- মহেশখালী উপজেলাকে তিনটি শিল্পাঞ্চলে ভাগ করে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর আওতায় রয়েছে, ১৩ গিগাওয়াট ক্ষমতার এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে একটি জ্বালানি কেন্দ্র (Hub)। পাশাপাশি কনটেইনার ও বহুমুখী টার্মিনালসহ গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার কথা রয়েছে সরকারের।
- এসব উন্নয়ন কাজের জন্য মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৩৭,০০০ হেক্টর জমি প্রয়োজন। এই পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে রয়েছেন ৭,৭০,০০০-এর বেশি স্থানীয় বাসিন্দা।
- কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে ২,৮২০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এক সময় এসব জমিতে লবণ উৎপাদন ও মাছ চাষ হতো। এছা্ড়া চিংড়ি ঘেরও ছিলো এসব জায়গায়। জমি অধিগ্রহণের কারণে, এরই মধ্যে নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে হয়েছে অন্তত ২০,০০০ মানুষকে।
- বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর নির্মাণের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৯০,০০০-এর বেশি মানুষ। জীবিকা হারিয়ে এদের অনেকেই এখন কাজের সন্ধানে অবৈধ পথে পূর্ব পাড়ি জমাচ্ছেন এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে তাদের জীবন।
১৭ কোটি মানুষের এই বাংলাদেশে প্রতি বছর ঈদ আসে আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ্য হয়ে। তবে মুহাম্মদ গুরা মিয়ার কাছে দিনটি এখন শুধুই বিষাদ ও শোকের। ২০২৫ সালে এক ঈদের দিন তার একমাত্র ছেলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। আর ফিরে আসেননি।
৬৫ বছর বয়সী গুরা মিয়ার বাড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের মহেশখালীতে। ছেলেকে হারিয়ে চরম উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষায় দিন কাটছে তার।
গুরা মিয়া জানান, “ছেলেটিই ছিলো আমার একমাত্র আশা ও ভরসা। সে কোথায় আছে, বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে, কিছুই জানি না।”
এমন পরিণতি শুধু গুরা মিয়ার একার নয়। কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাতে গিয়ে নিখোঁজ বা মারা গেছেন, এমন আরও অনেক পরিবারই রয়েছে। তাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছে মঙ্গাবে।
২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় একটি ছোট নৌকা । যাত্রীদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও ছিলেন। তাদের মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয় মাত্র ৯ জনকে। বাকিরা এখনও নিখোঁজ।
জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প, বন্দর ও পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের কারণে উপকূলীয় এলাকার মানুষের পূর্ব-পুরুষের পেশা আজ হুমকির মুখে। যার সরাসরি ভুক্তভোগী হচ্ছেন তরুণরা। অদক্ষ তরুণরা ছোট নৌকায় পাড়ি দিচ্ছেন বঙ্গোপসাগর। অবৈধভাবে বিদেশ যেতেই বেছে নিচ্ছেন এই বিপজ্জনক পথ।
বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগর হয়ে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত অভিবাসনের ওপর এক গবেষণা থেকে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কক্সবাজার।


একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, একটি বন্দর এবং দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) টার্মিনাল নিয়ে এই সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ। এর আংশিক বাস্তবায়নের ফলে, এরই মধ্যে ২০,০০০ বাসিন্দা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। চাষের জমিগুলো পরিণত হয়েছে শিল্প প্লটে। ফলে হাজার হাজার লবণ ও চিংড়ি চাষী এখন বেকার।
পরিকল্পিত এই উন্নয়নে, নিজেদের কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছেন না কারিগরী দক্ষতাহীন স্থানীয় তরুণরা। বেকারত্বের কারণে, তারা অবৈধ অভিবাসনের দিকে ঝুঁকছেন। ভালো আয় ও কর্মসংস্থানের প্রলোভনে পড়ে এই পথে হাঁটছেন তরুণরা।
তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার পরিণতি বেশিরভাগ সময় ভয়াবহ। মৃত্যু, মিয়ানমার বা থাইল্যান্ডে কারাবাস, অথবা পাচারকারী ও চোরাকারবারিদের হাতে বন্দিদশার শিকার হন অনেকেই।
উন্নয়ন প্রকল্পের সরাসরি ভুক্তভোগী হাজার হাজার বাসিন্দা
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA)-এর সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ (MIDI)-এর অধীনে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এর কাজ শুরু হয়।
মহেশখালী ও মাতারবাড়ী (মহেশখালী উপজেলার অধীনে) জুড়ে তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রায় ৩৭,০০০ হেক্টর (৯১,৪২৯ একর) জমি প্রয়োজন। এই শিল্পাঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩ গিগাওয়াট ক্ষমতার নতুন এলএনজি ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে একটি এনার্জি হাব। এছাড়া কনটেইনার ও বহুমুখী টার্মিনালসহ একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও রয়েছে এর আওতায়।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত অ্যাকশনএইড-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রথম ধাপের কাজ এরই মধ্যে প্রায় ২০,০০০ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। লবণ উৎপাদন, মাছ চাষ এবং চিংড়ি ঘেরের জন্য ব্যবহৃত ১,১৪১ হেক্টর (২,৮২০ একর) জমি অধিগ্রহণের ফলে এই পরিস্থিতিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
গবেষণাটি থেকে আরও জানা যায়, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কয়লা জেটি এবং গভীর সমুদ্রবন্দর সব মিলিয়ে মাতারবাড়ীর প্রায় ৯০,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আশংকা করা হচ্ছে, মহাপরিকল্পনার অধীনে এই তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ৭,৭০,০০০-এর বেশি স্থানীয় মানুষ ঘরবাড়ি হারাবেন।।

