- পৌরসভার পানি ঘাটতি পূরণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল ভারতের মুম্বাই শহর। সাধারণত ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় পানি।
- তবে দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি ব্যবস্থার কারণে, শহরজুড়ে অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
- এদিকে মুম্বাই পৌর করপোরেশন, মিঠি নদীর উজান সংলগ্ন এলাকায় পানির স্তরের ধারনা পেতে একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে মুম্বাইয়ে, পানির টেকসই ব্যবহার ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ভূগর্ভস্থ পানিকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ।
মুম্বাই যখন বর্ষার অপেক্ষায়, তখন শহরে পানি সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে ১০ শতাংশ। সাতটি হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় ১৫ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এই হ্রদগুলো সম্পূর্ণভাবে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় গ্রীষ্মকালে, প্রায়ই পানি সরবরাহে কাটছাঁট করতে হয়।
এ পরিস্থিতির মধ্যে ৭ জুন, মুম্বাই ওয়াটার ট্যাংকার অ্যাসোসিয়েশন (MWTA) ধর্মঘটের ডাক দেয়। দুই দিন পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাডনাভিসের হস্তক্ষেপে প্রত্যাহার করা হয় ধর্মঘটটি।
মুম্বাইয়ে প্রতিদিন আনুমানিক পানির চাহিদা ৪,৬৬৫ মিলিয়ন লিটার (MLD)। বিপরীতে সরবরাহ করা হয়, প্রায় ৪,১০০ মিলিয়ন। ফলে ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ৫৬৫ MLD। বেসরকারি পানির ট্যাংকারগুলো এই ঘাটতি পূরণ করে।
রাজ্য সরকারের জারি করা নোটিশের প্রতিবাদে ট্যাংকার মালিকদের সংগঠনটি ধর্মঘট ডেকেছিল। ওই নোটিশে বলা হয় রিং-ওয়েল ও বোরওয়েল পরিচালনাকারীরা Central Ground Water Authority (CGWA) থেকে নতুন লাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত ট্যাংকারে পানি সরবরাহ বন্ধ রাখবে।
ট্যাংকার মালিকদের এই আন্দোলন দুটি বড় সমস্যা সামনে নিয়ে আসে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর মুম্বাইয়ের ব্যাপক নির্ভরতা এবং এর উত্তোলনের ক্ষেত্রে সীমিত নজরদারি এখন স্পষ্ট।
ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে কাজ করা অধিকারকর্মী সুরেশ কুমার ধোকা বলেন, “বাণিজ্যিকভাবে পানি বিক্রির জন্য মুম্বাইয়ে ১৭ হাজার ৩৬৪টির বেশি কূপ রয়েছে।” তথ্য অধিকার আইনের (RTI) আওতায় পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি এ কথা বলেন। ২০১৫ সালে, সব বাণিজ্যিক ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহারকারীর জন্য CGWA থেকে অনাপত্তিপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করে কর্তৃপক্ষ। তবে ২০২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ৬১৯টি কূপ অনাপত্তি পত্র পেয়েছে। অনাপত্তি পত্র পাওয়া বেশিরভাগ কূপ বোরওয়েল।
চলতি বছরের শুরুতে ধোকার দায়ের করা একটি অভিযোগের পর, মুম্বাইয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপ-শহরগুলোতে শত শত কূপের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়। কর্মকর্তারা জানান, আর/সি কেন্দ্রিয় বিভাগ ২৭টি কূপ ও বোরওয়েল CGWA-এর অনাপত্তিপত্র ছাড়াই ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছিল।
অনাপত্তিপত্র ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা এ সংক্রান্ত বিধিমালার লঙ্ঘন। Environment Protection Act, 1986 অনুযায়ী এটি জরিমানা বা দণ্ডযোগ্য অপরাধ।

