• ফিচারসমূহ
  • সাম্প্রতিক
  • নিবন্ধসমূহ
  • শর্টস
সাবস্ক্রাইব
  • English
  • Español (Spanish)
  • Français (French)
  • Bahasa Indonesia (Indonesian)
  • Brasil (Portuguese)
  • India (English)
  • हिंदी (Hindi)
  • বাংলা (Bengali)
  • Swahili
  • নিবন্ধসমূহ
  • শর্ট নিউজ
  • ফিচার স্টোরিসমূহ
  • সাম্প্রতিক
  • সব ঘুরে দেখুন
  • মঙ্গাবে সম্পর্কে
  • টিম
  • যোগাযোগ
  • সাবস্ক্রাইব করুন
  • জমাকৃত লেখা
  • গোপনীয়তা নীতি
  • ব্যবহারের শর্তাবলি
  • বিজ্ঞাপন
  • অরণ্যঘেরা মাদাগাস্কার
  • শিশুদের জন্য
  • Mongabay.org
  • বনায়ন অ্যাপ
  • পৃথিবীর স্বাস্থ্য পর্যালোচনা
  • সংরক্ষণের কার্যকারিতা
  • মঙ্গাবে ডেটা স্টুডিও

আইন প্রয়োগের দুর্বলতায় সংকটে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঘ

মঙ্গাবে 6 নভে. 2026

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাঘ শিকার ও পাচারের অভিযোগে কেউ গ্রেপ্তার হলেও,  এদের মধ্যে অর্ধেকেরও কম শেষ পর্যন্ত দোষী সাব্যস্ত হন। অনেক সময় আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখিও হতে হয়না তাদের। ফলে অবৈধ চোরাই বাজার বুনো বাঘকে ঠেলে দিচ্ছে বিলুপ্তির দিকে। আর আইনি পদক্ষেপ কাজে আসছে খুবই সামান্য।

বাঘের বিচরণভূমি হিসেবে পরিচিত সাতটি দেশ ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও লাওস। ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এসব দেশে পাচারকারীদের হাত থেকে  বাঘ উদ্ধারের ২৫৯টি ঘটনা বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা।

কানাডার সংরক্ষণ গবেষণা সংস্থা দ্য গার্ডিয়ান সেন্টার ফর কনজারভেশন রিসার্চ, বন্যপ্রাণী বাণিজ্য পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা TRAFFIC এবং WWF ইন্টারন্যাশনাল যৌথভাবে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই ২৫৯টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১১০টিতে আসামিদের কারাদণ্ড বা জরিমানা হয়েছে।

এছাড়া আরও ৩৫টি মামলায় আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত করে আদালত। অন্যদিকে ৬৩টি মামলায় গ্রেপ্তারের কোনো স্পষ্ট ফলাফল জানা যায়নি, আর বাকি ৪৮টি ঘটনার ক্ষেত্রে কোনো তথ্যই প্রকাশ করা হয়নি জনসমক্ষে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মূলত নিচু ও মাঝারি স্তরের শিকারী, পাচারে জড়িত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপরই বেশি তৎপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। আন্তঃদেশীয় অপরাধ চক্রের পেছনে অর্থ যোগানদাতা শীর্ষ পর্যায়ের হোতাদের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

WWF-এর বাঘ বাণিজ্য বিষয়ক প্রধান ও প্রতিবেদনের সহলেখক হিদার সোল মঙ্গাবে-কে বলেন, “আমরা গুরুতর এক সংঘবদ্ধ অপরাধের কথা বলছি”।

“এগুলো এমন এক ধরনের অপরাধ চক্র, যা মানব পাচার ও অর্থ পাচারের মতো অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গেও জড়িত।”

অপরাধীদের শুধু গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন সোল। তিনি আরও বলেন, “কঠোরভাবে আইনি পদক্ষেপ নিতে হলে যথাযথ তদন্ত এবং তথ্যপ্রমাণসহ মামলা সাজানো প্রয়োজন। আর সমগ্র ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার পুরো প্রক্রিয়ার দিকে নজর দিয়েই আমরা বন্যপ্রাণী পাচারের এই নেটওয়ার্কগুলোকে সত্যিকারের অর্থে গুঁড়িয়ে দিতে পারবো।”

কারাদণ্ড বা জরিমানার মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত করার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া। উভয় দেশেই এমন মামলার সংখ্যা ৫১টি করে। তবে পুরো অঞ্চলে মোট ৩৫টি স্থগিত কারাদণ্ডের  মধ্যে ৩৩টিই ছিল ভিয়েতনামে।

পর্যালোচিত দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে ৩৬টি এবং মালয়েশিয়ায় ৩৫টি গ্রেপ্তারের ঘটনা নথিবদ্ধ ছিলো। তবে এর মধ্যে অপরাধীদের কারাদণ্ড হওয়ার ঘটনা ঘটেছে যথাক্রমে মাত্র ৫টি ও ৯টি ক্ষেত্রে।

কম্বোডিয়া ও লাওসে অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করার নজির মিলেছে মাত্র একটি করে ঘটনায়। অন্যদিকে মিয়ানমারে এমন একটি ঘটনারও তথ্য মেলেনি।

দ্য গার্ডিয়ান সেন্টার ফর কনজারভেশন রিসার্চ-এর নির্বাহী পরিচালক ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক র‍্যাচেল বোরাত্তো। তিনি মঙ্গাবে-কে জানান “অন্য দেশগুলোর কয়েকটিতে আসলে কী ঘটছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সত্যিই কঠিন, কারণ বিচারের বিষয়ে সেখানে কোনো স্বচ্ছতাই নেই।” বোরাত্তো আরও উল্লেখ করেন, কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি না হলে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত আইনগুলো শেষ পর্যন্ত কেবল “কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ”।

বুনো বিড়ালজাতীয় প্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ক অলাভজনক সংস্থা প্যানথেরার পাচার দমন বিষয়ক প্রধান চ্যাস বার্নস জানান, অপরাধের মূল হোতাদের বিচারের আওতায় আনতে না পারলে সংরক্ষণের সার্বিক লক্ষ্যই ভেস্তে যেতে পারে।