উন্নয়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণের সঙ্গে বাড়ছে বেকারত্ব
মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য একটি প্রতিবেশগত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন (EIA) তৈরি করে জাইকার স্টাডি টিম টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার সার্ভিসেস কোম্পানি লিমিটেড (TEPSCO)। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর মানুষের জীবিকা মূলত লবণ ও চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল।
EIA প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, লবণ ও চিংড়ি ঘেরের জমি অধিগ্রহণের ফলে স্থানীয় পরিবারগুলো জীবিকা হারাতে পারে। এতে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশংকা রয়েছে।
দারিদ্র্যের প্রভাব কমাতে ওই গবেষণায় একটি সুপারিশ করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, দক্ষতা অনুযায়ী নির্মাণস্থল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এক সময় যারা লবণ ও চিংড়ি ঘেরে কাজ করতেন, নির্মাণকাজ চলাকালীন তারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দরে কাজ পেয়েছিলেন। তবে স্থাপনাগুলো চালু হওয়ার পর অনেকেই বেকার হয়ে পড়েন। কারণ, চাষাবাদের জন্য তাদের আর কোনো জমি অবশিষ্ট ছিলো না।
কারিগরী জ্ঞান ও শিক্ষার অভাবে লবণ ও চিংড়ি চাষিদের বেশিরভাগই এসব প্রকল্পের কাজ থেকে বাদ পড়ে যান। যাদের অধিকাংশই ঘরবাড়ি হারা।
EIA প্রতিবেদনে স্থানীয় অদক্ষ শ্রমিকদের কারিগরি কাজের জন্য প্রশিক্ষণের সুপারিশও করা হয়েছিল । জমি অধিগ্রহণের সময় কর্তৃপক্ষ এমন প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আর পূরণ করেনি।
মাতারবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আবু হায়দার জানান, “কর্তৃপক্ষ নারীদের সেলাই এবং পুরুষদের বৃত্তিমূলক ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রাখা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করেছি বেশ কয়েকবার। তবে কার্যকর কোনো সাড়া পাইনি।”

নির্মাণকাজ ও নৌ চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে সম্প্রদায়
উপকূলীয় এই ছোট শহরের নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা শুধু লবণ ও চিংড়ি ঘেরই হারাননি, বঙ্গোপসাগরের অগভীর জলে মাছ ধরার জায়গাও হারিয়েছেন তারা।
মহেশখালী ও মাতারবাড়ী এলাকায় মাছ ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান কোহেলিয়া নদী। এক গবেষণা অনুযায়ী, গভীর সমুদ্রবন্দরের জন্য ড্রেজিং ও নির্মাণকাজের কারণে এই নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এছাড়া কয়লাবাহী জাহাজের চলাচল বেড়ে যাওয়ায়, প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছ ধরার এলাকাগুলোও।
মহেশখালীর জেলে আবদুল মালেক বলেন, “যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দর নির্মাণ করা হয়েছে, এক সময় সেই তীরের কাছাকাছি আমরা প্রচুর মাছ ধরতাম। তবে সম্প্রতি বেশিরভাগ জেলেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।”
এলএনজি স্থাপনাগুলো রক্ষার জন্য অনেক জেলেকে সমুদ্রের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মাছ ধরতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।
মহেশখালীর আরেক জেলে সবুর মিয়া অভিযোগ করেন, “জেলেরা নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ করলে, এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনাকারীরা গরম পানি ছিটিয়ে দেয়। এমনকি মাছ ধরার জালও কেড়ে নেয় তারা।”
শত শত পরিবার এখন দারিদ্র্যে জর্জরিত। কেউ কেউ দিনমজুরের কাজের খোঁজে ছুটছেন দূরের শহরেও। আবার অনেকেই অবৈধভাবে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পৌঁছানোর আশায় সমুদ্র পথে জীবনের ঝুঁকি নিতেও পিছপা হচ্ছেন না।
মহেশখালীর বাসিন্দাদের জীবন ও জীবিকা রক্ষার দাবিতে সোচ্চার সংগঠন মহেশখালী জনসুরক্ষা মঞ্চ। এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মহসিন বলেন, “আমরা এর আগে এখানে এত বেকার মানুষ দেখিনি। এমন দারিদ্র্য ও কাজের অভাবও কখনো চোখে পড়েনি এদিকে।”
বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বন্দরে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। তবে হাজার হাজার বেকার মানুষের তুলনায় এই সংখ্যা খুবই সামান্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মহসিন আরও বলেন “প্রায় ২০,০০০ মানুষ লবণ চাষ, চিংড়ি ঘের এবং মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জমি অধিগ্রহণের পর তাদের বেশিরভাগই হারিয়েছেন জীবিকা ।”


