- বেঙ্গল টাইগার ও তাদের শিকার প্রাণীর শরীরে কৃমির প্রাদুর্ভাব, সংকটাপন্ন এই প্রজাতির সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশের সুন্দরবনে বাঘের শরীরে এই পরজীবীর সংক্রমণের কথা উঠে আসে এক গবেষণায়।
- পরজীবী সংক্রমণের এই প্রবণতা, বাঘ ও শাবকের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন দক্ষিণ এশিয়ার বন্যপ্রাণী গবেষকরা।
- গবেষণায় বলা হয়, বাঘের আবাসস্থলের কাছে মানুষের বসতি বাড়তে থাকায় বন্য ও গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে কৃমি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
- এ অবস্থায়, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংস্পর্শ কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে সমন্বিতভাবে বন্যপ্রাণীর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
একটি সাধারণ গোলকৃমির দৈর্ঘ্য, গড়ে একটি বেঙ্গল টাইগারের দৈর্ঘ্যের মাত্র ২ দশমিক ৭ শতাংশ। আর ওজনে, ৩০ লাখ ভাগের মাত্র ১ ভাগের সমান।
যদিও এসব পরজীবী বেঙ্গল টাইগারের (Panthera tigris) জন্য এখন পর্যন্ত বড় কোনো হুমকি হয়ে ওঠেনি, তবে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন—নীরব ঘাতক হয়ে উঠতে পারে এদের সংক্রমণ। বিশেষ করে অপুষ্টি, আঘাত বা অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত কোনো বাঘ শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে, তখন কৃমির সংক্রমণ বাঘটির জীবনের ঝুঁকি বাড়ায়।
দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে আনুমানিক ৪ হাজার ৩৬৭টি বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। এর মধ্যে ভারতে ৩ হাজার ৬৮২টি, নেপালে ৪২৯টি, ভুটানে ১৩১টি এবং বাংলাদেশে ১২৫টি বাঘ থাকার কথা বলা হচ্ছে সবশেষ পরিসংখ্যানগুলোতে।
সারাবিশ্বে বেঙ্গল টাইগারকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে উল্লেখ করেছে IUCN। তবে বাংলাদেশে প্রাণীটির অবস্থা আরো নাজুক। তাই একে মহাবিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সুন্দরবনের বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর সংগৃহিত মল, নমুনা হিসেবে বিশ্লেষণ করে বেঙ্গল টাইগারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরজীবী সংক্রমণের হার শনাক্ত করেছেন, একদল বাংলাদেশি গবেষক। বিষয়টি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন তারা। এ বছর জুলাইতে পরজীবী সংক্রান্ত গবেষণাটি প্রকাশ করে বাংলাদেশে বন বিভাগ। গবেষণার বিষয়বস্তু ছাড়াও, এর প্রতিকার ও করনীয় কী হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে এতে।
গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান আহমেদ মঙ্গাবে-কে বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো, ম্যানগ্রোভ বনকে মানুষের হস্তক্ষেপ থেকে দূরে রাখতে হবে।”
বন বিভাগ পরিচালিত গবেষণায় অংশ নেন মোট ৭ জন গবেষক। শুরুতেই ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুই ধাপে বাঘ ও তাদের শিকারী প্রাণীর মলের নমুনা সংগ্রহ করেন তারা।
নমুনা পরীক্ষার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সুন্দরবনের বাঘের মধ্যে কৃমি সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি—৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর রয়েছে হনুমান (Macaca mulatta)—৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ, হরিণ— ৭৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বন্য শূকরে সংক্রমণের হার ৬৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
আণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণে, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত বন্যপ্রাণীদের মধ্যে প্রধান পরজীবী হিসেবে গোলকৃমি (যার মধ্যে রয়েছে Toxocara cati ও Strongyloides spp.), হাইডাটিড কৃমি (Echinococcus granulosus), লিভার ফ্লুক (Opisthorchis clonorchis) এবং ফিতাকৃমি (Spirometra spp.) শনাক্ত হয়েছে।

বন সংলগ্ন বসতির প্রভাব
সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশজুড়ে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, বন থেকে বিভিন্ন পরিবারের বাড়ির গড় দূরত্ব প্রায় ৪৫০ দশমিক ৭ মিটার (১,৪৭৯ ফুট)। তবে মধ্যম দূরত্ব ছিল মাত্র ১০০ মিটার (৩২৮ ফুট)। এতে বোঝা যায়, অনেক বাড়িই বনের প্রান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত।
গবেষণাটিতে বলা হয়, গৃহপালিত প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর কাছাকাছি অবস্থান এবং একই পরিবেশে বসবাসের কারণে এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতিতে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।
২০২৫ সালে প্রকাশিত ভারতের মহারাষ্ট্রের গোড়েওয়াদা এলাকার ওয়াইল্ডলাইফ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারে বাঘের ওপর একই ধরনের গবেষণা পরিচালিত হয়। বেঙ্গল টাইগার ও চিতাবাঘের ওপর পরিচালিত গবেষণাটিতে কয়েক ধরনের কৃমির সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ছিল Sarcocystis spp., Toxocara cati, Spirometra spp. এবং আরেক ধরনের ফিতাকৃমি Diphyllobothrium spp.jcvf।
গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এসব সংক্রমণের কারণে দীর্ঘমেয়াদে অপুষ্টির ঝুঁকিতে পড়বে বাঘ। বিশেষ করে প্রাণীটি যখন নানা ধরনের চাপের মধ্যে থাকে, তখন এই সংক্রমণ তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও সফল প্রজননে প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি বাঘের মৃত্যুর কারণও হয়ে উঠতে পারে এই পরিস্থিতি।
মহারাষ্ট্রের গবেষণাটির তথ্য উল্লেখ করে গবেষকরা বলছেন, বাঘের আবাসস্থল ও বিচরণ ক্ষেত্রের কাছাকাছি মানুষের অনুপ্রবেশ, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বাড়ায়। একদিকে গৃহপালিত প্রাণী ও মানুষের সহাবস্থান, অন্যদিকে সেই গৃহপালিত প্রাণীকে বাঘের খাবার হিসেবে গ্রহণ- পুরো প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে কৃমি সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকিতে পড়ে বাঘ।
ভারতের ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউটের, ওয়াইল্ডলাইফ হেলথ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান পরাগ নিগম। তার পর্যবেক্ষণ হলো, হেলমিন্থ, ফ্লুক এবং টিকের (এক ধরনের ছোট পরজীবী যা প্রাণীর শরীরে লেগে রক্ত খায়) মাধ্যমে ছড়ানো রোগজীবাণুর প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে– গৃহপালিত গরু, মহিষ ও অবাধে ঘুরে বেড়ানো কুকুর। একই চারণভূমি ও পানির উৎস ব্যবহারকারী অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও এসব রোগজীবাণু সহজে ছড়িয়ে পড়ে।
মানুষ ও বন্যপ্রাণী বিচরণক্ষেত্রের সীমান্তে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যে প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পরাগ মঙ্গাবে-কে বলেন, “প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো বাঘের অভয়ারণ্যগুলোর চারপাশে গবাদিপশুর বিচরণ এলাকার সঠিক ব্যবস্থাপনা করা।”
২০২৫ সালে নেপালের চিতওয়ান ন্যাশনাল পার্কের বন্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রে পরজীবী নিয়ে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় একই ধরনের সংকট উঠে আসে। সেখানে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের কাছাকাছি মানুষের বসতি থাকায়, মানুষ থেকে প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে Strongyloides spp. ও Toxocara spp.-এর মতো পরজীবীর ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।
গবেষণাটির অন্যতম লেখক, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের অমৃত ক্যাম্পাসের সহকারী অধ্যাপক এবং নেপাল জুওলজিক্যাল সোসাইটির সদস্য ববিতা মহারাজন। তিনি মঙ্গাবে-কে বলেন, “বন্যপ্রাণী ও গবাদিপশুর মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার কারণে বাঘের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সংক্রমিত গবাদিপশু খাওয়ার মাধ্যমে সরাসরি এবং একই আবাসস্থল ও পানির উৎস ব্যবহারের পাশাপাশি সংক্রমিত শিকার প্রাণীর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আক্রান্ত হতে পারে বাঘ।”