“দুর্বল আইন প্রয়োগ কিংবা লঘু শাস্তি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ (সংরক্ষণমূলক) পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে খাটো করে,” মন্তব্য করেন বার্নস । তিনি আরও বলেন, “চক্রগুলোকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় নিচু ও মাঝারি স্তরের অপরাধীদের লক্ষ্য বানানো কার্যকর পথ নয়।”

শন মোব্রের পুরো প্রতিবেদনটি পড়ুন এখানে।

ব্যানার ছবি: ইন্দোনেশিয়ায় সুমাত্রান একটি বাঘ (Panthera tigris sondaica)। ছবি: রেট এ. বাটলার/মঙ্গাবে।

বিপন্ন ভিসায়ান চিত্রা হরিণ রক্ষায় আশা জাগাচ্ছে জিনোম সিকোয়েন্স

মঙ্গাবে 5 নভে. 2026

জিনোম সিকোয়েন্স হলো, কোনো প্রাণীর শারীরিক ও মানসিক বৈশিষ্ঠ্যের মানচিত্র। সে কীভাবে খায়, কীভাবে শিকার করে, কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে, অসুখ-বিসুখ হলে কীভাবে সেরে ওঠে কিংবা তার কি ধরনের অসুখ বিসুখ হওয়ার আশংকা রয়েছে- এই সব কিছুই তার শরীরে কোষের ভেতরের একটা অংক।

বিজ্ঞানীরা যদি মনে করেন রোগ বালাই কিংবা পারিপার্শ্বিকতার কারণে কোনো একটি প্রানী বিলুপ্ত হতে পারে, তবে তার জিনোম সিকোয়েন্স বের করে আগেভাবেই তাকে রক্ষার করার একটা সুযোগ তৈরি করা যায়।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা ফিলিপাইনের বিপন্ন প্রাণী ভিসায়ান চিত্রা হরিণের একটি খসড়া জিনোম সিকোয়েন্স তৈরি করেছেন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুর্লভ এই হরিণের সম্পূর্ণ জিনোম বিন্যাস উন্মোচিত হলো। মঙ্গাবে-র এক প্রতিবেদনে ফ্রিল্যান্স লেখক পিপো কারমোনা জানিয়েছেন, প্রজাতিটিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এই জিনোম কার্যকর একটি রূপরেখা দিতে পারে।

একসময় মধ্য ফিলিপাইনের ৬টি দ্বীপে ভিসায়ান চিত্রা হরিণের (Rusa alfredi) অবাধ বিচরণ ছিলো। তবে নির্বিচারে বন উজার ও চোরাশিকারের কবলে পড়ে এদের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে আসে। এমন বাস্তবতায় ১৯৮৮ সালে বৈশ্বিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা IUCN হরিণটিকে বিপন্ন তালিকাভুক্ত করে। এরপর ২০১৯ সালে ফিলিপাইন সরকারের পক্ষ থেকেও প্রজাতিটিকে জাতীয়ভাবে মহাবিপন্ন ঘোষণা করা হয়। IUCN-এর ২০১৬ সালের সবশেষ গণনা অনুযায়ী, প্রকৃতিতে এই জাতের প্রাপ্তবয়স্ক হরিণ টিকে আছে মাত্র প্রায় ৭০০টি । বর্তমানে কেবল নেগ্রোস ও পানায় দ্বীপেই এদের বিচরণ সীমাবদ্ধ।

হরিণটির সার্বিক জিনগত স্বাস্থ্য যাচাই করতে যৌথভাবে এর DNA ম্যাপিং করেছেন সিলিম্যান ইউনিভার্সিটি এবং ফিলিপাইন জিনোম সেন্টার ভিসায়ান-এর গবেষকরা। প্রজাতিটির জিনগত অবস্থা নিরূপণই ছিলো তাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

গবেষণার জন্য খাঁচায় বন্দি ‘আব্রাহাম’ নামের একটি ভিসায়ান চিত্রা হরিণের টিস্যুর নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। সিলিম্যান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ট্রপিক্যাল কনজারভেশন স্টাডিজ (CENTROP)-এ আব্রাহাম বড় হয় এবং মারা যায় সেখানেই। সিকোয়েন্স সম্পন্ন হওয়া জিনোমটিতে ২.৫ বিলিয়ন DNA লেটার এবং ২৪,৫৩১টি জিনের সন্ধান মিলেছে। ফিলিপাইনের কোনো বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের এমন নজির এটিই প্রথম।

হরিণগুলোর মধ্যে এখনও কতটা জিনগত বৈচিত্র্য টিকে আছে তা জানতে চেয়েছিলেন সিলিম্যান ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী পার্সি মার্ক সিয়েনেস। ভবিষ্যৎ প্রজনন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাতে সক্ষম কোনো জিনগত রূপান্তর কারও মধ্যে অবশিষ্ট রয়েছে কি না, তা জানাই ছিল তার লক্ষ্য। সেজন্য তিনি পুরো জিনোমটি স্ক্যান করেন এবং এমন একটি জেনেটিক মার্কার শনাক্ত করতে সমর্থ হন, যা হরিণের ওই গোষ্ঠীটির জিনগত স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে পারবে।

“আমরা একটি বিরল অ্যালিল শনাক্ত করেছি যা এখানকার কেবল একটি প্রাণীর মধ্যেই পাওয়া গেছে, এবং সৌভাগ্যবশত প্রাণীটি এখনও প্রজননে সক্ষম,” বলেন সিয়েনেস।

সিলিম্যান ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী রবার্ট গুইনো-ও জানান, CENTROP-এর প্রজনন কর্মসূচিকে ঢেলে সাজাতে এই অনুসন্ধানটি খুব কার্যকর একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। “আমরা একটি জিনোম-ভিত্তিক প্রজনন পদ্ধতি অনুসরণ করছি,” উল্লেখ করেন গুইনো-ও। এই উদ্যোগ বংশধারা অনুসরণের সনাতন পদ্ধতির জায়গা পুরোপুরি নেবে বলে মনে করেন তিনি।