পানি ট্যাংকার মালিকদের সংগঠনের সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর, তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন শিবসেনা নেতা আদিত্য ঠাকরে। ৯ জুন ভারতের কেন্দ্রিয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটেলকে লেখা এক চিঠিতে, তিনি মুম্বাই ও অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ শহরের জন্য CGWA-এর নীতিমালা সংশোধনের আহ্বান জানান। এসব নীতিমালাকে পানি উত্তোলনের ক্ষেত্রে “অবাস্তব এবং অত্যন্ত সীমাবদ্ধতামূলক” বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা
ঐতিহাসিকভাবে, পানি সরবরাহের জন্য কূপ ও ট্যাংক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল মুম্বাই। তবে ১৮৬০ সালে ভিহার পানি প্রকল্প চালু হওয়ার মাধ্যমে সরকারি বাঁধ, পাইপলাইন ও জলাধারভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়ে শহরটি। বর্তমানে মুম্বাই সাতটি হ্রদ থেকে পানি সংগ্রহ করে। এর মধ্যে শহরে রয়েছে তুলসি ও ভিহার। এর বাইরে পালঘর, থানে ও নাসিক জেলায় অবস্থিত আরও পাঁচটি হ্রদ।
এত বিস্তৃত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও শহরটিতে প্রায় ৫৬৫ MLD পানির ঘাটতি রয়েছে। যা বেসরকারি পানির ট্যাংকারের মাধ্যমে পূরণ করা হয়। মুম্বাই ওয়াটার ট্যাংকার অ্যাসোসিয়েশনের (MWTA) মুখপাত্র অঙ্কুর শর্মা বলেন, “মুম্বাইয়ে মোট পানির ট্যাংকার মালিকের সংখ্যা ৫০০। এদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় ২,১০০টি পানির ট্যাংকার। আমরা প্রতিদিন মুম্বাইয়ে প্রায় ৫৫০ MLD পানি সরবরাহ করি।”
এসব ট্যাংকার মূলত নির্মাণকাজ, শপিং মল, হোটেল, আবাসন সমিতি এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য পানি সরবরাহ করে। তবে এই পানি পানযোগ্য নয়। এমন ট্যাংকার মালিকরা কিছু পানি গ্রেটার মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (BMC) থেকে কিনলেও, মূলত বোরওয়েলের মাধ্যমে উত্তোলিত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি শুধু লাইসেন্স লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ‘পানি হক সমিতি’র আহ্বায়ক এবং পানি অধিকারকর্মী সীতারাম শেলার দাবি করেন, ট্যাংকার পরিচালনাকারীরা প্রায়ই যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বেশি, সেখানে ছোট ছোট জমি কিনে বোরওয়েল স্থাপন করে পানি উত্তোলন করে। তার দাবি, মুম্বাইয়ের প্রায় প্রতিটি আবাসন সমিতিতে অন্তত একটি করে বোরওয়েল রয়েছে।
এদিকে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ওপর নজরদারি খুবই দুর্বল। মহারাষ্ট্রে ভূগর্ভস্থ পানির গুণগত মান নিয়ে কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ পানি বোর্ডের (CGWB) এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুম্বাইয়ে কোনো বোরওয়েল নিয়ে পর্যবেক্ষণ নেই। আর মুম্বাই শহরে ৬টি কূপ রয়েছে ও উপশহর এলাকায় রয়েছে ১৯টি। শেলার এটিকে একটি “পরিকল্পিত তথ্য ঘাটতি” বলে মনে করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বোরওয়েল খননকারী ঠিকাদার, আবাসন সমিতি এবং অনুমোদন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কিছু কর্মকর্তার মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে। “বোরওয়েল খননকারী, BMC-এর পেস্ট কন্ট্রোল অফিসার (PCO) এবং আবাসন সমিতিগুলো একযোগে কাজ করে। PCO বোরওয়েল খননের অনুমতি দেয়, আর প্রকৌশলীর কাজ হলো প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করা। তবুও প্রায়ই প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই অনেক বোরওয়েল খনন করা হয়। আর PCO আমাদের জানায়, অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করা এসব বোরওয়েলের ওপর নজরদারির ক্ষমতা তাদের নেই।”
