- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারে মৌসুমি আয়ের অন্যতম উৎস হলো লবণ চাষ। চলতি বছর এই জেলায় প্রায় ২৭ হাজার ৫২০ হেক্টর (৬৮ হাজার একর) জমিতে, অন্তত ৪০ হাজার কৃষক যুক্ত রয়েছেন লবণ চাষে।
- তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত আবহাওয়া বিশেষ করে বৃষ্টিরপাতের সময় বেড়ে যাওয়া এবং শৈত্যপ্রবাহ লবণ উৎপাদন ব্যহত করছে। ফলে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।
- সাধারণত লবণ উৎপাদন নির্ভর করে- শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র রোদ এবং উচ্চ তাপমাত্রার ওপর। যা লবণাক্ত পানিকে বাষ্পীভূত করে লবণে পরিণত করে।
- বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অভিযোজনমূলক ব্যবস্থা না নিলে পরিবর্তিত আবহাওয়ার কারণে দেশের লবণ উৎপাদন কমে আসবে। এছাড়া দুর্বল হয়ে পড়বে কৃষকদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা।
কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার মৌলবীর গোনা গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন। এ বছর প্রায় ১ দশমিক ২ একর জমিতে লবণ চাষ করেছেন তিনি। এপ্রিলের মাঝামাঝিতে এক রাতের ভারি বৃষ্টিতে তার চাষের জমির প্রায় পুরোটাই ভেসে যায়।
বংশপরম্পরায় লবণ চাষের সঙ্গে যুক্ত নাসিরের মত প্রায় সব লবণ চাষির কাছে এখন নতুন আতংক অসময়ের বৃষ্টি।
নাসির জানান, গত ১৫ এপ্রিলের বৃষ্টিতে তার প্রায় ১৮ মণ লবণ ধুয়ে যায়। পরদিনই দ্রুত মাঠে চলে যান তিনি। জমিতে পড়ে থাকা অবশিষ্ট লবণ, পানি ছেকে সংগ্রহ করতে চেষ্টা করেন নাসির।
যে লবণকে আমরা খাবারের অনুসঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করি সেটি ধবধবে সাদা, তবে লবণের মাঠে এর চেহারা একদম আলাদা। প্রক্রিয়াজাতের আগের অবস্থায় লবণে থাকে প্রচুর বালু আর কাঁদা।
নাসির জানান, “১৬ এপ্রিল লবণ তোলার কথা ছিল। তবে আগের দিনের বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে বেশিরভাগ লবণ।”
এই বৃষ্টি এমন সময়ে হয়েছে, যখন সাধারণত উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।
প্রায় ২৮ বছর ধরে লবণ চাষের সঙ্গে যুক্ত ৫৫ বছর বয়সী নাসির। বলেন, “আগে মার্চ-এপ্রিলে বৃষ্টি হতো না। তবে গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে এই সময়েও বৃষ্টি হচ্ছে, এমনকি শীতকাল ডিসেম্বর-জানুয়ারিতেও।”
এই অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে নাসিরের মতো উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো লবণচাষি এখন একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কারণ বৃষ্টিতে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন।

পরিবর্তিত আবহাওয়ায় সরাসরি ভুগছে কৃষক
লবণচাষ দেশের অন্যতম বড় মৌসুমি আয়ের উৎস। চলতি মৌসুমে কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদগাঁও ও টেকনাফ উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ২৭ হাজার ৫২০ হেক্টর (৬৮ হাজার একর) জমিতে লবণচাষ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন ৪০ হাজারের বেশি কৃষক।
তবে গত কয়েক বছরে অসময়ের বৃষ্টি ও অধিকতর শৈত্যপ্রবাহের মতো অনিশ্চিত আবহাওয়া, লবণ উৎপাদন ব্যাহত করছে। ফলে টিকে থাকতে বংশানুক্রমিক এই পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক কৃষক।
২০২৫ সালের এক গবেষণায় দেশের ওই অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
অঞ্চলটির চারটি আবহাওয়া কেন্দ্রের ৩০ বছরের বেশি সময়ের জলবায়ু তথ্যের ভিত্তিতে করা ওই গবেষণায় বলা হয়, মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার প্রবণতা স্থিতিশীল না থাকায় ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এ অঞ্চলের আবহাওয়ার ধরন ।
