- গ্যাস সংকট, জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। এ সময় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে দেশটিকে।
- নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষুদ্র একটি অংশ। তবে উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের বেশ কয়েকটি এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেখানে দিনের বেলার অধিকাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
- ঢাকার কাছে অবস্থিত ১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে হয়ে গেছে গ্যাসের অভাবে। এর বাইরে দেশে জীবাশ্ব জ্বালানিভিত্তিক আরো কয়েকটি বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রেরও একই অবস্থা। যা আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতাকে সামনে এনেছে।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতার ঝুঁকি কমাতে, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে পারে বাংলাদেশ। তবে পর্যাপ্ত জমি ও নীতিগত সহায়তার অভাবে এই খাতে আশানুরূপ অগ্রগতি হচ্ছেনা।
শুরুটা রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ দিয়ে, এরপর এ বছরের শুরুর দিকে ইরান-আমেরিকা দ্বন্দ্ব, পরপর দুটি যুদ্ধাবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিশ্বব্যাপি জ্বালানি বাজারে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ অনিশ্চয়তা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপসহ বেশ কয়েক ধরনের সংকটে পড়ে বাংলাদেশ।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন আমদানি করা জীবাশ্ব জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এ ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকট দেশের জন্য ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠাই সাধারণ ঘটনা।
তবে শুধু যুদ্ধাবস্থার জন্য নয়, বরং এই সংকটগুলো নিয়ে অনেক আগে থেকেই ভুগছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি উৎপাদন পরিকল্পনার দুর্বলতা এখন স্পষ্ট।
এ অবস্থায় ক্ষুদ্র পরিসর হলেও, বাড়তে থাকা সৌরবিদ্যুৎ খাত বড় পরিসরের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঠেকাতে দেশকে কিছুটা হলেও সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ আমদানি উৎসের মধ্যে ১৬টি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। বর্তমানে গ্যাস ও কয়লা সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে অন্তত ৫২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ।
চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্ল্যান্ট স্থাপন করা সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকা কেন্দ্র এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিচ্ছে পর্যায়ক্রমিক লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট ।
জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে যেখানে জ্বালানি সরবরাহ সংকটে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো দিনের বেলায় অব্যাহত রেখেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
১০ মে প্রকাশিত BPDB-এর এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৯ মে বাংলাদেশ মোট ৩ লাখ ১২ হাজার ৬২০ মেগাওয়াট ঘণ্টা (MWh) বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আমদানি করেছে। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদান ছিল ৫ হাজার ৩৭৭ মেগাওয়াট ঘণ্টা। যেখানে গ্যাস থেকে এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ঘণ্টা এবং কয়লা থেকে আসে ১ লাখ ৫ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ঘণ্টা।
যদিও জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় সৌরবিদ্যুতের অংশ এখনো ক্ষুদ্র তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হয় না তখন এরকম সংকটকালে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
BPDB-র একই প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশ ৩ হাজার ৮৬৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতিতে পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকা ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে আরও ১ হাজার ৬৬৮ মেগাওয়াট উৎপাদন কমেছে। জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বড় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সক্ষমতা অনুযায়ী চালানো যাচ্ছে না।
২০২৬ সালের মে মাসের BPDB তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ৪৩ শতাংশ। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষমতা ৭ হাজার ৭৬৯ মেগাওয়াট (২৬ দশমিক ৯ শতাংশ), এরপর রয়েছে ভারী জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যার সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট (১৯ দশমিক ৫ শতাংশ)।
গ্রিডে আমদানি করা বিদ্যুতের অবদান ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট (৪ শতাংশ)। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে খুবই কম। যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ৭৭৭ মেগাওয়াট (২ দশমিক ৭ শতাংশ), জলবিদ্যুৎ ২৩০ মেগাওয়াট (০ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং বায়ুশক্তি থেকে ৬২ মেগাওয়াট (০ দশমিক ২ শতাংশ) সরবরাহ আসে।

উত্তরাঞ্চলে বাড়ছে সৌরশক্তির ব্যবহার
যদিও বাংলাদেশের সবেচেয় দরিদ্র অঞ্চল রংপুর। তবে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এই এলাকায়।
এই অঞ্চলে বাংলাদেশের কয়েকটি বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে গাইবান্ধার ২০০ মেগাওয়াটের তিস্তা সোলার লিমিটেড, লালমনিরহাট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩০ মেগাওয়াট প্রকল্প এবং তেঁতুলিয়ার মাঝিপাড়ার ৮ মেগাওয়াট প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।
তিস্তা সোলারের প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. সাজিদ জাকির মঙ্গাবে-কে বলেন, কোনো ধরনের জ্বালানি ছাড়াই এই কেন্দ্র প্রতিদিন ১,০০০ থেকে ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