গবেষকদের অভিমত, সামগ্রিক জিনগত বৈচিত্র্য বাড়াতে CENTROP-এর সঙ্গে অন্য ২টি প্রজনন কেন্দ্রের হরিণ বিনিময় কর্মসূচি আবার চালু করা দরকার।

খাঁচায় বন্দি ও বুনো পরিবেশের হরিণদের মধ্যকার জিনগত ব্যবধান কমিয়ে আনার ব্যাপারেও আশাবাদী গবেষক দল। সেজন্য উভয় দলের সদস্যদের মধ্যে মিলনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে চান তারা। নেগ্রোস দ্বীপের বায়ওয়ান নেচার রিজার্ভে এই অভিনব পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সংরক্ষিত এই বনাঞ্চলের আয়তন ৩০০ হেক্টর (৭৪১ একর), যেখানে বর্তমানে ৭০টি হরিণের আবাস।

পিপো কারমোনার মূল প্রতিবেদনটি বিস্তারিত পড়ুন এখানে।

ব্যানার ছবি: সিলিম্যান ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ট্রপিক্যাল কনজারভেশন স্টাডিজে একটি ভিসায়ান চিত্রা হরিণ। ছবি: পিপো কারমোনা।

বানরজাতীয় প্রাণীদের সুরক্ষা বলয়ে বাঁচবে আরও অসংখ্য প্রজাতি

মঙ্গাবে 4 নভে. 2026

সারাবিশ্বে যখন জীববৈচিত্র্য দ্রুত কমে আসছে তখন সংকট মোকাবিলায় সংরক্ষণের এক নতুন কৌশলের ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। কৌশলটি হলো বানর জাতীয় প্রাণীদের (প্রাইমেট) আবাসস্থল সুরক্ষিত করা। এর মধ্য দিয়ে তাদের পাশাপাশি আরও অসংখ্য প্রজাতিকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন গবেষকরা।

দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে বাঘ কিংবা জায়ান্ট পান্ডার মতো আমব্রেলা প্রজাতিগুলোই মূলত অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। এর পেছনে যুক্তি ছিলো, এসব প্রাণীর টিকে থাকার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সুবিশাল বিচরণক্ষেত্র রক্ষা করতে পারলে সুরক্ষা পাবে একই প্রতিবেশের অন্যান্য বন্যপ্রাণীও।

সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, বানর জাতীয় প্রাণী যেমন-উল্লুক, চশমা পড়া হনুমান,  স্লো লরিস,  এইপও  কার্যকর “আমব্রেলা প্রজাতি” হয়ে উঠতে পারে। টিকে থাকার তাগিদে তাদের জন্যও অখণ্ড ও বিস্তৃত আবাসস্থলের দরকার পড়ে। গবেষকরা জানান, এসব প্রাণীর প্রয়োজনীয় সুবিশাল অঞ্চল সুরক্ষিত করা গেলে,  একই প্রতিবেশ ভাগ করে নেওয়া অগণিত বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বও টিকিয়ে রাখা যাবে।

গবেষণার অংশ হিসেবে চীনের জীববৈচিত্র্য-সমৃদ্ধ ইউনান প্রদেশের ১৬টি প্রাইমেট প্রজাতির আবাসস্থল বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে বসবাসরত বিপন্ন ও স্থানীয় ৬০১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, উভচর, পাখি ও সরীসৃপ এবং ৪,০১০ প্রজাতির বীজযুক্ত উদ্ভিদের উপস্থিতিও খতিয়ে দেখেন তারা। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইউনানের মাত্র ৩০ শতাংশ এলাকাকে প্রাইমেট সংরক্ষণে অগ্রাধিকার অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হলে সেখানকার ৮৬ শতাংশ প্রাণী এবং ৭২ শতাংশ বীজযুক্ত উদ্ভিদের প্রতিটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আবাস সুরক্ষিত থাকবে।

তা ছাড়া নির্দিষ্ট ওই এলাকাটুকু রক্ষা করা গেলে তা প্রদেশটির বার্ষিক কার্বন মজুতের অর্ধেকেরও বেশি ধরে রাখতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করা হয় গবেষণাটিতে।

বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও বহু বন্যপ্রাণীকে একসঙ্গে সুরক্ষার আওতায় আনতে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বানর জাতীয় প্রাণীর  আবাসস্থল সংরক্ষণের পক্ষে মত দিচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে মহাবিপন্ন গ্রয়ার্স গরিলার (Gorilla beringei graueri) আবাসস্থল সুরক্ষায় কাজ করছে অলাভজনক সংস্থা রেইনফরেস্ট ট্রাস্ট। সংস্থাটির অভিমত, এই পদক্ষেপ সেখানকার ১১,০০০-এরও বেশি প্রজাতির বসতি রক্ষা করতে সহায়তা করবে। একইভাবে বোর্নিয়ান ওরাংওটাং (Pongo pygmaeus)-এর আবাসস্থল সুরক্ষিত থাকলে বোর্নিও ও সুমাত্রার রেইনফরেস্টের আনুমানিক ২০,০০০ প্রজাতির টিকে থাকার পথ সুগম হতে পারে বলে জানিয়েছে বোর্নিও ওরাংওটাং সারভাইভাল ফাউন্ডেশন।

বানর জাতীয় প্রাণীরা “আকর্ষণীয়, যা তহবিল সংগ্রহ এবং প্রচারণার ক্ষেত্রে দারুণ সহায়ক এবং পরিবেশ রক্ষার প্রতীক হিসেবে ভূমিকা রাখবে,” মঙ্গাবে-কে ইমেইলে জানান টিম ডেভেনপোর্ট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা রি:ওয়াইল্ড-এর আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ডেভেনপোর্ট আরও বলেন, “সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় হলো, অবক্ষয়গ্রস্ত একটি বনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সেখানে সবার আগে প্রাইমেটরা হারিয়ে যায়।”