আবহাওয়ার ধরনসংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, লবণ উৎপাদন মৌসুমে- বৃষ্টিপাত ও শৈত্যপ্রবাহ দুটোই বেড়েছে। ঢাকাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পিপল অ্যান্ড এনভায়রন (CPE)-এর তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন মৌসুমে বৃষ্টির দিনের সংখ্যা ২০২১ সালে ১৬ দিন থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ১৮ দিন, ২০২৩ সালে ২১ দিন এবং ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ২৫ দিনে পৌঁছায়। একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে শৈত্যপ্রবাহের ক্ষেত্রেও। যা ২০২১ সালে ৭ দিন থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ১১ দিন, ২০২৩ সালে হঠাৎ বেড়ে ১৮ দিন এবং পরে ২০২৪ সালে কমে ১২ দিনে নামে। আবহাওয়াবিদরা এটিকে অনিয়মিত প্রবণতার প্রতিফলন বলে মনে করেন।
লবণ উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, তীব্র রোদ ও তাপের ওপর নির্ভর করে এই চাষ। শুরুতে কৃষকরা জমি সমান করে এবং কালো পলিথিন বিছিয়ে লবণের মাঠ তৈরি করেন। চারকোণা আকৃতির বেশ কয়েকটি অংশে ভাগ করা হয় মাঠ। ঘেরগুলো ভাগ করা হয় সেখানকার মাটি দিয়ে। এরপর সমুদ্রের পানি জমা করা হয় সেসব ঘেরে। বেশ কয়েক দফায় কাজটি করতে হয় চাষিদের। এভাবে প্রতিটি ধাপে পানির লবণাক্ততা বাড়তে থাকে। শেষ বার পানি জমা করার সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে পানি বাষ্পীভূত হয়ে লবণের স্ফটিক তৈরি হয়। পরে লবণ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয় নির্দিষ্ট গর্তে ।
তবে এখন মৌসুমের শুরুতেই দীর্ঘস্থায়ী কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের মুখে পড়ছেন কৃষকরা। নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ঘন কুয়াশা প্রায়ই বেলা পর্যন্ত লবণের মাঠ ঢেকে রাখে, ফলে সূর্যের আলো বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ধীর হয়ে যায় বাষ্পীভবন। কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে সূর্যের আলো ঠিকমতো পানি শুকাতে না পারায় কমে যাচ্ছে উৎপাদন ।


বাঁশখালীর চানুয়া এলাকার লবণ ক্ষেতে কাজ করেন রাজিব আহমেদ। তিনি বলেন, “শৈত্যপ্রবাহ ও কুয়াশা সূর্যের আলো কমিয়ে দেয়, ফলে কম থাকে তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতাও বেড়ে যায় এ সময়। ফলে বাষ্পীভবন ধীর হয়ে লবণ তৈরিতে সময় লাগে বেশি।”
এদিকে এপ্রিল ও মে মাসে বৃষ্টিও নতুন সংকট তৈরি করছে চাষিদের জন্য। বৃষ্টির পানি ঘেরে ঢুকলে লবণাক্ততা নষ্ট হয়ে যায়। মাঠের পানি সরিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হয় পুরো প্রক্রিয়া। প্রতিবার এই কাজটি করতে হলে একই প্রক্রিয়ায় যেতে হয় কৃষকদের। পানি সরানো, আইল মেরামত, মাটি সমান করা এবং আবার সমুদ্রের পানি ভরা সব মিলিয়ে দ্বিগুন শ্রম আর সময়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় এটি। এতে আবারো তিন থেকে পাঁচ দিন সময় লাগে। একেকবার বৃষ্টিতে কৃষকের প্রায় নষ্ট হয় এক সপ্তাহ।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (BSCIC) লবণ ইউনিটের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ মৌসুমে ৫ থেকে ৮ ডিসেম্বরের টানা বৃষ্টিতে লবণের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ মৌসুমেও ২২ নভেম্বর ও ২৩ ডিসেম্বরের বৃষ্টিতে আবারও উৎপাদন ব্যাহত হয় বলে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
আরেক কৃষক আবছার উদ্দিন ২০০৮ সাল থেকে এই পেশায় আছেন। তিনি বলেন, “সমস্যা শুধু একবারের বৃষ্টি নয়। কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে লবণ উৎপাদনের প্রক্রিয়াও শুরু করতে হয় দেরিতে। আবার বৃষ্টিও বিপত্তি ডেকে আনে উৎপাদনের মাঝপথে, অনেক সময় উৎপাদন বন্ধও করে দিতে হয় এসব কারণে। ফলে পুরো মৌসুমটাই এখন আমাদের জন্য অনিশ্চিত হয়ে গেছে। আমরা প্রতি মৌসুমেই এমন ক্ষতির মুখে পড়ি। আবহাওয়াজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষার কোনো বিকল্প উপায় আমাদের নেই।”
BSCIC লবণ ইউনিটের উপ-মহাব্যবস্থাপক জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে লবণ উৎপাদনের মৌসুমকে আর আগের মতো অনুমান করা যাচ্ছেনা।”
তিনি বলেন, “এখন হঠাৎ বৃষ্টি ও শৈত্যপ্রবাহ হচ্ছে। ফলে এই খাতের মানুষ লবণের দামের চেয়ে আবহাওয়া নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন থাকেন।”
CPE-এর পরিচালক মো. আবদুর রহমান বলেন, “শীতকালীন বৃষ্টি, যা একসময় আমাদের দেশে বিরল ছিল, এখন লবণের মাঠ প্লাবিত করছে এবং ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে কৃষকদের। এছাড়া শৈত্যপ্রবাহও স্ফটিকায়ন প্রক্রিয়া ধীর করছে। কারণ সূর্যের আলো কম হলে বাষ্পীভবন দেরিতে হয়। অন্যদিকে লবণ উৎপাদনের সবচেয়ে উর্বর সময়, এপ্রিলের বৃষ্টিও উৎপাদন ব্যাহত করছে। সব মিলিয়ে এই বিরূপ আবহাওয়ার ধরন লবণখাতের জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠেছে।”

ছোট হয়ে আসছে লবণ মৌসুম, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা
BSCIC-এর তথ্য অনুযায়ী, লবণ উৎপাদনের মৌসুম নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত।
তবে প্রতিষ্ঠানটির মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, আবহাওয়ার এই পরিবর্তন, মৌসুমের পরিসরকে ছোট করে ফেলছে, কমে আসছে লবণ উৎপাদন। ঘূর্ণিঝড়ের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগও লবণ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। ২০২৩ সালে ঘূর্ণিঝড় মকার কারণে মৌসুম ১৭ দিন আগেই শেষ হয়ে যায়।
কক্সবাজার লবণচাষি সমিতির সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, “মৌসুম সাত মাস থেকে কমে ছয় মাস বা সাড়ে পাঁচ মাসে নেমে এসেছে। ফলে কমেছে লবণ উৎপাদনও।”
এদিকে আরো বেশি এলাকা লবণ চাষের আওতায় আসায় মোট উৎপাদন এখনো বাড়ছে বলে জানান ইসলাম। এ কারণে সামগ্রিক উৎপাদন বাড়ছে বলে আমার দেখতে পাই।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চানুয়া এলাকার কৃষক ফরিদুল আলম বলেন, “অসময়ের বৃষ্টি শুধু উৎপাদিত লবণই নষ্ট করে না, বরং উৎপাদন আবার শুরু করতে আমাদের আরও সাত থেকে আট দিন পিছিয়ে দেয়। অর্থাৎ আমরা উৎপাদনের জন্য সময় কম পাচ্ছি।”
প্রতিকূল আবহাওয়া বহু লবণচাষিকে ঋণের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। যদিও তারা ভালো দাম পান, তবু লবণের ক্ষতি ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে বিপুলসংখ্যক কৃষক এখনো ঋণে ডুবে আছেন।
কৃষক নাসির উদ্দিন বলেন, “এটা আমার পারিবারিক পেশা। তাই ক্ষতির মধ্যেও এখনো এই পেশায় পড়ে আছি। তবে এই বোঝা টানতে টানতে আমি এখন ক্লান্ত, ভাবছি ছেড়ে দেব কি না।”
নাসির বলেন, গত চার বছরে ধারাবাহিক ক্ষতির কারণে তিনি এখন প্রায় ২ লাখ টাকা (১ হাজার ৬২৯ ডলার) ঋণের মধ্যে আছেন।
তিনি আরো বলেন, “একবার ক্ষতি হলে আমরা টিকে থাকতে পারি। অথচ সমস্যাটা এমন যে, আমাদের ক্ষতি চলতেই থাকে, বাড়তে থাকে ঋণের বোঝাও।”

BSCIC-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে আবহাওয়াজনিত কারণে অন্তত ২৫ দিন, ২০২২-২৩ এ ২০ দিন, ২০২৩-২৪ এ ২২ দিন এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে সর্বোচ্চ প্রায় ২৭ দিন নষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মৌসুমেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
BSCIC কর্মকর্তারা বলেন, দেশের লবণ উৎপাদন জাতীয় চাহিদার একদম কাছাকাছি। ফলে সামান্য ঘাটতিও সরবরাহ ও বাজারের স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ লাখ ১০ হাজার টন, যেখানে বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টন।
BSCIC লবণ ইউনিটের ভূঁইয়া বলেন, অনিয়মিত আবহাওয়ার প্রকোপে, এই মৌসুমে (২০২৫-২৬) উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ হবে না। দেশের চাহিদা মেটাতে সরকারকে আমদানির পথে যেতে হতে পারে।
কুতুবদিয়ার নাসির বলেন, তার ভেঙে যাওয়া ঘের ঠিক করতে কয়েক দিন সময় লাগবে। অথচ মৌসুম প্রায় শেষ। নাসিরের এই লড়াই এখন আর শুধু লবণ উৎপাদনের নয়, বরং এমন এক মৌসুমের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার, যা আর আগের মতো নেই।
ব্যানার ইমেজ: নিজের মাঠ থেকে শুকনো লবণ সংগ্রহ করছেন এক কৃষক। ছবি: সিফায়াত উল্লাহ, কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল এলাকা থেকে তোলা।
প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ ২০২৬ এর ২০ মে।
সাইটেশন:
Suhan, S. I., & Adhikary, S. K. (2025). Exploring Climate Change Trends in Temperature and Rainfall Across the Southeastern Coastal Area of Bangladesh. Journal of Engineering Science. 15(2), 51–67. doi:10.3329/jes.v15i2.82162