পরিবেশ কর্মী জোরু ভাথেনা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বৃদ্ধির আরেকটি কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আগের তুলনায় এখন ভবনের বেজমেন্ট অর্থাৎ মাটির নিচে অন্তত চারতলা গভীর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। এর জন্য নির্মাণস্থল এবং এর আশপাশের এলাকা থেকে নিষ্কাশন করতে হয় পানি। এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একই সময়ে শত শত নতুন নির্মাণকাজের ফলে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।”
মুম্বাইজুড়ে লাগামহীন কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণও, কমিয়ে দিচ্ছে প্রাকৃতিকভাবে পানির পূণর্ভরন (groundwater recharge) প্রক্রিয়া। পানি মাটির ভেতরে প্রবেশের উপযোগী পৃষ্ঠগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এটি ঘটছে বলে দাবি করেন জোরু ভাথেনা। পাশাপাশি দূষণ এবং লোণা পানির অনুপ্রবেশও বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তিনি।

শহরের ভূগর্ভস্থ পানি সংকট নিয়ে MWTA-এর শর্মা বলেন “অবকাঠামো উন্নয়নকে নির্বিচারে অগ্রাধিকার দেয়ায়, শহরে আর কোনো খালি জায়গা প্রায় অবশিষ্ট নেই। এসব উন্নয়নের ওপর কিছু সীমা আরোপ এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদ বোঝা ও তা ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব রয়েছে শহরটিতে। ১৯৯৪ সালে মহাদেভ চিতালের নেতৃত্বে গঠিত হয় পানি পরিকল্পনা বিষয়ক একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। বৈজ্ঞানিকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পৌর প্রশাসনের আওতায়, একটি পৃথক ভূ-জলবিদ্যা (Geo Hydrology) ইউনিট গঠনের সুপারিশ করেছিল তারা। তবে গ্রেটার মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন এখনো এমন কোনো ইউনিট গঠন করেনি।
২০১৭ সালে Groundwater Surveys and Development Agency (GSDA)-কে মুম্বাইয়ের ভূগর্ভস্থ পানির পরিস্থিতি মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তারা Central Ground Water Board-এর সঙ্গে বছরব্যাপী একটি মূল্যায়ন পরিচালনা বিষয়ে আলোচনা করেন এবং BMC-এর কাছ থেকে তথ্যও চান তারা। তবে ধোকার দাবি, পরিকল্পনার পর্যায় পেরিয়ে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি।
পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ এবং Ashoka Trust for Research in Ecology and the Environment (ATREE)-এর ফেলো সচিন তিওয়ালে বলেন, “পানি সরবরাহ বিভাগে মূলত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের প্রাধান্য রয়েছে। তারা প্রধানত ভূ-উপরিভাগের পানি সম্পদের উন্নয়ন, পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দিকেই মনোযোগ দেন। অথচ টেকসইভাবে ভূগর্ভস্থ পানিসম্পদের পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য অ্যাকুইফার বুঝতে ও মানচিত্রায়ন করতে সক্ষম হাইড্রোজিওলজিস্টদের প্রয়োজন রয়েছে।” ATREE পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি অলাভজনক সংস্থা।
ভুগর্ভস্থ পানির স্তর চিহ্নিতকরন প্রকল্প
২০২৫ সালের মে মাসে BMC মিঠি নদীর উজানে তাদের প্রথম পানির স্তর চিহ্নিতকরন বিষয়ক পরীক্ষামূলক প্রকল্প চালু করে। এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো মুম্বাইয়ের পানি সহনশীলতা ও জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবস্থাপনাকে অন্তর্ভুক্ত করা।
ডব্লিউআরআই ইন্ডিয়ার (WRI India) টেকসই নগর (Sustainable Cities) কর্মসূচির, নগর উন্নয়ন ও সহনশীলতা বিভাগের (Urban Development and Resilience) প্রধান দীপ্তি তালপাড়ে ব্যাখ্যা করে বলেন, “উজান সংলগ্ন এলাকা কৌশলগতভাবে বেছে নেওয়া হয়। ঝর্না ও পানি নির্গমন অঞ্চল (discharge zone) সহজে শনাক্ত করাই এর প্রধান কারণ । যা অ্যাকুইফারে পানির প্রবাহের ধরন নির্ধারণে সহায়তা করে।” তিনি বলেন, অ্যাকুইফার হলো ভূগর্ভস্থ ভূতাত্ত্বিক গঠন, যা ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ও প্রবাহতে সাহায্য করে।
পুনেভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড সেন্টার ফর ওয়াটার রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের (ACWADAM)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং হাইড্রোজিওলজিস্ট হিমাংশু কুলকার্নি বলেন, “ভূগর্ভস্থ পানি চোখে দেখা যায় না, তাই এটিকে সহজেই উপেক্ষা করা হয়। অ্যাকুইফার নিয়ে গবেষণা ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে কোনো গবেষণাই পূর্ণাঙ্গ নয়।” তিনি আরও বলেন, “অ্যাকুইফার নিয়ে গবেষণা করলে ভূগর্ভস্থ পানি সম্পর্কে পুরো দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যাবে, কারণ তখন মনোযোগ কেবল পানির উৎসে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং বৃহত্তর ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থা এবং ভূ-উপরিভাগের জলাশয়গুলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক খুঁজে পাবেন আপনি।”

মুম্বাই পৌর করপোরেশন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের অধীনে ডব্লিউআরআই ইন্ডিয়া (WRI India), এসিডব্লিউএডিএএম (ACWADAM) এবং পানি হক সমিতির (Pani Haq Samiti) সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এই কাজ ভারতের জাতীয় অ্যাকুইফার মানচিত্রায়ন কর্মসূচির (National Aquifer Mapping Programme) সঙ্গেও মানানসই। এক বছরব্যাপী এই কার্যক্রম এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মুম্বাইয়ের ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাকে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারে। তালপাড়ে জানান, কেন্দ্রিয় ভূগর্ভস্থ পানি বোর্ড (CGWB) মুম্বাই মেট্রোপলিটন অঞ্চলজুড়ে (MMR) গ্রামীণ এলাকায় বড় পরিসরে জরিপ পরিচালনা করেছে। তবে শহরভিত্তিক বিস্তারিত হাইড্রোজিওলজিক্যাল মূল্যায়ন এখনো সীমিত।
মুম্বাইয়ের জন্য অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা হলো ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থার ওপর সমুদ্রের পানির প্রভাব। কুলকার্নি বলেন, “বৈজ্ঞানিক তথ্য তৈরি করাই পুরো কাজ নয়। বিভিন্ন অংশীজনের কাছে এই তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সেগুলোকে নীতি ও বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করাও সমানভাবে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্বেগ ও জ্ঞানকেও গুরুত্ব দিতে হবে।”
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু উন্নত তথ্যভান্ডার তৈরি করলেই মুম্বাইয়ের ভূগর্ভস্থ পানির সংকট সমাধান হবে, এমনও নয়। ধোকা বলেন, শহরজুড়ে অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও অনুমোদনহীন ট্যাংকার কার্যক্রম এখনো প্রকাশ্যেই চলছে। “কঠোর নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি ও আইন প্রয়োগ ছাড়া, পানি স্তর চিহ্নিতকরন কার্যক্রমও ভূগর্ভস্থ পানি সম্পদকে রক্ষা করতে পারবে না।”
ব্যানার ছবি:মুম্বাইয়ে প্রতিদিন কূপ থেকে পানি সংগ্রহ আর কাপড় ধোয়াধুয়ির সাধারণ দৃশ্য। ছবি: AP Photo/Rafiq Maqbool।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে ইন্ডিয়া-তে ২০২৬ সালের ১২ জুন।