- এক গবেষণা বলছে হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চল অধ্যুষিত দেশগুলোতে আশংকাজনক হারে বেড়েছে অবৈধ বন্যপ্রাণীর বাণিজ্য। যা ২০১৯ সালের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
- সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের মাংসাশী প্রাণী, হাতি এবং বনরুই।
- গবেষকরা এই সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে বলছেন। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পাচার চক্রের সরবরাহ শৃঙ্খল শনাক্তকরণ এবং প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ানো রোগের ঝুঁকি কমাতে ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
হিমাচল প্রদেশের রোহরু শহর, পাশাপাশি বেশ কিছু অলংকারের দোকান আছে এখানে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের কোনো একদিন অলংকারের দোকানগুলোর সামনে বেশ ভীড়। অন্তত ৪৫ জনের একটি জটলা। তবে কেনাকাটার কোনো বালাই নেই তাদের। কিছুক্ষণ পরই জানা গেলো উদ্দেশ্য। এটি ছিল মূলত বনরক্ষী, নিরাপত্তা কর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল ।
‘অপারেশন ক্লয়িং ব্যাক’ (Operation Clawing Back) নামে এক অভিযানের অংশ হিসেবে দলটির এই এলাকায় আসা। চিতা বাঘের নখ ও দাঁত এবং বিশেষ সংরক্ষিত পাখির পালক দিয়ে তৈরি গয়না জব্দ করাই তাদের উদ্দেশ্য। প্রায় সব দোকানেই তারা অভিযান চালায়। এ রকম বড় ধরনের অভিযান, হিমাচলে বন্যপ্রাণী ও এদের শরীরের বিভিন্ন অংশের বেচা বিক্রির ভয়াবহ চিত্রকে নির্দেশ করে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশ জুড়ে বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা চলছে এবং ২০১৮ ও এর আগের বছরগুলোর তুলনায় ২০১৯ সালে এটি দ্বিগুণ হয়েছে। নেপালের কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ICIMOD) -এর গবেষক বাবর খান এবং কেসাং ওয়াংচুক এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন।
গবেষণাটি বলছে, ভারত ও চীনে পাচার হওয়ার সময় হাজার হাজার বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়। এই অঞ্চলে মাংসাশী জীবিত প্রাণীসহ হাতি, বনরুই এবং বিভিন্ন বিপন্ন প্রাণীর ব্যবসা চলে। এছাড়া এদের শরীরের বিভিন্ন অংশও পাচার করা হয়। বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবৈধ আন্তর্জাতিক কার্যক্রম। চোরাশিকারী এবং পাচারকারীদের কাছে এটি এখনও লাভজনক ব্যবসা হিসেবে রয়ে গেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিকভাবে ১২,০০০-এরও বেশি প্রজাতির প্রাণী ও গাছপালার অবৈধ বাণিজ্য হয়েছে।
জীববৈচিত্র্য এবং পার্বত্য প্রতিবেশের জন্য হুমকি এই বাণিজ্য
হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলটি পশ্চিম থেকে পূর্বে ৩,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিস্তৃত, যা আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মায়ানমার, নেপাল এবং পাকিস্তান-এই আটটি দেশের পুরোটা বা আংশিক অংশ জুড়ে অবস্থিত। এই অঞ্চলটিতে বিশ্বের চারটি বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্যের সম্ভার রয়েছে। এগুলো হলো, হিমালয়, ইন্দো-বার্মা, মধ্য এশিয়ার পর্বতমালা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের পর্বতমালা। যেখানে রেড পান্ডা, শ্বেত চিতা বাঘ, এক শিং বিশিষ্ট গণ্ডার, এশীয় হাতি এবং বেঙ্গল টাইগারের মতো বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীদের আবাসস্থল।