হাউ টু থিংক লাইক অ্যান ইকোলজিস্ট বইয়ের লেখক অ্যামি বি. ম্যাকইউয়েন মঙ্গাবে-কে ইমেইলে বলেন, “বড় আকারের মেরুদণ্ডী প্রাণীদের বন্য প্রজাতিকে রক্ষা করা, আরও অনেক কিছুকে রক্ষা করার এক দারুণ উপায়।”

“সংরক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে আমব্রেলা পদ্ধতি খুবই বাস্তবসম্মত,” উল্লেখ করেন ডেভেনপোর্ট। “এর সীমাবদ্ধতাগুলো ধারণাগত দিকের চেয়ে বরং সুশাসন ও মানুষের আচরণের সঙ্গেই বেশি সম্পর্কিত।”

ব্যানার ছবি: চীনের ইউনানে একটি ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট স্নাব-নোজড মাঙ্কি (Rhinopithecus bieti)। ছবি: Rod Waddington via Flickr. (CC BY-SA 2.0).

ব্রাজিলে পুননির্বাচিত হয়েই পরিবেশ রক্ষায় লুলার প্রত্যয়

মঙ্গাবে 30 অক্টো. 2026

“আমরা এই দেশ থেকেই বিশ্বকে শিখিয়ে দেবো কীভাবে জলবায়ু নীতি বাস্তবায়ন করতে হয়।”

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে আবারও জয়ী হয়েছেন। জয়ের পরপরই প্রথম ভাষণে পরিবেশ রক্ষায় তার প্রত্যয়ের কথা জানান তিনি।

পরিবেশ নিয়ে তার সচেতনতা ও বাস্তবসম্মত কর্মসূচী,  নির্বাচনে জয়ের অন্যতম একটি কারণ। অন্যদিকে এ  নিয়ে প্রতিপক্ষের অবস্থান ছিলো লুলার বক্তব্যের একদম উল্টো।

প্রেসিডেন্ট  নির্বাচনী প্রচারে প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো, আমাজন অঞ্চলে পরিবেশ বিষয়ক বিধিনিষেধ শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেন। ১৯ অক্টোবর পারা অঙ্গরাজ্যের মারাবা শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে জমির মালিকানা নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার নামে বিভিন্ন বাধা দূর করবেন তিনি। তবে কোন কোন বিধিনিষেধ পরিবর্তন করবেন, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

নির্বাচনে লুলা বৈধ ভোটের ৫১.৮ শতাংশ পেয়ে বিজয়ী হন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮.২ শতাংশ ভোট। লুলা বলেন নির্বাচনে তার জয় হলো “অস্বীকারবাদের পরাজয়, মিথ্যার পরাজয়।” তার সরকারের চার বছরের প্রতিটি বছরেই কমেছে বন উজাড়ের হার। পরিসংখ্যাণ বলছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আমাজনে বন  উজাড় আগের ১২ মাসের তুলনায় ৪১.৮ শতাংশ কমেছে।

ফ্লাভিওর বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সরকারের আমলে, বন উজাড়ের মাত্রা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিলো। পরবর্তীতে লুলা ২০২৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণের সময় ২০৩০ সালের মধ্যে বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের বন উজাড় সম্পূর্ণ বন্ধ করার অঙ্গীকার করেন। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে বন উজাড়ের হার।

এরপরও ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ৩,৩৩,৫০০ হেক্টর (৮,২৪,০০০ একর) বন কেটে ফেলা হয়েছে। দৈনিক হিসাবে উজাড় হওয়া এই বনের পরিমাণ প্রায় ৭,৩০০টি অলিম্পিক সুইমিং পুলের সমান।

“সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন উজাড় কমে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি ছিলো, তবে আমাদের এখনও আরও অনেক দূর যেতে হবে,” এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিজ্ঞানী কার্লোস নোব্রে।

আমাজন অঞ্চলের চারটি অঙ্গরাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন লুলা, আর অপর পাঁচটি রাজ্যে অর্ধেকের বেশি ভোট গেছে ফ্লাভিওর পক্ষে।

ব্রাজিলীয় আমাজনের বৃহত্তম শহর মানাউসের আকাশ অক্টোবর মাসের বেশিরভাগ সময় জুড়েই বনের দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ছিলো। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের মধ্যবর্তী সময়ে এই শহরে লুলার ভোট ৮০,০০০-এর বেশি বেড়ে যায়। শতকরা হিসেবে লুলার ভোট ১৮.৫ শতাংশ বাড়লেও ফ্লাভিও বলসোনারোর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ।

সিনেটর থাকাকালে ২০১৯ সালে ফ্লাভিও বলসোনারো যৌথভাবে এমন একটি বিল এনেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিলো জমির মালিকদের নিজস্ব স্বাভাবিক গাছপালা অক্ষুন্ন রাখার বাধ্যবাধকতা বাতিল করা। ওই বিলে লিগ্যাল আমাজনের বনাঞ্চলে নিজ সম্পত্তির ৮০ শতাংশ, সেরাডো সাভানায় ৩৫ শতাংশ এবং ব্রাজিলের বাকি অংশে ২০ শতাংশ জমিতে বন সংরক্ষণের শর্ত তুলে দেওয়ার প্রস্তাব ছিলো। বিলটি অবশ্য একই বছর স্থগিত করা হয়।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে লুলার চতুর্থ মেয়াদের কার্যভার গ্রহণের কথা রয়েছে ২০২৭ সালের ৫ জানুয়ারি। তবে দেশটির ভোটাররা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ফ্লাভিও বলসোনারোর কট্টর ডানপন্থি লিবারেল পার্টিকে সর্বাধিক আসনে জয়ী করেছেন।

ব্যানার ছবি: নির্বাচনে বিজয়ের পর ব্রাজিলের সাও পাওলোতে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। ছবি: Ricardo Stuckert।

