাকা জমিয়ে আবার বাড়ি বানাবো আমরা।”
এদিকে গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে নতুন ঋণের ফাঁদে পড়ছে। আবার এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই নতুন করে বন্যার মুখে পড়ছে তারা।

বাড়তি মানুষের চাপ ঝুঁকি বাড়াচ্ছে
হাওরাঞ্চলে হঠাৎ বন্যা এবং বন্যা পরবর্তী ব্যবস্থাপনার একই ছবি, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও দেখা যায়। গৃহহীনদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে এমন সব জায়গা বেছে নেয়া হয় বা তারা থাকতে বাধ্য হন, যা আগে থেকেই বন্যা ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, এখন আগের তুলনায় বেশ ঘন ঘন বন্যার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। বাস্তবতা হলো, এখন এমন এলাকায় তারা বসবাস করছেন, যেখানে প্রতি এক বা দুই বছর পরপর বন্যা হওয়ার আশংকা থাকে।
বন্যায় মানুষের ক্ষয়ক্ষতির এই পরিস্থিতির জন্য এসব এলাকায় বসতি নির্মাণ একটি বড় কারণ। এটি মোকাবিলায় স্থানীয়দের পরামর্শ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। টেকসই পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনর্গঠন এবং স্থানীয় গাছপালা সংরক্ষণ উদ্যোগ অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে ক্ষয়ক্ষতি।
রংপুর বস্তির কাছেই কয়েকটি সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ কৌশল বা নকশা অনুসরণীয় হতে পারে। ভবনের মূল স্তম্ভ বানিয়ে অনেকটা উচু করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে এখানে। যা হঠাৎ বন্যা থেকে সুরক্ষা দেয়। দেখা গেছে ২২ এর বন্যায় এসব ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি, অথচ রংপুর বস্তি ভেসে গেছে বন্যায়।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় পাগনার হাওর ও কানাইখালী নদীর আশেপাশে সাতটি করচ বন পরিচর্যা করছে স্থানীয় কমিউনিটি। যা তাদের সুরক্ষা দিয়ে আসছে।
ব্যানার ছবি: হাসিনা বেগম তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, যা ২০২২ সালের বন্যায় বিধ্বস্ত হয়। ছবি: মাসুদ আল মামুন।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ, ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল।
সাইটেশন:
Karim, S. (2017). Understanding High Disaster Risk of Flash Flood in Haor Region of Bangladesh. BIISS Journal, 38(3). 1-24. Retrieved from: https://www.biiss.org/article/understanding-high-disaster-risk-of-flash-flood-in-haor-region-of-bangladesh
Chakraborty, T. (2013). Management of Haors, Baors, and Beels in Bangladesh. In book: Lesson for Lake Basin management. Integrated Lake Basin Management (ILBM). Retrieved from https://www.researchgate.net/publication/383114475_Management_of_Haors_Baors_and_Beels_in_Bangladesh
Gabrysch, S., Waid, J. L., Wendt, A. S., Müller, A. A., Kader, A., & Gosh, U. (2018). Nutritional effects of flooding due to unseasonably early monsoon rainfall in Bangladesh: a cross-sectional study in an ongoing cluster-randomised trial. The Lancet Planetary Health, 2(S3). doi:10.1016/S2542-5196(18)30088-3
Kamruzzaman, M., & Shaw, R. (2018). Flood and Sustainable Agriculture in the Haor Basin of Bangladesh: A Review Paper. Universal Journal of Agricultural Research. Retrieved from https://www.researchgate.net/publication/338764464_Flood_and_Sustainable_Agriculture_in_the_Haor_Basin_of_Bangladesh_A_Review_Paper