বন্যপ্রাণীর অবৈধ ব্যবসা এবং প্রাণীবাহিত (zoonotic)রোগের মধ্যে একটি যোগসূত্র রয়েছে। বন্যপ্রাণীর মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায় ৭৫ ভাগেরও বেশি মহামারীর উৎস। একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বন্যপ্রাণীর ব্যবসা বিস্তারের সঙ্গে কোভিড-১৯ (COVID-19) মহামারীর সম্পর্ক ছিল। লকডাউনের কারণে আইন প্রয়োগ এবং নজরদারি না থাকায় এই বাণিজ্য বাড়তে থাকে সে সময়। কোভিডেরে প্রভাবে অর্থনৈতিক সংকটের মুখেও পড়ে মানুষ। এছাড়া লকডাউনের কারণে ব্যাহত হয় খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল। এই অবস্থা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ঠেলে দেয় চোরা শিকারের দিকে। গবেষণাটি দেখায়, মহামারী চলাকালীন ভারতে চোরাশিকার ১৫১ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিলো। নেপাল ও বাংলাদেশেও এই ধরণের ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়।
ICIMOD-এর আঞ্চলিক প্রধান বাবর খান বলেন, “এই বাণিজ্য কিংবা চোরাচালান কেবল কয়েকটি প্রজাতির হত্যা, তাদের আবাসস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া বা অন্য জায়গায় পাচার করার বিষয় নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি পার্বত্য প্রতিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি এবং বিপর্যয়। আর এই অবস্থা সমগ্র এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশকে ভীষণ দুর্বল করে। এই বাণিজ্যের সঙ্গে মানুষের অনেক বড় স্বার্থ জড়িত।” খান মঙ্গাবে-কে বলেন পার্বত্য অঞ্চল এবং ভাটির এশিয়ায় বসবাসকারী ১৮০ কোটি (১.৮ বিলিয়ন) মানুষ তাদের জীবিকা, অন্যান্য প্রতিবেশগত সুবিধা এবং পরিষেবার জন্য এই জীববৈচিত্র্যের ওপর নির্ভরশীল।
বন্যপ্রাণী বাণিজ্যের ভোক্তা
গবেষণা অনুযায়ী, এই অবৈধ ব্যবসার প্রধান চালিকাশক্তি হলো বন্যপ্রাণীজাত পণ্যের প্রতি ভোক্তাদের চাহিদা। বন্যপ্রাণীকে বিলাসবহুল ও ফ্যাশন সামগ্রী, বিশেষ খাবার এবং বিদেশি পোষা প্রাণী হিসেবে নিজের সংগ্রহ রাখে অনেকেই। ঐতিহ্যবাহী চীনা ও তিব্বতি ওষুধ এবং লোকজ চিকিৎসার জন্যও চাহিদা বাড়ছে। এসব ওষুধ তৈরিতে বন্যপ্রাণীর বিভিন্ন অংশ বা উপাদান ব্যবহার করা হয়। অলাভজনক সংস্থা ‘স্নো লেপার্ড কনজারভেন্সি ইন্ডিয়া ট্রাস্ট’-এর বন্যপ্রাণী জীববিজ্ঞানী ও পরিচালক সেওয়াং নামগাইল বলেন, “তিব্বতি এবং চীনা ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার জন্য হলেও বন্যপ্রানীর ব্যবহারকে আমরা নিষ্পাপ আচরণ হিসেবে দেখতে পারিনা। এর সূক্ষ্ম দিকগুলো লক্ষ্য করতে হবে আমাদের।” তিনি উল্লেখ করেন যে, হিমালয়ের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি যেমন আয়ুর্বেদেও জৈবিক উপাদান ব্যবহার করা হয় এবং পক্ষপাত এড়িয়ে, সামগ্রিকভাবে ক্ষতির কথা বিবেচনা করে অবশ্যই এই কর্মকাণ্ডকে বিচার করা উচিৎ।
ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে প্রকৃতি থেকে নানান ধরণের প্রজাতি শিকার করা হয়। এই সমীক্ষায় পাচার হওয়া প্রজাতির তালিকায় রয়েছে মাংসাশী প্রাণী, হাতি, বনরুই, কচ্ছপ (testudines), হরিণ (antelopes), সাপ, পাখি, টিকটিকি, উভচর প্রাণী, কাঁকড়া, কীটপতঙ্গ এবং বিভিন্ন গাছপালা। যদিও পাচার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে জীবিতর সংখ্যাই ছিল সবচেয়ে বেশি। আর প্রাণীর শরীরের নমুনা(specimens) হিসেবে , চামড়া, হাতির দাঁতের তৈরি শিল্পকর্ম, আঁশ, শিং, দাঁত, হাড়, নখ, মাংস, খোলস, পিত্তথলি, খুলি, পালক এবং পশমের কথা বলা হয় গবেষণাটিতে।