এদিকে ২০১৮ সালে ভুটানে একটি বেঙ্গল টাইগারের দেহে প্রাণঘাতী নিউরোসিস্টিসারকোসিস শনাক্ত হয়। সাধারণত Taenia solium নামের পরজীবীর কারণে প্রাণীটির কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এক ধরনের সংক্রমণ এটি। পরজীবীটি পর্ক টেপওয়ার্ম নামেও পরিচিত। বিড়াল গোত্রের বন্য প্রাণীর মধ্যে এই মানব পরজীবীর সংক্রমণ ছিল প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা। এই সংক্রমণে মৃত্যু হয় বাঘটির।
পরবর্তীতে ২০২১ সালের একটি গবেষণায় বাঘটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা রকম বিশ্লেষণ করা হয়। তবে ঠিক কিভাবে বাঘটি পরজীবীর সংস্পর্শে এসেছিল, গবেষণায় এর পরিস্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।
গবেষণাটিতে বলা হয়, “সম্ভবত মানুষের মল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমে অথবা মানুষের মল দ্বারা দূষিত পানি বা খাবার গ্রহণের মাধ্যমে T. solium-এর সংক্রমণক্ষম ডিম বাঘটির শরীরে প্রবেশ করেছিলো।”
ভুটানের নেচার কনজারভেশন ডিভিশনের ক্যামেরা-ট্র্যাপের একটি গুরুত্বপূর্ন তথ্যও তুলে ধরা হয় গবেষণাটিতে। সেখানে দেখা যায় ওই বাঘটির বিচরণক্ষেত্র বিস্তৃত ছিল ঘনবসতিপূর্ণ থিম্পু শহরের উপকণ্ঠ পর্যন্ত।

কৃমির সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ
বন্যপ্রাণী স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পরাগ বলেন, বেঙ্গল টাইগারের জন্য পরজীবী সংক্রমণ অবশ্যই একটি বাস্তব সমস্যা। তবে বন্যপ্রাণী শিকার, বনভূমি অবক্ষয় এবং শিকার প্রাণীর (বাঘ যেসব প্রাণী খাবার হিসেবে গ্রহণ করে) সংকটই এখন পর্যন্ত এই প্রজাতির প্রধান হুমকি।
“তবে কৃমি সংকটকে একেবারে উপেক্ষা করা যাবে না, কারণ এগুলো ধীরে ধীরে নীরবে বাঘের স্বাস্থ্যের ওপর চাপ তৈরি করে ”— জানান পরাগ।
পরাগ একটু ব্যাখ্যা করেই বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী, পূর্ণবয়স্ক বাঘ সামান্য পরিমাণ পরজীবীর সংক্রমণ সাধারণত তেমন কোনো সমস্যা ছাড়াই মোকাবিলা করতে পারে। যেটি বুড়িয়ে যাওয়া বাঘের জন্য কঠিন। কারণ বয়স হয়ে গেলে এসব অন্ত্রের কৃমি ও টিকের মাধ্যমে ছড়ানো পরজীবী তার শরীরের ওপর বড় ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। একইভাবে সংক্রমণ তীব্র হওয়ার ক্ষেত্রে, আহত হলে বা পর্যাপ্ত খাবার না পেলেও এই ঘটনা ঘটতে পারে।
পরজীবী সংক্রমণের ফলে প্রাণীটি আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। তীব্র রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং কমে আসে বন্য শিকার ধরার সক্ষমতা। দুর্বল বাঘ তখন গ্রামের গবাদিপশুর দিকে ঝুঁকে পড়ে, কারণ সেগুলো শিকার করা তুলনামূলক সহজ। এর ফলে প্রান্তিক এলাকাগুলোতে সরাসরি মানুষ ও বাঘের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়।
শাবক এবং অল্প বয়সী বাঘ নিয়ে পরাগ সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। এছাড়া বিচ্ছিন্ন অভয়ারণ্যগুলোর ক্ষেত্রে কী ঘটে তা নিয়েও শঙ্কিত তিনি।
“বাঘের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে ওঠার আগেই গোলকৃমি ও ফ্লুক সহজেই ছোট শাবককে মেরে ফেলতে পারে। এতে স্থানীয় বাঘের সংখ্যা বাড়ার পথ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে”, মনে করেন পরাগ।
“এছাড়া, বিচ্ছিন্ন এলাকায় যেখানে বাঘের জিনগত বৈচিত্র্য শক্তিশালী নয়, সেখানে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে হঠাৎ কোনো রোগ ছড়িয়ে পড়লে পুরো একটি বাঘের দল একই সময়ে, একই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।”
প্রাণিবিজ্ঞানী ববিতাও সতর্ক করে বলেন, বেঙ্গল টাইগারের জন্য কৃমির সংক্রমণ গুরুতর স্বাস্থ্য ও সংরক্ষণগত উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে কোনো বাঘের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে, আহত হলে, অপুষ্টিতে ভুগলে অথবা অতিরিক্ত মাত্রায় কিংবা একই সময়ে একাধিক পরজীবীর সংস্পর্শে এলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
“একক সংক্রমণের তুলনায় একাধিক পরজীবী সংক্রমণ প্রায়ই বেশি ক্ষতিকর। এগুলো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে এবং প্রাণীকে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার মুহুর্তকে সংবেদনশীল করে তোলে,” বলেন ববিতা।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা
বাংলাদেশের গবেষণাটির অন্যতম লেখক সুলতানের পরামর্শ, সুন্দরবনে বেঙ্গল টাইগার ও তাদের শিকার প্রাণীর মধ্যে পরজীবী এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণের জন্য বন্যপ্রাণী রোগ নজরদারি কর্মসূচি চালু করতে হবে। এজন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুপারিশ করেন তিনি।
ম্যানগ্রোভ বনের আশেপাশে গৃহপালিত প্রাণীর মধ্যে পরজীবী নিয়ন্ত্রণ এবং বন বিভাগের কর্মীদের নিয়মিত বিরতিতে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন সুলতান।
“এছাড়া একটি কেন্দ্রীয় বন্যপ্রাণী রোগ নির্ণয় গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা উচিত,” মনে করেন সুলতান।
পরাগ বলেন, বাঘের মধ্যে পরজীবীর ঝুঁকি কমাতে সরাসরি পশুচিকিৎসা ব্যবস্থার পরিবর্তে পুরো প্রতিবেশ ব্যবস্থাভিত্তিক কৌশল প্রয়োজন।
প্রতি বছর সরেজমিন জরিপের সময় সংগ্রহ করা মল নমুনা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত রোগ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন পরাগ।
পরাগ আরও বলেন, পরজীবীর ঝুঁকি কমাতে পরোক্ষভাবে শিকার প্রাণীর সংখ্যা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি মনে করেন, “পর্যাপ্ত বন্য শিকার থাকলে এবং সহজে শিকার করা গেলে বাঘ শারীরিকভাবে সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবেই স্থানীয়ভাবে থাকা পরজীবীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সহ্য করতে পারে তারা।”
শিকার প্রাণীর সংখ্যা ব্যবস্থাপনার সুবিধা কাজে লাগাতে, তিনি সক্রিয়ভাবে তৃণভূমি ব্যবস্থাপনা এবং জলাশয় রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এতে বন্য তৃণভোজী প্রাণীর সংখ্যা কাঙ্খিত মাত্রায় রাখা যায়। একই সঙ্গে রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এসব প্রাণীর মধ্যে কঠোরভাবে রোগ নজরদারি করাও প্রয়োজন বলে মনে করেন পরাগ। এছাড়া জলজ শামুক ও রোগজীবাণু বহনকারী লার্ভার ঘনত্ব কমাতে পানির স্বাভাবিক ও পরিষ্কার প্রবাহ বজায় রাখাও জরুরি বলে জানান তিনি।
বননির্ভর জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে গবাদিপশু চরানোর পদ্ধতি, স্বাস্থ্যবিধি এবং গবাদিপশুকে নিয়মিত কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতন করাও বাঘের পরিপাকতন্ত্রে পরজীবী সংক্রমণ কমাতে কার্যকার ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান ববিতা।
মহামারিবিদ, প্রতিবেশবিদ, জীববিজ্ঞানী এবং চিকিৎসা ও পশুচিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আন্তঃবিষয়ক সহযোগিতারও সুপারিশ করেছেন তিনি।
ব্যানার ছবি: দক্ষিণ এশিয়ায় আনুমানিক ৪ হাজার ৩৬৭টি বেঙ্গল টাইগার রয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, পরজীবী সংক্রমণ এসব বাঘের জন্য নীরব ঘাতক হয়ে উঠতে পারে। ছবি: Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0).
নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গাবে গ্লোবাল-এ, ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর।
সাইটেশন:
Kolangath, S. M., Upadhye, S. V., Pawshe, M. D., Shalini, A. S., Dhoot, V. M., & Bhangale, P. K. (2025). Parasitic profiling of tigers and leopards of Maharashtra. International Journal of Veterinary Sciences and Animal Husbandry, 10(3), 42–46. doi:10.22271/veterinary.2025.v10.i3a.2107
Maharjan, B., Jain, P., & Koju, N. P. (2025). Zoonotic risks and conservation challenges: Gastrointestinal parasites in wild mammals of Chitwan National Park, Nepal. International Journal for Parasitology: Parasites and Wildlife, 26, 101041. doi:10.1016/j.ijppaw.2025.101041
Phuentshok, Y., Choden, K., Alvarez Rojas, C. A., Deplazes, P., Wangdi, S., Gyeltshen, … Gurung, R. B. (2021). Cerebral cysticercosis in a wild Bengal tiger (Panthera tigris tigris) in Bhutan: A first report in non-domestic felids. International Journal for Parasitology: Parasites and Wildlife, 14, 150–156. doi:10.1016/j.ijppaw.2021.02.003