জাকির বলেন, “জাতীয় গ্রিডে আমাদের অবদান এখনো তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্র হলেও জ্বালানি সংকটের সময় এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গ্রীষ্মকালে এসব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র সর্বোচ্চ উৎপাদনে পৌঁছে এবং কখনো কখনো আমাদের কেন্দ্র প্রতি ঘণ্টায় ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।”
তিনি আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে। এছাড়া জ্বালানি সংকটের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল রাখাও যেতে পারে এর মাধ্যমে। জাকিরের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা সোলার জাতীয় গ্রিডে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) বিদ্যুৎ প্রায় ১২ টাকায় (১০ মার্কিন সেন্ট) বিক্রি করে।
BPDB-র বিদ্যুৎ উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, রংপুর অঞ্চলে দিনের বেলার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮৪ শতাংশই আসে সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
গ্যাস সংকটে বন্ধ বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র
ঢাকার সবচেয়ে কাছে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র। বাংলাদেশের অন্যতম বড় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এটি। গ্যাস সংকটের কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কেন্দ্রটির সাতটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১,২০০ মেগাওয়াট।
কেন্দ্রটির চতুর্থ ইউনিটের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল কালাম মঙ্গাবে-কে বলেন, “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায। এই মুহূর্তে গ্যাস সরবরাহ করা হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ৬১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দিতে পারবো।”
তিনি আরও বলেন, “একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে কারিগরি ঝুঁকি তৈরি হয়। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় পুরো কাঠামো প্রায় অকার্যকর হয়ে আছে, যা কেন্দ্রটির জন্য ভবিষ্যতে উৎপাদনে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। এই কেন্দ্রে মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১,২০০ । ”
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশ্বে পিছিয়ে বাংলাদেশ
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (IEEFA)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ। যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ফলে আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা তেমন নেই দেশটির।
প্রতিবেদনে বলা হয়ে, ১০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরো মেয়াদে জ্বালানি তেল আমদানি কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এককালীন আমদানি শুল্কের তুলনায় অন্তত ৩০ গুণের বেশি সাশ্রয় করতে পারে এটি। এজন্য সরকারকে এসব শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানি করতে হচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে এলএনজি আমদানি সহায়তায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিতে হতে পারে বলে এতে অনুমান করা হয়।
IEEFA-এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক এবং গবেষণাটির লেখক শফিকুল আলম মঙ্গাবে-কে বলেন, “সৌরবিদ্যুৎ এখনই পুরোপুরি চাহিদার নূন্যতম বিকল্প হতে পারবে না, তবে জ্বালানি সংকটের সময় গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবে এটি।”
তিনি আরও বলেন, “যেহেতু আমদানি নির্ভরতা নেই, তাই সৌরবিদ্যুৎ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের প্রভাবমুক্ত থাকে। এদিকে পশ্চিম এশিয়ার এই চলমান সংঘাত বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।”
আলম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি নির্ভর করবে বাস্তবসম্মত নীতি ও কার্যকর লক্ষ্যের ওপর। এছাড়া আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি ও ব্যয়বহুল সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, এমন এক সহায়ক ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিতে হবে যা সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়াবে।
“কমিউনিটি ও শিল্পভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনে সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে পারে। আশা করছি, আসছে বাজেটে বাংলাদেশ সরকার এ ধরনের কিছু সুবিধা দেবে,” বলেন আলম।
আলম সারা দেশে ছোট ছোট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেরও প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “দেশের ৬৪টি জেলার প্রতিটিতে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ছোট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এতে সহজেই ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে সারাদেশে।
এছাড়া কমে আসবে জীবাশ্ম জ্বালানি ওপর চাপ। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ওপরও জোর দিতে হবে। তাদের চার্জিং স্টেশনগুলোতে সৌরব্যবস্থা স্থাপন করা উচিত।”
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সরকারের নতুন লক্ষ্য
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও দামের ওঠানামার ঝুঁকিতে রয়েছে দেশটি।
এ পরিস্থিতিতে, সরকার বিশেষ করে কমিউনিটি-ভিত্তিক এবং সরকারি দপ্তরের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আরও বড় পরিসরের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে অগ্রগতি পরিকল্পনার তুলনায় ধীর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে যেমন সুযোগ তৈরি করে, তেমনি সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এ খাতে। বড় পরিসরের প্রকল্পের ক্ষেত্রে উপযুক্ত জমি নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় প্রকিবন্ধকতাগুলোর একটি।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের মাধ্যমে ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
তিনি বলেন, “এই লক্ষ্য অর্জনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
ব্যানার ইমেজ: বাংলাদেশের একটি সৌর প্যানেলের মধ্য দিয়ে দিয়ে তাকিয়ে আছেন এক গ্রামীণ নারী। ছবি: UN Environment Programme/Reza Shariar Rahman via Flickr (CC BY-NC-ND 2.0).
প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ ২০২৬ সালের ২১ মে।