জাপানের সামুদ্রিক কোরালে প্লাস্টিক বর্জ্যের উপস্থিতি

মঙ্গাবে 28 অক্টো. 2026

সমুদ্রতলদেশ থেকে সামুদ্রিক কচ্ছপের পেট– বিজ্ঞানীরা যেখানেই অনুসন্ধান চালাচ্ছেন, সেখানেই মিলছে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব। এক নতুন গবেষণায় জাপানের গবেষকরা বলছেন , সামুদ্রিক প্রবালের সঙ্গে তাপে গলে শক্তভাবে আটকে যাচ্ছে প্লাস্টিক বর্জ্য। অভিনব এই সংমিশ্রণটিকে তারা নাম দিয়েছেন ‘প্লাস্টিকোরাল’। সমুদ্রে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার নতুন ঝুঁকির আভাস দিচ্ছে তাদের এই খোঁজ। গবেষকদের মতে, এটি যেমন জলজ আবাসস্থল ধ্বংসের কারণ হতে পারে, তেমনি সামুদ্রিক প্রতিবেশে মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ার নতুন পথও তৈরি করছে।

জাপানের ইউনিভার্সিটি অব দ্য রিউকিউস-এর গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ইফেন্না ইলেচুকু। ২০২৪ সালের আগস্টে ওকিনাওয়া দ্বীপে নিয়মিত সামুদ্রিক বর্জ্য জরিপ চালাচ্ছিলেন ইলেচুকু ও তার সহকর্মীরা। ওই সময় সেখানকার তিনটি ভিন্ন সৈকতে “প্লাস্টিকোরাল”-এর ৫টি টুকরো খুঁজে পান তারা।

এক ই-মেইলে মঙ্গাবে-কে ইলেচুকু বলেন, “প্লাস্টিকোরাল নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট খোঁজ ছিলোনা।”

গবেষকরা এর আগেও ‘প্লাস্টিগ্লোমারেট’ নামের উপাদান শনাক্ত করেন। পাথর, কাঠ বা অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্য গলে জুড়ে গিয়ে মূলত তৈরি হয় এটি।

তবে ওকিনাওয়ায় যেসব প্রবালখণ্ডের ওপর প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে সেগুলোতে প্লাস্টিক আলগাভাবে লেগে ছিলো না। বরং তা স্থায়ীভাবে প্রবালের খাঁজে মিশে গিয়েছিলো। এটি দেখেই সচরাচর দেখা যায় না এমন এক উপাদানের সন্ধান পেয়েছেন বলে বুঝতে পারে গবেষক দলটি।

প্লাস্টিকোরাল মূলত প্লাস্টিগ্লোমারেটেরই একটি উপশ্রেণি। তবে ইলেচুকুর মতে, “প্লাস্টিকোরাল ভিন্ন কিছুকে তুলে ধরে।” তিনি আরও বলেন, “গলিত পলিমারগুলো আক্ষরিক অর্থেই তরলে পরিণত হয়ে প্রবাল খণ্ডের জটিল ও ছিদ্রযুক্ত কঙ্কালের কাঠামোর সঙ্গে মিশে গেছে।”

ইলেচুকু জানান, সৈকতে জ্বালানো কোনো আগুনের তাপে প্লাস্টিক গলে প্রবাল খণ্ডের সঙ্গে জুড়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও বিশদ অনুসন্ধানের প্রয়োজন।

গবেষণাগারের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সংগৃহীত নমুনাগুলোর মধ্যে ৪টি ছিল পলিইথিলিন। এই ধরনের উপাদান সাধারণত একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতলে থাকে। অন্য ১টি নমুনায় ছিলো পলিপ্রোপিলিন। এটি অপেক্ষাকৃত শক্ত ধরনের প্লাস্টিক, যা ব্যবহার হয় সাধারণত খাবারের পাত্র এবং বোতলের ছিপিতে। এই দুই ধরনের প্লাস্টিকই সমুদ্রে সবচেয়ে বেশি পাওয়া বর্জ্যের তালিকাভুক্ত। উত্তপ্ত হলে এগুলো নরম হয়ে সহজেই রূপ পরিবর্তন করতে পারে।

খোলা জায়গায় প্লাস্টিক পোড়ানোর ফলে ক্যানসার সৃষ্টিকারী ডাইঅক্সিন এবং সূক্ষ্ম কণিকাসহ নানা ক্ষতিকর রাসায়নিকের মিশ্রণ বাতাসে ছড়ায়। এটি মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়ের জন্যই ডেকে আনে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি । তাছাড়া আগুনের তাপে প্লাস্টিক দ্রুত ভেঙে অতিসূক্ষ্ম মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপ নেয়। ফলে তা পরিবেশ ও খাদ্যশৃঙ্খলে আরও সহজে ঢুকে পড়ে।

জীবন্ত প্রবালে প্লাস্টিকোরাল পায়নি এই গবেষক দলটি। মূলত সৈকতে পড়ে থাকা ভাঙা প্রবাল খণ্ডেই তারা এটি পান। তবে সৈকতে পড়ে থাকলেও প্রবালের এসব ভাঙা অংশের খাঁজে আবাসস্থল গড়ে তোলে ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী। আবার এদের উপরিভাগে শৈবাল ও স্পঞ্জ জমে ছোট ছোট আবাস তৈরি করে প্রাণীগুলো। পরবর্তীতে এগুলোকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে থাকে মাছ ও অন্যান্য অপেক্ষাকৃত বড় জলজ প্রাণী।

বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রে ১৯৯ মিলিয়ন টনেরও বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য জমে রয়েছে। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই এখন মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। সার্বিক এই পরিস্থিতি বলছে পৃথিবী হয়তো এখন প্রবেশ করেছে “প্লাস্টিসিন” নামের নতুন এক ভূতাত্ত্বিক যুগে।

অন্যান্য বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে প্লাস্টিকোরালসহ সব ধরনের সামুদ্রিক বর্জ্য নথিভুক্ত করতে একযোগে কাজ করার আশাবাদ জানিয়েছে গবেষক দলটি।