এই প্রজাতিগুলো পরবর্তীতে সীমান্ত বাণিজ্যের অংশ হয়ে ওঠে। ICIMOD– এর ‘মানুষ ও বন্যপ্রাণী’ সহাবস্থানের ইন্টারভেনশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত কেসাং ওয়াংচুক বলেন, “অবৈধ পণ্যগুলো অরক্ষিত সীমান্ত এবং গিরিপথ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে নজরদারি খুবই দুর্বল। দুর্গম এলাকা এবং জটিল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নজরদারি করা বেশ কঠিন।”


গবেষকদের মতে, হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক বৈষম্যও মানুষকে চোরাশিকারে যুক্ত হতে বাধ্য করে। খান ব্যাখ্যা করেন, “চোরা শিকারিদের আয় কম, বেশির ভাগই দরিদ্র এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী। ফলে এদেরকে সহজেই প্রলোভন দেখিয়ে এই বিশাল ব্যবসায়িক চক্রের ফাঁদে ফেলা যায়। এই ফাঁদে তারা বড় ধরনের ঝুঁকি নেয়, তবে বিনিময়ে পায় খুব সামান্যই, উপরন্তু ধরা পড়ার ভয়তো থাকেই।”
গবেষণা অনুযায়ী, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং দুর্নীতিও এই ব্যবসাকে ত্বরান্বিত করছে। পার্বত্য অঞ্চলের চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া, আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে বাধা তৈরি করে। এছাড়া পাচারকারীরা প্রায়ই প্রত্যন্ত অঞ্চলের চেকপোস্টগুলোতে কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে কাজ উদ্ধার করতে পারে সহজেই। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনের জন্য পর্যাপ্ত কর্মী ও প্রযুক্তির অভাব রয়েছে বলেও উঠে আসে গবেষণায়। খান বলেন, চেকপোস্টে দায়িত্বরত অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা বেশিরভাগ সময় প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় থাকা বন্যপ্রাণীজাত উপাদানগুলো সনাক্ত করতে হিমশিম খান।
অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ব্যবসার পরিধি দেখেও তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলে জানান খান। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বন্যপ্রাণী কেনা-বেচার বাজার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। অনলাইনে ছদ্মনামে তারা এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। এমনকি তারা পণ্যগুলোর ক্ষেত্রেও ছদ্মনাম ও কোড ব্যবহারে করে। লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনে ব্যবহার করে বিশেষ ভাষা।”
দরকার বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা
গবেষণাটি করতে সংশ্লিষ্টরা ২০২২ সালে স্কোপাস (Scopus), গুগল স্কলার (Google Scholar) এবং রিসার্চগেট (ResearchGate)-এ নির্দিষ্ট কিছু কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা (literature review) পরিচালনা করেন। এজন্য তারা ১২৫টি নিবন্ধ বাছাই করেন এবং নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করেন ৯৬টি । এছাড়া ‘কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জার্ড স্পিসিস’ (CITES) এবং ট্রেড রেকর্ডস অ্যানালাইসিস অফ ফ্লোরা অ্যান্ড ফওনা ইন কমার্স’ (TRAFFIC)-এর ডেটাবেস-এর তথ্য নিয়ে, ২০০১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই অঞ্চলের বন্যপ্রাণী ব্যবসা এবং জব্দের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। নামগাইল এই গবেষণাটিকে এই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রিক চিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা একাধিক তথ্যের উৎসের তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব হয়।

তবে এই গবেষণার কিছু দুর্বল দিকও রয়েছে। প্রথমত এটি কেবল ইংরেজি ভাষার প্রকাশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। দ্বিতীয়ত অনুসন্ধানটির (search terms) বিস্তার এতা কম যে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অধ্যুষিত সবকটি দেশের অবস্থা উঠে আসেনি এখানে।