কাজের সন্ধানে জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন তরুণরা
মহেশখালীর ১৯ বছর বয়সী বেকার যুবক তরিকুল ইসলাম। বিদেশে গিয়ে পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন ছিল তার। তবে বঙ্গোপসাগরেই সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে তরিকুলের। এই সাগর পথেই মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টাকালে মিয়ানমারে ধরা পড়েন তিনি। এরপর প্রায় এক বছর কারাবন্দি ছিলেন সেখানে।
দেশে ভালো আয়ের কোনো সুযোগ না দেখে, তিনি অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তার সেই স্বপ্ন পরিণত হয় অকল্পনীয় দুর্দশায়।
২০২৫ সালে ঈদুল ফিতরের দুই দিন পর তিনি এবং একই এলাকার আরও তিন যুবক মালয়েশিয়ার উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন।
তরিকুল বলেন, “পাচারকারীরা প্রথমে আমাদের পায়ে হাঁটিয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যায়। সেখানে আমাদের জিম্মি করে তারা। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য জনপ্রতি ২,০০,০০০ টাকা দাবি করা হয়। আমার বাবা টাকা পাঠান। এরপর আমাদের একটি নৌকায় তুলে সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয় তারা। তবে পথেই নৌকাটি ডুবে যায়।”
তিনি আরও জানান, “তখন থেকেই যাত্রার সবচেয়ে ভয়ানক অংশটি শুরু হয়। থাই নৌবাহিনী আমাদের উদ্ধার করে, মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আগ পর্যন্ত টানা তিন দিন আমরা পানিতে ভেসে ছিলাম।”
এরপর বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আগে মিয়ানমারে আট মাস কারাবাস সহ্য করতে হয় তাকে।

মহেশখালী থেকে সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রে তরিকুল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে কাজের সন্ধানে এমন অনেক যুবকই নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন।
এদের মধ্যে কেউ সমুদ্রে ডুবে গেছেন, কেউ জিম্মি হয়েছেন। আবার এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকেই ।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একটি মানব পাচারকারী চক্র শক্ত ঘাঁটি গেড়েছে ওই এলাকায়। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কারণে জমি হারানো মানুষ ও বেকারদের লক্ষ্য করেই তারা কাজ করছে।
মহেশখালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, “যারা অভিবাসনের জন্য সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন, তারা শুধু এই উপজেলার নন। এই পথ ব্যবহার করছেন দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষও।”
তিনি আরও বলেন, “এই অবৈধ অভিবাসনের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, বেশিরভাগ ভুক্তভোগীর পরিবার স্থানীয় প্রশাসনকে কিছুই জানায় না। তারা পাচারকারীদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখেন। যাতে অন্তত পছন্দের দেশটিতে পৌঁছাতে পারে ভুক্তভোগীটি।”
“তবে মানুষকে এ ধরনের যাত্রা থেকে নিরুৎসাহিত করতে আমরা সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি,” বলেন ইমরান।
ব্যানার ছবি: মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গভীর সমুদ্রবন্দর। ছবি: মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই।
সাইটেশন:
Rahman, A. (2020). A Study on Irregular Migration from Bangladesh to Malaysia through the Bay of Bengal and the Andaman Sea. Otoritas Jurnal Ilmu Pemerintahan, 10(2), 120-131. doi: 10.26618/ojip.v10i2.4640
Jewel, S. A. & Hasan, M. I. (2024). Impacts of Construction Activities on Aquatic Environment: A Case of the Kohelia River, Moheshkhali, Cox’s Bazar. International Information and Engineering Technology Association (IIETA). doi:10.18280/ijei.070116