“আসুন আমরা পরিবেশ রক্ষা করি, এটিই আমাদের একমাত্র সম্বল,” বলেন ইলেচুকু।

ব্যানার ছবি: ওকিনাওয়ার সৈকত থেকে সংগৃহীত প্লাস্টিকোরাল। ছবি: ইলেচুকু ও তার দল।

পরিবেশকর্মীদের জন্য ১৩ বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তালিকায় ফিলিপাইন

ন্যায়না রাও 23 অক্টো. 2026

ভূমি ও পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত কর্মীদের জন্য এশিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবারও ফিলিপাইন।  অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল উইটনেস-এর নতুন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। ঝুঁকিপূর্ণের এই তালিকায় ১২ নম্বরে আছে দেশটি।

প্রতিবেদনে গ্লোবাল উইটনেস জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে ১২৪ জন ভূমি ও পরিবেশ রক্ষাকারীর হত্যাকাণ্ডের সত্যতা যাচাই করতে পেরেছে তারা। এসব ঘটনার ৮৫ শতাংশই ঘটেছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে। অন্যদিকে মোট মৃত্যুর ১২ শতাংশ এশিয়াতেই। এর মধ্যে কেবল ফিলিপাইনেই প্রাণ হারান ১২ পরিবেশকর্মী; আর ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও তুরস্কে নিহত হন ১ জন করে কর্মী।

টানা ১৩ বছর ধরে এ অঞ্চলের পরিবেশকর্মীদের জন্য সবচেয়ে ঝুুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় শীর্ষস্থানে  ফিলিপাইন। ২০২৫ সালে দেশটিতে  ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিবেদনটি।  লাতিন আমেরিকার বাইরে একক দেশ হিসেবে এটিই সর্বোচ্চ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে পরিবেশ ও ভূমি সুরক্ষাকর্মীদের ওপর এসব সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। গ্রামীণ এলাকায় একদিকে চলছে বিদ্রোহী দমন অভিযান, অন্যদিকে বিস্তার ঘটছে প্রাকৃতিক সম্পদ আহণের নানা প্রকল্প। এমন পরিস্থিতির মধ্যে সংঘটিত ১২টি হত্যাকাণ্ডের অন্তত ৫টিতে, ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী জড়িত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

“ফিলিপাইনে ভূমি ও পরিবেশ রক্ষাকারীদের পরিস্থিতি সম্পর্কে এই প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে,” ই-মেইলে পাঠানো এক বিবৃতিতে মঙ্গাবে-কে জানায় ম্যানিলাভিত্তিক পরিবেশবিষয়ক সংগঠন কালিকাসান পিপলস নেটওয়ার্ক ফর দ্য এনভায়রনমেন্ট (PNE)।

পরিবেশবিরোধী প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে গেলে শুধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেই নয়, এদরেকে সহায়তা ও সুরক্ষা দেওয়া সরকারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হয় কর্মীদের। যা অধিকার রক্ষাকারীদের ওপর হামলার অন্যতম কারণ, বলছে PNE।

গ্লোবাল উইটনেস-এর ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ” পরিবেশ রক্ষাকারীদের যেসব প্রতিশোধমূলক পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয় তার সবচেয়ে চরম রূপ এই হত্যাকাণ্ডগুলো।” এতে উল্লেখ করা হয়, শুধু প্রাণঘাতী সহিংসতাই নয়; পরিবেশ রক্ষাকারীরা প্রতিনিয়ত আইনি হয়রানি, অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত চেষ্টা এবং অপপ্রচারের মতো প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে।

ফিলিপাইনের মানবাধিকার সংস্থা কারাপাতান (KARAPATAN) অধিকারকর্মীদের ওপর ‘রেড ট্যাগিং’-এর ব্যাপক ব্যবহারের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। এই চর্চার মাধ্যমে কর্মীদের কমিউনিস্ট বিদ্রোহী কিংবা সন্ত্রাসী হিসেবে মিথ্যা তকমা দেওয়া হয়। দেশটিতে শুধু ২০২৫ সালেই সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয় ২২৭ কর্মীর বিরুদ্ধে।

PNE জানায়, দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদে বিদেশি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে নীতিগত কাঠামোর পরিধি বিস্তৃত করেছে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের প্রশাসন। মূলত বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ আহরণ দ্রুত করাই এই নীতিগুলোর মূল লক্ষ্য।

PNE বলছে,  “পরিবেশবাদীরা মনে করেন, নির্দিষ্ট অঞ্চল ও প্রাকৃতিক সম্পদে প্রবেশাধিকার সহজ করতে সম্পদ আহরণকারী শিল্পগুলোর বিস্তারকে ক্রমাগত মদদ দিচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত কাঠামো।”

“ফলে খনি, জ্বালানিসহ অন্যান্য ধ্বংসাত্মক প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা স্থানীয় জনগোষ্ঠীগুলোকে বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেরও মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

অধিকারকর্মীদের সুরক্ষায় ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে বিচারহীনতার অবসান দাবি করেছে কালিকাসান PNE। একই সঙ্গে বিতর্কিত অ্যান্টিটেররিজম অ্যাক্ট বাতিল এবং ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স টু এন্ড লোকাল কমিউনিস্ট আর্মড কনফ্লিক্ট (NTF-ELCAC)-এর মতো দমনমূলক ব্যবস্থাগুলো বিলুপ্তের জোর আহ্বান জানিয়েছে তারা। সংগঠনটি আরও জানায়, পরিবেশের ক্ষতি এবং আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ভিটে ছাড়া করে এমন প্রকল্প ও নীতিগুলো পর্যালোচনা ও স্থগিত করতে হবে সরকারকে।

ব্যানার ছবি: সুরিগাও দেল নর্টে প্রদেশে তাগানিতো মাইনিং করপোরেশনের উন্মুক্ত নিকেল খনি। ছবি: Ryan Dael/PH-EITI via ফ্লিকার (CC BY-SA 2.0)।