নামগাইল আরও উল্লেখ করেন, প্রতিটি দেশের জন্য আলাদাভাবে অনুসন্ধান করলে আরও সমৃদ্ধ তথ্য পাওয়া যেত। ওয়াংচুক স্বীকার করেন, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের প্রকৃত পরিমাণ, তথ্যে প্রতিফলিত হওয়া পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি, কারণ এই গবেষণাটি মূলত জব্দ করার তথ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলো যা কেবল ধরা পড়া অপরাধগুলোকেই সামনে আনে।
গবেষণাটিতে আইন ও তা প্রয়োগের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরে় এটি। ওয়াংচুক মঙ্গাবে-ইন্ডিয়াকে বলেন, “হিমালয় অঞ্চলের প্রতিটি দেশই জানে, অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য একটি হুমকি। তবে এই ব্যবসার ওপর কঠোর নজরদারি রাখার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা যথেষ্ট জোরালো নয়। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তারা কোনো উদ্যোগ এবং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের জন্য খুব জোরালো আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তও নেয়নি দেশগুলো।” খান জানান, আটটি দক্ষিণ এশীয় দেশের আঞ্চলিক আন্তঃসরকারি বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগকারী সহায়তা সংস্থা ‘সাউথ এশিয়া ওয়াইল্ডলাইফ এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক’ (SAWEN) রয়েছে, তবে এটি যথেষ্ট কার্যকর নয়। তাই এই চ্যালেঞ্জটি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। এজন্য হিন্দুকুশ-হিমালয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। নামগাইল জোর দিয়ে বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমানা পেরিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ভারত ও চীনের মধ্যে এটি ভীষণ দরকার।
চোরাশিকারের কেন্দ্র এবং ব্যবসার পথগুলো চিহ্নিত করতে স্যাটেলাইট ইমেজ এবং জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবহার করে পাচারের সরবরাহ শৃঙ্খলের (supply chain) মানচিত্র তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন ওয়াংচুক। সেই সঙ্গে কোন কোন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও গভীর তদন্তের আহ্বান জানান তিনি। নামগাইল মনে করেন, “ভবিষ্যতে গবেষকরা ‘কিস্টোন প্রজাতি’ (keystone species) এবং হিন্দুকুশ-হিমালয় প্রতিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীদের অবৈধ ব্যবসার ওপর আরো আলোচনা হওয়া দরকার।”
খান জোর দিয়ে বলেন, বন্যপ্রাণীর ব্যবসা প্রাণীবাহিত রোগের জন্য বড় ঝুঁকি। তিনি ২০০৩ সালের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। বলেন, ইলিনয়ের একটি পোষা প্রাণীর দোকানে আফ্রিকার ইঁদুরের একটি চালান আমেরিকায় প্রথমবারের মত এমপক্স (Mpox) প্রাদুর্ভাবের সূত্রপাত করে। অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রাণীবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি একটি ‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) কর্মসূচী গ্রহণের পরামর্শ দেন যা মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ এবং প্রতিবেশকে প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
ব্যানার ইমেজ: নেপালের চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্কে একটি নদীতে গোসল করছে গণ্ডার। ছবি: জিতেন্দ্র রাজ বজ্রাচার্য,(ICIMOD)।
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে মঙ্গাবে ইন্ডিয়া-তে ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল।