- বিশ্বে ই-বর্জ্য উৎপাদনে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। তবে দেশটির এই খাতের ব্যবস্থাপনা বিধিমালায়, যারা বিধিবহির্ভুতভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করেন স্বীকৃতি নেই তাদের।
- ভারতে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক উদ্যোগ, এই বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করছে। বর্জ্য সংগ্রাহকদের প্রশিক্ষণ দেয়া, পুনর্ব্যবহারকারী (Recycling) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা এবং তুলনামূলক ভালো পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে এসব সংস্থা। তবে এ ধরনের উদ্যোগ এখনো সীমিত এবং বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
- পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ই-বর্জ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও ধাতু রয়েছে। তবে এর বড় একটি অংশ বর্তমানে অনিরাপদ। কারণ দক্ষ হাতে বিধিসম্মতভাবে বিভিন্ন বর্জ্য উপকরণ থেকে ধাতুগুলো দক্ষ হাতে অপসারন (Dismantling) করা সম্ভব হচ্ছে না।
শম্ভু যাদব। বাড়ি উত্তর প্রদেশের মিরাটে। কাজের খোঁজে বাড়ি ছেড়ে চলে যান বহুদূরের এক শহর মহারাষ্ট্রের পুনেতে। নেই কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা, নেই বিশেষ দক্ষতা। শেষ পর্যন্ত বেছে নেন বর্জ্য সংগ্রহের কাজ। যে পেশার ওপর এখন লাখো মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল।
যাদব একজন কাবাড়িওয়ালা অর্থাৎ ভাঙারিওয়ালা বা স্ক্র্যাপ ব্যবসায়ীর অধীনে কাজ করেন। বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য সংগ্রহ করেন তিনি, যা পরে আলাদা করে বাছাই করা হয়। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয় সে সব বাছাই করা মালামাল।
প্রতিদিন এই কাজের জন্য শম্ভু ১০০ থেকে ৫০০ রুপি আয় করতে পারেন। আয় খুব ছোট অংকের হলেও, প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন রুপির একটি বিশাল শিল্পখাতের অংশ শম্ভু।
মূলত ২০০০ সালের শুরু থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য (E-waste) অন্যান্য বর্জ্যপ্রবাহে যুক্ত হতে শুরু করে। এসব পরিত্যক্ত ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি গিয়ে পৌঁছায় ভাঙারি বর্জ্য সংগ্রাহকদের হাতে। নিজেদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে সেগুলো খুলে দামি উপাদান আলাদা করেন তারা।
যাদব যেখানে থাকেন, সেখান থেকে প্রায় ৮৪৫ কিলোমিটার দূরে, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর পদারায়নপুরায়, আরেক বর্জ্য সংগ্রাহক শারভান। পরিত্যক্ত বৈদ্যুতিক তার থেকে খুলে বের করা তামার টুকরো দেখিয়ে তিনি বলেন, “এটা আমাদের কাছে সোনার মতো। এই তামা প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ রুপিতে বিক্রি করা যায়।”
ভারতের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও যাদব ও শারভানের মতো শ্রমিকরা দেশের বিধিসম্মত পুনর্ব্যবহার (রিসাইক্লিং) ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছেন। ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বড় অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, দেশের আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বিপুল পরিমাণ ই-বর্জ্য সামাল দেওয়ার সক্ষমতা নেই।
ফলে ই-বর্জ্যের বিশাল অংশ সংগ্রহ, বাছাই ও প্রাথমিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করার কাজ এখনো যাদব ও শারভানের মতো বর্জ্য সংগ্রাহকদের ওপরই নির্ভরশীল।

অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক ও আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে তুলতে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা (NGO) ও নাগরিক সমাজভিত্তিক সংগঠন কাজ করছে। তবে এসব উদ্যোগকে বড় পরিসরে বিস্তৃত করতে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দরকার।
বর্জ্য সংগ্রাহক বা ভাঙারিওয়ালাদের জন্য বর্জ্য কেনাবেচাই সাধারণত একমাত্র জীবিকার উৎস। যা অনেক ক্ষেত্রে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। বর্জ্য সংগ্রাহক ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে সা’হাস জিরো ওয়েস্ট (Saahas Zero Waste)। প্রতিষ্ঠানটির যুগ্ম পরিচালক রোহান ম্যাসি বলেন, “রাষ্ট্রীয় পরিচয়পত্র, বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রকল্প বা ন্যূনতম মজুরি কর্মসূচির মতো প্রণোদনা অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক ও পুনর্ব্যবহারকারীদের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে সহায়তা করতে পারে।”
যেভাবে চলছে বর্জ্য সংগ্রহ
বিশ্বে ই-বর্জ্য উৎপাদনে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লাখ টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যদিও কিছু হিসাব অনুযায়ী এই পরিমাণ ৩২ লাখ টন পর্যন্ত হতে পারে।
ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (CPCB) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৭ হাজার ২২৬টি ই-বর্জ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিজেদের ব্র্যান্ড নামে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন, বিক্রি বা আমদানি করে তারা।
ভারতের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা অনুযায়ী, উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের অবশ্যই কেন্দ্রীয় পোর্টালে নিবন্ধন থাকতে হবে, সংগ্রহ করতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ই-বর্জ্য। এছাড়া ঠিক করতে হবে পুনর্ব্যবহার লক্ষ্যমাত্রা এবং এ বিষয়ক নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে তাদের। বিধিমালার ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি’ (EPR) ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।
নিবন্ধিত এই ৭০০০-এর বেশি উৎপাদকের জন্য রয়েছে ২৯৫টি অনুমোদিত পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান, যারা ই-বর্জ্য ভেঙে সেখান থেকে ধাতু ও খনিজ সংগ্রহ করে। এছাড়া ৫৩টি পুননির্মাণকারী (Refurbisher) প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি মেরামত ও সংস্কার করে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে তোলে।
তবে সব মিলিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান দেশের মোট উৎপাদিত ই-বর্জ্যের মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করতে পারে।
অন্যদিকে, অনানুষ্ঠানিক খাতের বিস্তৃতি অনেক বেশি এবং তুলনামূলক কম খরচের শ্রমনির্ভর বড় একটি নেটওয়ার্ক। ফলে আনুষ্ঠানিক খাতও ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও বাছাইয়ের জন্য ভাঙারিওয়ালাদের ওপর নির্ভরশীল। তবে EPR ব্যবস্থায় তাদের কোনো জায়গা নেই।
আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সরাসরি কোনো সুবিধা পান না ভাঙারিওয়ালারা। তাই তারা সাধারণত অনানুষ্ঠানিক পুননির্মাণকারীদের কাছেই বর্জ্য বিক্রি করতে পছন্দ করেন। কারণ আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে কাজ করা তাদের কাছে বেশি লাভজনক। এতে কোনো কাগজপত্র বা লেনদেনের রেকর্ড রাখতে হয় না তাদের। গুরুগ্রামভিত্তিক প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি অর্গানাইজেশন (PRO) ‘কারো সম্ভাব’ (Karo Sambhav)-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রাংশু সিংহল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অনানুষ্ঠানিক খাতের ই-বর্জ্য সংগ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করে নিরাপদ ও আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহারের জন্য বর্জ্য সংগ্রহ করে।
তিনি বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ের বর্জ্য সংগ্রাহকরা সাধারণত এড়িয়ে চলেন ডিজিটাল লেনদেন । কারণ প্রতিদিনের বর্জ্য কেনাবেচা নগদ অর্থে হয় এবং বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো জিএসটি-ভিত্তিক লেনদেনের রেকর্ডও থাকে না।”
আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার বাইরে কাজ করার ফলে তারা একদিকে নিজেদের কার্যক্রম গোপন রাখতে পারেন, অন্যদিকে এড়িয়ে যেতে পারেন ব্যাংকিং সংক্রান্ত ব্যয়ও। এছাড়া নগদ লেনদেনের ফলে বর্জ্য কেনা বা বিক্রির সময় নগদ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে হাতে পাওয়া যায়, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুবিধা হিসেবে কাজ করে।

আনুষ্ঠানিক কাঠামোই দিতে পারে টেকসই আয়
দিল্লিভিত্তিক NGO চিন্তন এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন গ্রুপ (Chintan Environmental Research and Action Group) এবং পুনের সামাজিক উদ্যোগ সলিড ওয়েস্ট কালেকশন অ্যান্ড হ্যান্ডলিং (SWACH), বর্জ্য সংগ্রাহক ও ভাঙারিওয়ালাদের সঙ্গে কাজ করছে। এতে আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার আওতায় আনা যাচ্ছে ই-বর্জ্যকে।
সাধারণত বর্জ্য সংগ্রাহকরা কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলোকে কাগজ, প্লাস্টিক, ধাতু এবং ইলেকট্রনিক বর্জ্য- এরকম বিভিন্ন ভাগে আলাদা করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট স্ক্র্যাপ সংগ্রাহক বা আড়তদারদের কাছে বিক্রি করা হয় এগুলো।