সরকারি সদিচ্ছার অভাবে অস্তিত্ব সংকটে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীরা

মঙ্গাবে 22 অক্টো. 2026

ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। জীববৈচিত্রে  সমৃদ্ধ এই  অঞ্চলে বাস করে বেশ কয়েকটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী। সংরক্ষিত উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপের সেন্টিনেলিজ কিংবা গ্রেট নিকোবর দ্বীপের সোম্পেনরা স্বেচ্ছায় বিচ্ছিন্ন থাকে মূল ভূখণ্ডের জনপদ থেকে।

অবৈধ মাছ শিকার, মেগা-উন্নয়ন প্রকল্প এবং আদিবাসীদের স্বাবলম্বিতা নষ্ট করে এমন বিভ্রান্তিকর সরকারি নীতির কারণে,  ধংস হতে বসেছে এই সবুজ বন ও  বৈচিত্রময় প্রাকৃতিক সৌন্দয্য। অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো।

দ্বীপপুঞ্জগুলোতে আদিবাসীদের নিয়ে কয়েক দশক ধরে কাজ করছেন গবেষক মণীশ চণ্ডী।

আন্দামান নিকোবর এনভায়রনমেন্ট টিম ও নেচার কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময়, চণ্ডী, স্থানীয় এসব জনগোষ্ঠীর খুব কাছে থেকে কাজ করেন। মঙ্গাবে-র একজন কর্মী লটোয়া আবুলুর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে চণ্ডী বলেন, দ্বীপপুঞ্জে আদিবাসীদের টিকে থাকা এবং সামগ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ- দুটি বিষয় নিশ্চিত করতেই তাদের স্বায়ত্তশাসন জরুরি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, “আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকাগুলো আয়তনে অনেক বড়। এগুলো কাঠ আহরণ ও বসতি স্থাপনের কাজে ব্যবহার হয়নি। সে কারণে বিভিন্ন প্রজাতির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য ধরে রাখতে পারছে এলাকাগুলো।”

তবে ক্রমাগত বাড়তে থাকা নানা ধরনের চাপ এই জনগোষ্ঠীগুলোর অস্তিত্বকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

চণ্ডী জানান, উপকূলের সংরক্ষিত অংশে নিয়মিত অনুপ্রবেশ করছে বাণিজ্যিক ট্রলার এবং চোরাশিকারীরা। নির্বিচারে হাঙর, লবস্টার ও কচ্ছপ ধরা পড়ছে তাদের হাতে। অথচ এগুলোর ওপরই নির্ভর করে আদিবাসীদের জীবন। অন্যদিকে গ্রেট নিকোবর দ্বীপে সরকারের প্রস্তাবিত একটি উন্নয়ন প্রকল্প  নেয়াই হয়েছে সোম্পেনদের আদি খাদ্য সংগ্রহের এলাকা ও বসতির অংশ জুড়ে। তাদের সম্মতি ছাড়াই  কাজটি করছে সরকার।

চণ্ডী উল্লেখ করেন, সার্বিকভাবে এসব আদিবাসী জনগোষ্ঠী সম্পর্কে বহিরাগতদের অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

শিকার প্রথার উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, কিছু সরকারি কর্মকর্তা আদিবাসীদের সনাতন শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের পদ্ধতিকে আদিম বা অচল বলে মনে করেন। তারা এসব জনগোষ্ঠীর কাছে বাইরের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করছেন। যার ফলে আদিবাসীরাও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এমন সব খাদ্যের ওপর। অথচ এসব খাবার না তারা ফলাতে পারেন, না পারেন বন থেকে সংগ্রহ করতে।

চণ্ডী আরও জানান, প্রাকৃতিক স্বনির্ভরতার বদলে বাজারভিত্তিক সরকারি সহায়তা, একসময়ের মুক্ত মানুষগুলোকে নির্দিষ্ট সীমানার ভেতর আবদ্ধ হতে বাধ্য করা হচ্ছে। এই সুযোগে বাণিজ্যিক পর্যটন চালুর পথ যেমন সুগম হয়, তেমনি তাদের বিশাল ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলের আইনি সুরক্ষা তুলে নেয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে  (যার মাধ্যমে রাষ্ট্র কোনো এলাকার সংরক্ষিত মর্যাদা তুলে নিতে পারে)।

“স্বায়ত্তশাসন এবং আত্মনির্ভরশীলতা মানুষের কল্যাণ ও মঙ্গলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক,” বলেন চণ্ডী।

“পরনির্ভরশীলতা তৈরি করা এবং তাদের সমষ্টিগত স্বার্থের ওপর আমাদের অজ্ঞতা চাপিয়ে দেয়ার বদলে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক পরিকল্পনা থাকা উচিত।”

চণ্ডী মনে করেন, “আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোকে বোঝা এবং সেই তথ্য দ্বীপের অন্যান্য বসতি স্থাপনকারীদের জানানোর ক্ষেত্রে, সরকারের অনীহা রয়েছে। অথচ নৈতিকভাবে ইতিবাচক ও বৈজ্ঞানিকভাবে যথার্থ উদ্যোগ না নেওয়ার প্রবণতা তৈরি করছে গভীর ক্ষত। যেখানে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন।”

মণীশ চণ্ডীর সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি পড়ুন এখানে।

ব্যানার ছবি: উত্তর সেন্টিনেল দ্বীপে মাছ ধরছেন দক্ষিণ আন্দামানের জেলেরা। ছবিটি ১৯৯৯ সালের। ছবি: মণীশ চণ্ডী।