চিন্তনের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ভারতী চতুর্বেদী বলেন, “ই-বর্জ্য নিয়ে চিন্তন প্রায় ৪০০ জন বর্জ্য সংগ্রাহকের সঙ্গে কাজ করে। এদের মধ্যে কিছু উদ্যোগী কর্মীকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, যাতে তারা (Aggregator) সবচেয়ে ভালো মালামালগুলো সংগ্রহ করে এক জায়গায় জমা করতে পারেন। অন্য বর্জ্য সংগ্রাহকদের কাছ থেকে বর্জ্য কেনাই হলো এদের কাজ। পরে এসব Aggregator-দের আনুষ্ঠানিক ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বর্জ্য বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এর ফলে একটি আনুষ্ঠানিক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে ওঠে, নিরাপদ পুনর্ব্যবহার নিশ্চিতসহ, বর্জ্য সংগ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয় এ প্রক্রিয়ায়। এভাবে তাদের আয় প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।”
তিন বছর ধরে চিন্তনের সঙ্গে যুক্ত বর্জ্য সংগ্রাহক রহিম মণ্ডল। তিনিও আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বেশি আয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, “আগে চার্জার, এলইডি বাল্ব, কিবোর্ডসহ বিভিন্ন ধরনের ই-বর্জ্য মিশিয়ে প্রতি কেজি ৪০ রুপিতে বিক্রি করতাম। এখন চিন্তনের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৬৫ রুপি পাই, ফলে আয়ও বেড়েছে।”
পুনেতে SWACH-এর মাধ্যমে ৪ হাজারেরও বেশি বর্জ্য সংগ্রাহক, সিটি করপোরেশনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছেন। সামাজিক উদ্যোগ ও সমবায়ভিত্তিক এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রাহকরা নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাঠামোর আনুষ্ঠানিক সহযোগী হিসেবে স্বীকৃতি পান। এছাড়া অতিরিক্ত আয়ের জন্য শুকনো কঠিন বর্জ্য পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির অধিকারও পান তারা।
SWACH-এর আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশনস লিড অমোঘ ভোংগালে বলেন, “আমরা শহরের বিভিন্ন জায়গা এবং আবাসিক এলাকায় নিয়মিত ই-বর্জ্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করি। এভাবে সংগ্রহ করা ই-বর্জ্য পরে মহারাষ্ট্র দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (MPCB) অনুমোদিত আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়।”

তবে এ ধরনের উদ্যোগ দেশে এখনো খুবই সীমিত এবং বিচ্ছিন্ন। অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে আইনগত স্বীকৃতি না দেয়াও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। সিংহল বলেন, “EPR বিধিমালায় অনানুষ্ঠানিক ই-বর্জ্য সংগ্রাহকদের অবদানকে সংগ্রহকারী এজেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। এতে পুরো ব্যবস্থাটি আরও শক্তিশালী হবে।” তিনি আরও বলেন, “অফিস ও ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সরাসরি ই-বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন, যেখানে ই-বর্জ্যের উৎস থেকে চূড়ান্ত গন্তব্য পর্যন্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”
মূল্যবান খনিজের উৎস ই-বর্জ্য
স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি, উপযুক্ত সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ছাড়া ই-বর্জ্য খোলা বা প্রক্রিয়াজাত করায়, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান খনিজ ও ধাতু। আর এগুলোর গুরুত্ব বর্তমানে চক্রাকার অর্থনীতিতে (Circular Economy) ক্রমেই বাড়ছে।
ই-বর্জ্য হলো লিথিয়াম ও কোবাল্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং বিরল খনিজের একটি সহজলভ্য উৎস। এসব খনিজ বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ব্যাটারি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরিতে ব্যবহার হয়।
পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী, ভারতের ই-বর্জ্যে প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (৪৭ হাজার কোটি রুপি) মূল্যের মূল্যবান ধাতু ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রয়েছে।
ভারত সরকার এরই মধ্যে একটি ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল মিশন’ চালু করেছে, যার আওতায় ই-বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ৬৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাদের নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের আনুষ্ঠানিক পুনর্ব্যবহার সক্ষমতা বাড়াবে। আবার ই-বর্জ্যের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বিপুল অর্থনৈতিক মূল্যও কাজে লাগানো সম্ভব হবে এর মধ্য দিয়ে।
ব্যানার ছবি: গুরুগ্রামের কারো সম্ভাব (Karo Sambhav) প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-বর্জ্য বাছাই ও শ্রেণিবিন্যাসের কাজ চলছে। ছবি: Karo Sambhav।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে ইন্ডিয়া-তে ২০২৬ সালের ২২মে।