সাবস্ক্রাইব

প্রকৃতি থেকে পাওয়া সংবাদ ও অনুপ্রেরণার সঙ্গে থাকুন।
নিউজলেটার

বালিতে পাচার থেকে বেঁচে নিজ প্রতিবেশে ফিরে গেলো এক ঝাঁক কচ্ছপ

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস 20 অক্টো. 2026

ইন্দোনেশিয়ার সেরাঙ্গান দ্বীপের জলসীমায় নৌকার ভেতর তখন পর্যন্ত জীবিত ছিলো কচ্ছপগুলো। দক্ষিণ বালির এই দ্বীপটিতে ২২টি কচ্ছপ পাচার হতে পারে, এমন খবর আগে থেকেই ছিলো পুলিশের কাছে। পরে সেখানে গিয়ে পাচারকারীদের না পেলেও কচ্ছপগুলো উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। খালি নৌকার ভেতর থেকে উদ্ধার এই ২২টি প্রাণী মূলত সংরক্ষিত গ্রিন সি টার্টল (Chelonia mydas)।

উদ্ধারের পর গত ১৩ অক্টোবর প্রাণীগুলোকে আবার সাগরে অবমুক্ত করে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালি কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ বালির সেরাঙ্গান দ্বীপ, যা টার্টল আইল্যান্ড বা কচ্ছপের দ্বীপ নামেও পরিচিত। এখানকার সংরক্ষণ কেন্দ্রে উদ্ধার করা কচ্ছপগুলোকে রাখা হয়। সাগরে ছাড়ার আগে তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন কর্মকর্তারা। এরপর নীল রঙের কাপড়ে সাবধানে মুড়িয়ে একটি ছোট ট্রাকে করে সেগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় সমুদ্রতীরে।

বালির নৌ পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ওই এলাকায় কচ্ছপ পাচারের তথ্য পেয়েছিলেন তারা। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর সেরাঙ্গান দ্বীপের জলসীমা থেকে ২২টি সামুদ্রিক কচ্ছপ পাচারের চেষ্টা নস্যাৎ করে দেয় পুলিশ।

বালি ওয়াটার অ্যান্ড এয়ার পুলিশের সদস্য গাস্তি আগুং পূর্ণমা বিরাহাদি জানান, উদ্ধার করা ২২টি কচ্ছপের মধ্যে ২টি এখনও অসুস্থ। তাই সাগরে ছাড়ার আগে সেগুলোর চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

“আমরা আশা করি, এই সংরক্ষিত প্রজাতিগুলোকে উদ্ধার করা, নিজের কাছে রাখা কিংবা বাণিজ্যের সাহস ভবিষ্যতে আর কেউ দেখাবে না,” বলেন বিরাহাদি।
ইন্দোনেশিয়া-র সংরক্ষণ ও মৎস্য আইনের অধীনে ১৯৯০ সাল থেকেই কচ্ছপের বিভিন্ন প্রজাতি আইনি সুরক্ষা পেয়ে আসছে।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে পরিবেশ মন্ত্রণালয় একটি বিধিমালা জারি করে দেশটির জলসীমার ৬টি সামুদ্রিক কচ্ছপ প্রজাতির সুরক্ষার বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট করে। এছাড়া সরকারের অতিরিক্ত কিছু বিধিনিষেধের আওতায় এসব প্রাণীর বাণিজ্যিক লেনদেনও পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের ২০২২ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরে যত সামুদ্রিক কচ্ছপ শিকার করা হয়েছে, তার ৫৬ শতাংশই গ্রিন সি টার্টল।

প্রায় ৪৫ লাখ মানুষের বাসস্থান বালি দ্বীপ। এখানে প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায় হলো বালিনিজ হিন্দুরা। ধর্মীয় আচারে অর্ঘ্য বা ভোগ হিসেবে কচ্ছপের মাংস ব্যবহারের ঐতিহাসিক রেওয়াজ ছিলো তাদের। আর এ কারণেই একসময় সামুদ্রিক কচ্ছপ চোরাচালানের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয় দ্বীপটি।

এর আগে গত জুন মাসে দ্বীপটির পেগামেতান উপকূলে অভিযান চালিয়ে ২১টি সামুদ্রিক কচ্ছপের পাচার নস্যাৎ করে প্রশাসন। এ ঘটনায় সে সময় ৬৭ বছর বয়সী একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

লিখেছেন ফিরদিয়া লিসনাওয়াতি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

ব্যানার ছবি: ইন্দোনেশিয়ার সেরাঙ্গান দ্বীপ থেকে উদ্ধার সামুদ্রিক কচ্ছপগুলোকে সাগরে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুলিশ ও অধিকারকর্মীরা। ছবি: ফিরদিয়া লিসনাওয়াতি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

শর্ট শেয়ার করুন পুরো নিবন্ধ পড়ুন

শেয়ার short

প্রতিবেদনটি পছন্দ হলে অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

Facebook Linkedin Threads Whatsapp Reddit Email
আরো দেখুন

প্রকৃতির উৎস হতে প্রাপ্ত সংবাদ ও অনুপ্রেরণা।

নিবন্ধসমূহ

নিউজ ফরম্যাট

  • ভিডিওসমূহ
  • নিবন্ধসমূহ
  • বিশেষ সংখ্যাসমূহ
  • শর্টস
  • ফিচারসমূহ
  • সাম্প্রতিক

মঙ্গাবে সম্পর্কে

  • মঙ্গাবে সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • প্রভাবসমূহ
  • নিউজলেটার
  • জমাকৃত লেখা
  • ব্যবহারের শর্তাবলি

এক্সটার্নাল লিংক

  • অরণ্যঘেরা মাদাগাস্কার
  • Lives in Nature
  • শিশুদের জন্য
  • Mongabay.org
  • বনায়ন অ্যাপ
  • পৃথিবীর স্বাস্থ্য পর্যালোচনা
  • সংরক্ষণের কার্যকারিতা
  • মঙ্গাবে ডেটা স্টুডিও

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম

  • লিংকডইন
  • ইনস্টাগ্রাম
  • ইউটিউব
  • এক্স
  • ফেসবুক
  • মাস্টোডন
  • Android App
  • অ্যাপল নিউজ
  • আরএসএস / এক্সএমএল

© 2026 Copyright Conservation news. Mongabay is a U.S.-based non-profit conservation and environmental science news platform. Our EIN or tax ID is 45-3714703.